
জয়া : জ্বর নিয়ে দাঁড়াতে না পেরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নিচতলার মেঝেতে বসে পড়েছেন বৃদ্ধ আব্দুল করিম (ছদ্মনাম)। একটু পর পর হাঁচি-কাঁশি দিচ্ছেন। মুখের উপর মাস্কের মত করে বেঁধেছেন ফিনফিনে পাতলা নোংরা একটা কাপড়। অপেক্ষা করছেন করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে।
তাঁর মত আরও অনেকেই এখানে এসেছেন নমুনা দিতে। হাসপাতালের নিচতলায় যেখানে সংগ্রহ করা হচ্ছে এই নমুনা, সেখানে করিডোর জুড়ে মানুষের ভিড়। নমুনা দিতে আসা এসব মানুষের অনেকে মাস্ক পড়লেও একটু পর পর তা খুলে ফেলছিলেন। হাতে নেই কোনো গ্লাভস। কেউ মানছেন না শারীরিক দূরত্ব। ফলে সে করিডোরের ভিড় ঠেলে নমুনা দিতে যাওয়া আর করোনা ভাইরাসকে আলিঙ্গন করা যেন একই। এমন পরিবেশে নমুনা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন সুস্থ কেউ।
চট্টগ্রামে বিআইটিআইডি, সিভাসু এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা হচ্ছে নমুনা পরীক্ষা, প্রতিদিন যাদের সক্ষমতা প্রায় ৪৫০। করোনার জন্য নির্ধারিত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষা না হলেও চলে নমুনা সংগ্রহের কাজ। চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার বিশাল সংখ্যক মানুষ এই ৩টি মাত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় সবসময় লেগে থাকে ভিড়। নমুনা সংগ্রহের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকার সারা দেশে ৬০০ বুথ স্থাপনের কথা জানালেও চট্টগ্রামে এখনো পর্যন্ত এমন কোনো বুথ না হওয়ায় আপাতত এই দুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষণও নেই।
এদিকে, করোনার লক্ষণ নিয়ে পরীক্ষা করতে আসা রোগীদের বিপরীতে নমুনা সংগ্রহের জন্য নেই পর্যাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টও। রোগীর বাড়তি চাপে এখানকার নমুনা সংগ্রহকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা দিশেহারা। জানালেন, নিজেরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে।
নমুনা সংগ্রহের সময় সংক্রমণ এড়াতে সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদ দূরত্বে রোগীদের দাঁড় করিয়ে নমুনা নিতে বাড়তি লোকবলের প্রয়োজনের কথা স্বীকার করেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক অসীম কুমার নাথ। লাইনে দাঁড়ানোর সময় শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে মানুষকে সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
তিনি বলেন, যে পরিমাণ রোগী আছে সে পরিমাণ লোকবল নেই। তবে লোকবল যা আছে তারা ঠিকমতো কাজ করলে অনেক কাজ হবে। কিন্তু করোনার কারণে কাজ করতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় বেশি। যার কারণে কাজে ধীরগতি।
নমুনা সংগ্রহে ধীরগতির বিষয়ে ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, একজনের নমুনা সংগ্রহ করতে আড়াই ঘণ্টা-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এটা তো রক্ত পরীক্ষা নয়।
নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না, জানালে ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, জায়গা নেই তো। কী করবো বলুন। তাহলে তো হাসপাতালে ছেড়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হবে। উপায় তো নেই। হাসপাতালে জায়গা যতটুকু আছে ততটুকুতেই বসতে হবে।
নমুনা সংগ্রহের জন্য সারা দেশে ৬০০ বুথ স্থাপনে সরকারের ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এরকম বুথ হলে তো ভালো হতো। রোগীর জট কিছুটা কমে যেত। চট্টগ্রামে এভাবে বুথ কখন করবে আমার জানা নেই।
একদিকে সংক্রমণের ঝুঁকি, অন্যদিকে ভীড়ের কারণে দীর্ঘলাইনে অপেক্ষার দুর্ভোগ।দ্রুত বুথ স্থাপনের পাশাপাশি লোকবল বাড়িয়ে শৃঙ্খলা না আনলে চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষার হাসপাতালগুলোই হয়ে উঠতে পারে করোনা ভাইরাসের এক একটি হাব।
একুশে/জেএস/এসআর/এটি
ছবি : জয়া