ঘরের মাঠে রীতিমতো পরাশক্তি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। টাইগারদের চ্যালেঞ্জ এখন বিদেশের মাটিতে নিজেদের প্রমাণ করার। মাশরাফি-মুশফিকদের এ অগ্নিপরীক্ষার শুরুটা হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এক মাসের সফরে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সিরিজ খেলবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। সফরে সম্ভাব্য সেরা সাফল্যই প্রত্যাশা টাইগারদের। এ প্রত্যাশার প্রতিফলনে বড় একটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন। যেটার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দশ দিনের ক্যাম্প শেষ করেছে বাংলাদেশ। কাল বৃষ্টিভেজা অনুশীলন দিয়েই শেষ হয়েছে টাইগারদের গা-গরমের অভিযান।
তবে মাশরাফিদের আসল অভিযান শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে। সে লক্ষ্যে আজ নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে সিডনি ছাড়বে বাংলাদেশ। রাগবির দেশে পাড়ি জমানোর আগে অতিথিদের সঙ্গী হয়েছে খানকিটা খচখচানি। আগের দিন হারতে হয়েছে প্রস্তুতি ম্যাচে। প্রকৃতির বেরসিক আচরণের কারণে কাল শেষ দিনের অনুশীলনটা ঠিকঠাক করতে পারেনি টাইগাররা। তবে এ দশ দিনে যতটুকু হয়েছে বাংলাদেশের ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তাতেই তৃপ্ত। ‘নড়াইল এক্সপ্রেসে’র বিশ্বাস, সিডনির ক্যাম্প দিয়েই কন্ডিশনের সঙ্গে দল খাপ খাওয়াতে পেরেছে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মূল ফারাক তাসমান সাগর। এ যাত্রায় সিডনি থেকে বাংলাদেশের গন্তব্য অকল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের এ শহরেই বাংলাদেশ খেলবে সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ। বৃহস্পতিবার কবহ্যাম ওভালে একদিনের গা-গরমের ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড একদশ।
বিপিএল ফাইনালের আগের দিন ও পরের দিন দুই দফায় অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরু সিংহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাম্প করেছেন ছাত্ররা। যে ক্যাম্পে নিবিড় অনুশীলন ও সেখানকার কন্ডিশন নিউজিল্যান্ড সফরে অনেকটা কাজে দেবে। লঙ্কান কোচের বিশ্বাস অন্তত তাই ছিল। ক্যাম্প শেষে এর ইতিবাচক দিকটা তুলে ধরলেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজাও। তার বিশ্বাস, এই ক্যাম্প নিউজিল্যান্ড সফরে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সিডনি ছাড়ার আগে কাল একটি অনলাইন প্রচারমাধ্যমকে মুঠোফোনে মাশরাফি বলেছেন, ‘কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটিই ছিল আসল। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন যদিও খানিকটা আলাদা, তারপরও যতটা সম্ভব কাছাকাছি একটা আবহ আমরা পেয়েছি। স্কিল অনুশীলনের চেয়ে আবহাওয়া, আবহ, সংস্কৃতি, এসবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই শুরুতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে ক্যাম্প কাজে লেগেছে বলেই আমার বিশ্বাস। অনেকটাই অভ্যস্ত হতে পেরেছে ছেলেরা।’
সিডনিতে দুই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটি জিতলেও পরের ম্যাচটায় হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে ওই হার নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন মাশরাফি। বলেছেন, ‘২০১৫ বিশ্বকাপের আগেও আমরা সিডনিতে ক্যাম্পের সময় প্রস্তুতি ম্যাচে ক্লাব দলগুলোর কাছে হেরেছি। এসব ম্যাচে জয়-হার খুব বড় কিছু নয়। কতটা শিখতে পারছি, সামনে বয়ে নিতে পারছি, সে সবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ অনুশীলন আশা করি কাজে দেবে।’
২৬ ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। মূল সিরিজের আগে রাগবির দেশেও কিছুদিন সময় পাচ্ছে টাইগাররা। ওই সময়টার মধ্যেই ওখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে পুরোপরি খাপ খাওয়াতে চান মাশরাফি, ‘নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে আরো এক সপ্তাহ সময় আমরা পাচ্ছি। একটি প্রস্তুতি ম্যাচও হবে। আশা করি, এ সময়ে ওখানকার কন্ডিশনের সঙ্গেও আমরা যতটা পারা যায় মানিয়ে নেব।’
প্রসঙ্গত, ২১ ডিসেম্বর টাইগারদের ওডিআই দল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ।