রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ক্যাসিনো কোডে ওয়েল গ্রুপের পণ্যআমদানি!

| প্রকাশিতঃ ২৬ জানুয়ারী ২০২০ | ৭:০৪ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : সংবিধানে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও আমদানি নীতি অনুযায়ী শুল্ক পরিশোধ করে দেশের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে অনায়াসেই ঢুকছে ক্যাসিনো সামগ্রী। নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানিরকারকের পাশে এবার যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ওয়েলগ্রুপের নাম। যার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গেলো দুই বছরের এক আমদানি নথিতে দেখা যায়, এইচএস কোড ‘৯৫০৪৩০০০’ ব্যবহার করে ওয়েল গ্রুপের মালিকানাধীন ওয়েল ফুডস লিমিটেড ১ কোটি ১১ লাখ ৭ হাজার ৪৫৪ টাকা মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। মূলত, ৯৫০৪৩০০০ এইচএস কোডটি হলো ক্যাসিনো কয়েন, ব্যাংকিং কার্ড বা টোকেন ও নানাবিধ বিনোদন সামগ্রীর কোড, যেসব সামগ্রীর বেশিরভাগই ব্যবহার করা হয় ক্যাসিনোতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম একুশে পত্রিকাকে জানান, এটা একটি স্যাটেলড ইস্যু। বিষয়টি ইতোমধ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের স্যাটেলড হয়ে গেছে। ভুলে ক্যাসিনো আইটেম আমদানিকারকদের এইচএস কোডের সাথে আমাদের এইচএস কোড মিলে যায়। পরবর্তীতে সে ভুল সংশোধন করা হয়। এখন আর কোনো ঝামেলা নেই।

এদিকে, শুধু ওয়েল গ্রুপই নয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকায় দেখা যায় একই এইচএস কোড ব্যবহার করে গেল দুই বছরে আরও ১৫ টি প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি করেছে। শুল্ক পরিশোধ করেই এসব সামগ্রী এনেছে তারা। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এএস কর্পোরেশন, এএস ইন্টারন্যাশনাল, এবিসি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আমেরিকান এম্বেসি, কম্পিউটার সিটি টেকনোলজি লিমিটেড, ফোর স্টার শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিস, গ্লোবাল কমিউনিকেশন, গ্রিন প্ল্যানেট রিসোর্ট লিমিটেড, হাই কমিশন অফ কানাডিয়ান, হেরিটেজ রিসোর্ট লিমিটেড, জান্নাত ট্রেডিং, মাহের এন্টারপ্রাইজ, মিনিসো বাংলাদেশ লিমিটেড, সানজাইব ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড ও ইউনাইটেড এবিসি ইন্টারন্যাশনাল(বিডি)।

কাস্টমস ট্যারিফ বুকে দেখা যায়, ৯৫০৪৩০০০ এইচএস কোড অনুসারে প্রায় ৫৮ শতাংশ শুল্কে দেশে ক্যাসিনো টেবিলসহ অন্যান্য সামগ্রী বৈধভাবে আমদানি করা যাবে। ফলে এসব সামগ্রী আমদানিতে কোনো বাধা নেই। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮-২ ধারা অনুসারে যে কোনো ধরনের জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

১৮৬৭ সালের জুয়া আইনেও সব ধরনের জুয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনে ক্যাসিনো নিষিদ্ধ হলেও ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানিতে কেন বাধা নেই বিষয়টি জানতে কথা হয় চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলমের সাথে।

তিনি একুশে পত্রিকাকে জানান, কোন কোডে কোন পণ্য আমদানি হবে তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আমদানি নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ীই পণ্য আমদানি করা হয়, যার তদারকি করি আমরা। কিন্তু কোনো পণ্য যদি দেশের প্রেক্ষাপটে সাংঘর্ষিক হয় তবে সেক্ষেত্রে আমদানী নীতিমালায় পরিবর্তন আনা জরুরি। কারণ দেশের প্রচলিত আইনের নীতিমালার সাথে মিল রেখে যদি আমদানি আইনের নীতিমালা সংশোধন করা না হয় সেক্ষেত্রে এই ধরনের পণ্য আমদানি বন্ধ করা খুব একটা কাজে আসবে না।

একুশে/এইচআর/এটি