
মাসতুরা মীম : আচরণবিধির ছিটেফোঁটাও মানছেন না চট্টগ্রাম সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জেসমীন পারভীন জেসি। কাউন্সিলর নির্বাচন নির্দলীয় হলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছবি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
৭ ও ৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রার্থী জেসমীন পারভীন জেসি চশমা প্রতীকে ভোট চেয়ে যে পোস্টারটি তৈরি করেছেন, সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি যুক্ত করে পাশে লেখা হয়েছে, জাতির পিতার চোখে কী? চশমা ছাড়া আবার কী? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি যুক্ত করে পাশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাণপ্রিয় নেত্রীর চোখে কী? চশমা ছাড়া আবার কী?
একই পোস্টারে ওবায়দুল কাদেরের ছবি যুক্ত করে পাশে লেখা হয়, প্রিয় সাধারণ সম্পাদকের চোখে কী? চশমা ছাড়া আবার কী? এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছবির পাশে লেখা হয়, চট্টলবীরের চোখে কী? চশমা ছাড়া আবার কি?
আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ‘চট্টলবন্ধু’ উল্লেখ করে তার ছবি দেয়ার পাশাপাশি পোস্টারে লেখা হয়েছে, চট্টলবন্ধুর চোখে কী? চশমা ছাড়া আবার কী?
পোস্টারের শেষের দিকে, উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে চশমা মার্কায় ভোট চান জেসি।
পোস্টারটি ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন জেসমীন পারভীন জেসির ভাই ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিমসহ আরো অনেকে।
এর আগে গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের তিনটি পদে পরিবর্তন আসে। এই তিনটি পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পান বিদ্রোহী তিন প্রার্থী। ৭ ও ৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জোহরা বেগমকে বাদ দিয়ে বর্তমান কাউন্সিলর জেসমীন পারভীন জেসীকে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ।
পোস্টারের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী জেসমীন পারভীন জেসি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতি আবেগ থেকে পোস্টারটি করেছি। আমাদের দলীয় নেতা সবার চোখে চশমা। আমার প্রতীকও চশমা। তাই পোস্টারটি করেছি।’
এই ধরনের প্রচারণা নির্বাচনী বিধির পুরোপুরি পরিপন্থী- উল্লেখ করার পর জেসি বলেন, ‘আমার কোনো পোস্টারে তো দলীয় প্রধানের ছবি দিইনি।’ আবার পরক্ষণে বলেন, ‘সেটা কী সমস্যা হবে? আমি একটু আলাপ করে দেখি। যদি ভুল হয় আমি সরিয়ে ফেলবো।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আ জ ম নাছির উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, দলের প্রতি অতি আবেগ দেখাতে গিয়ে হয়তো তিনি (জেসি) এই কাজটি করেছেন। দলীয় প্রধান বা দলের নেতাদের ছবি দিয়ে প্রচারণা চালানো যাবে না। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন। একজন প্রার্থীর কাছ থেকে কখনও এমনটা কাম্য নয়।
এদিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন নির্দলীয় হলেও অনেক প্রার্থী পোস্টার–ব্যানারে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন। এই তালিকায় বেশির ভাগই সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
শুধু জেসি নয়, আরো অনেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীও নিজেদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বলে পোস্টার ও ব্যানার টানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুনির হোসাইন খান বলেন, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয়। দলীয় সমর্থন পেলেও প্রচারণায় কাগজে-কলমে তার কিছু থাকতে পারবে না। কিছু কিছু কাউন্সিলর দলীয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে নজরে এসেছে। তারা পোস্টার না নামালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।