চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া বাজারে এক চা দোকানির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ এ লাশ উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম (৬৫)। রাতেই ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সাগর নামের এক দোকান কর্মচারি পলাতক রয়েছে। পুলিশ দোকানের কারিগর বাবুল দে-কে আটক করেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত এক মাস আগে উপজেলার শিলক মিনাগাজি টিলার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম পদুয়া বাজারে একটি চায়ের দোকান খুলেন। ছেলে রাসেলকে নিয়েই এই দোকান চালাতেন তিনি। শুরু থেকে বেচাবিক্রিও ভালো হচ্ছিল।
দুদিন আগে হাটহাজারী থেকে বাবুল দে নামের পরিচিতি এক কারিগরকে নিয়োগ দেন। একইদিন চা বানানোর জন্য নিয়োগ দেন চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া সাগর নামে এক যুবককে। এরা এবং পিতা-পুত্র চারজনই রাতে দোকানে ঘুমাতেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজী আরকান উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় দোকান মালিলের ছেলে রাসেল শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। যথারীতি বাকি তিনজন দোকানে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালের নামাজ পড়ে কয়েকজন মুসল্লি নাশতা করতে দোকানটিতে গিয়ে দেখতে পান দরজার শার্টারের নিচের অংশ খোলা। সাগর পলাতক। কারিগর বাবুল টয়লেটে গেছেন। কাথামোড়ানো গলাকাটা নিথর দেহ পড়ে আছে নুরুল ইসলামের। পাশেই দোকানের কাজে ব্যবহৃত রক্তভেজা চাইনিজ চুরি পড়ে আছে। ইলেকট্রিক সুইচে রক্তের ছাপ রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, দোকান কর্মচারী সাগরই তাকে জবাই করে হত্যা করার পর রক্তভেজা হাতে ইলেকট্রিক সুইচ বন্ধ করে চলে গেছে। তবে মাত্র দুদিনের মাথায় কেন, কী কারণে সে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটালো তা কেউ বুঝে উঠতে পারছে না। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুল দে কে আটক করেছে।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির একুশে পত্রিকাকে বলেন, দুইদিনের বেচাবিক্রির কিছু টাকা ছিল দোকানে। সেই টাকার লোভে দোকান কর্মচারী এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আরেক কর্মচারী বাবুল দে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জড়িত থাকলে সাগরের মতো সেও পালাতো।