শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

নিজে জিতলেই জিতে যাবে সমাজ, জিতে যাবে দেশ

| প্রকাশিতঃ ৬ এপ্রিল ২০২০ | ৪:৫৬ অপরাহ্ন

ফয়সাল করিম : গণ্ডমূর্খের দলের মস্তিকে টমাহক ক্ষেপনাস্ত্র মেরে দেখুন, তাতেও গোঁড়ামি আর অসচেতনতার ঘুম থেকে তাদের জাগাইতে পারবেন না।

শত হাজার ফেসবুক পোস্টে গার্মেন্টস মালিকদের চৌদ্দগৌষ্ঠী উদ্ধার করুন, দেখবেন মুনাফার নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন এসব রক্তচোষা অমানুষদের মধ্যে আসবে না অনুশোচনার ছিটেফোঁটাও।

বিক্ষুব্ধ সিভিক মনে আপনার হতাশার পারদ যতই উর্দ্ধে উঠুক, দিনশেষে দেখবেন সেই “হাই তোলা” মুডেই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বৃথা চেষ্টার পর যখন চোখের সামনে প্রিয় মানুষকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে দেখবেন, তখন আপনার মত আরো শত মানুষের গগনবিদারী কান্নায় এক চুলও বদলাবে না এদেশের সো-কল্ড চিকিৎসা ব্যবস্থা।

এতকিছুর পরও ভেঙ্গে পড়বেন না। আশার কথা হল পৃথিবীতে এখন এমন এক সময় এসেছে যখন সমাজ কিংবা বাইরের দুনিয়া নয় বরং আপনি নিজেই হতে পারেন আপনার ত্রাতা, রক্ষাকর্তা। তাই ঝেড়ে ফেলে দিন, অন্যের উপর যত আশা, ভরসা, প্রত্যাশা। নির্ভরতা কমান বাইরের প্রস্তুতির উপর।

নিজের মধ্যেই খুঁজে নিন বেঁচে থাকার মন্ত্র। যতটা সম্ভব বাইরে থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন নিজেকে। শরীরের ভেতর গড়ে তুলুন প্রতিরোধের দুর্গ। বাড়ান ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা। রোগ প্রতিরোধী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। হাত ধোয়া থেকে শুরু করে ঘরের দরজার খিল জীবাণুমুক্ত করার মত নির্দেশনা মেনে চলুন নিয়মিত। বাইরে যেতেই হলে সতর্ক হোন প্রতিটি স্পর্শ নিয়ে। মাস্ক পড়ুন, বিরত থাকুন অযথা নাক-মুখ স্পর্শ করা থেকে। সম্ভব হলে পকেটে রাখুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। পরিবারকেও আনুন এসব নিয়মের আওতায়।

মনে রাখবেন এবারের যুদ্ধটা বাইরের সাথে নয় বরং অনেক বেশি নিজের সাথেই। নিজে জিতলেই জিতে যাবে সমাজ, জিতে যাবে দেশ।

ফয়সাল করিম : চীনে পিএইচডি অধ্যয়নরত