শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

এক সপ্তাহ পর দুই সরকারি চিকিৎসক জানলেন তারা করোনা রোগী

| প্রকাশিতঃ ২৮ এপ্রিল ২০২০ | ৯:০৭ অপরাহ্ন


শরীফুল রুকন : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না সেটা জানার জন্য গত ২০ এপ্রিল নমুনা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুরের দুই সরকারি চিকিৎসক। এরপর গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বিআইটিআইডি থেকে তারা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার দুঃসংবাদটি পেয়েছেন।

সর্বশেষ সোমবার মধ্যরাতে বিআইটিআইডির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, দিনভর ১০০ নমুনা পরীক্ষা করে চট্টগ্রামের ১১ জন ও লক্ষীপুরের একজনের দেহে করোনা ধরা পড়ে। এই ১১ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুরের দুই চিকিৎসকের বাইরে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৭ এপ্রিল মধ্যরাতে করোনা পজেটিভ আসা ১১ জনের মধ্যে সাতজনই নমুনা দিয়েছিলেন ২০ এপ্রিল। তিনজন নমুনা দিয়েছিলেন ২১ এপ্রিল। একজন নমুনা দিয়েছেন ২৫ এপ্রিল।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪৪ বছর বয়সী সহকারী অধ্যাপক, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ৪৬ বছর বয়সী চিকিৎসক, নগরের দক্ষিণ হালিশহরে আক্রান্ত ৪৮ বছরের পুরুষ, পাহাড়তলীর বাসিন্দা ৭০ বছরের পুরুষ, জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতকানিয়ার ৫২ ও ১৯ বছরের দুই পুরুষ নমুনা দিয়েছিলেন ২০ এপ্রিল।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামে কর্মরত পুলিশের এসআই করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন গত ২১ এপ্রিল। ছয়দিন পর ২৭ এপ্রিল তিনি জানতে পারেন, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

২১ এপ্রিল নমুনা দিয়ে মিরসরাইয়ের বাসিন্দা ২৩ বছরের পুরুষ, মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা কর্ণফুলীর বাসিন্দা ৬৫ বছরের এক নারী ২৭ এপ্রিল মধ্যরাতে জানতে পেরেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে ২৭ এপ্রিল শনাক্ত দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের পুলিশ সদস্যের ‘ভাগ্য সুপ্রসন্ন’ বলা চলে, তিনি গত ২৫ এপ্রিল নমুনা দিয়ে তিনদিনের মাথায় জেনে গেছেন ফলাফল।

এভাবে দীর্ঘ সময় পর ফলাফল আসায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ কারো সংস্পর্শে গেলে তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়বেন।

গত ২১ এপ্রিল মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নমুনা দেয়া করোনা রোগী ‘সুস্থ’ হয়ে কর্ণফুলীর বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে তাকে বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সে এনে জেনারেল হাসপাতালের ভর্তি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বাড়িতে যাওয়ার পর তিনি আশপাশের মানুষের সংস্পর্শে যাওয়ায় ইতিমধ্যে সেখানকার ৬৫ পরিবার ও বাড়ির পাশের একটি ডকইয়ার্ড লকডাউন করেছে প্রশাসন।

এদিকে নমুনা জট নিরসনে গত ২৫ এপ্রিল থেকে বিআইটিআইডির পাশাপাশি চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে একটি পিসিআর মেশিন দিয়ে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডি থেকে ২০টি নমুনা দেয়া হয় সেখানে। পরের দিন ২৬ এপ্রিল দেয়া হয়েছে ৬৭টি। ২৭ এপ্রিল দেয়া হয়েছে ৮৭টি নমুনা। অন্যদিকে করোনার নমুনা পরীক্ষার উপযোগী চারটি পিসিআর মেশিন সিভাসুর রয়েছে। সেখান থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র একটি। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টের অভাবে সিভাসুতে বাকি পিসিআর মেশিনগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিআইটিআইডিতে দৈনিক গড়ে ৫০০ নমুনা জমা হলেও পরীক্ষা হচ্ছে সবমিলিয়ে ১৫০টির মতো। এভাবে নমুনা জট লেগেই আছে। আগামীতে করোনা সংক্রমণ বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

জানতে চাইলে বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলা ছাড়া বাকি ১০ জেলা থেকে নমুনা আসছে বিআইডিআইটিতে। যার কারণে জট লেগে গেছে। এক সপ্তাতের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু হতে পারে। তখন এই সংকট কেটে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিআইটিআইডিতে এখন পর্যন্ত ২৬৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৬২ জনে। এর বাইরে দুজন অন্য জেলায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।।

চট্টগ্রামে আক্রান্তের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ৩৯ জন, সাতকানিয়ার ১৫ জন, সীতাকুণ্ডের ২ জন, বোয়ালখালীর ২ জন, পটিয়ার ২ জন, আনোয়ারার ১ জন, চন্দনাইশের ১ জন, ফটিকছড়ির ১ জন ও মিরসরাইয়ের ২ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে শনাক্ত করোনা রোগীদের মধ্যে পাঁচজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১২ জন।