মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

একটা ফোনকলের অপেক্ষায়…

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২০, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ


শারমিন সুলতানা রাশা : একটা ফোনকল এল। এপাশ থেকে লাখো ভক্তের মধ্যমণি তানহা রিসিভ করলো। বিজ্ঞাপন কাজের প্রস্তাবনা। এই কাজটির বিশেষত্ব হলো এই নির্মাতার হাত ধরেই পথে নামা। পথটা সহজ ছিল না একেবারেই। একের পর এক বাধা অতিক্রম করে তবেই এত এত ভক্তের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া। সেই স্থানটিকে ধরে রাখার সংগ্রাম আরও কঠিন। কেননা তানহা হয়ে অনেকেই নিজেকে প্রকাশ করে। দিনের পর দিন তানহা হয়ে থাকাটা একেবারেই জলের মত নয়।

এত এত ব্যস্ততার মধ্যেও এ বিজ্ঞাপনটি করার সময়টুকু নিংড়ে নেওয়ার একমাত্র কারণ কৃতজ্ঞতাবোধ।

সেটে তানহার রূপ ও গুণমুগ্ধ ডিরেক্টর ও টেকনিশিয়ানরা বাহবা দিতেই ব্যস্ত ছিলেন। ডিরেক্টর নির্মল তানহার এমন পরিবর্তনে বিস্মিত। ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম এসেছিল কেবল একটি স্বপ্ন নিয়ে। স্বপ্নকে পুঁজি করে এত অল্প সময়ে এতদূর চলে আসবে তা হয়তো কেউ ভাবেনি।

বিজ্ঞাপনের স্ক্রিপ্ট বুঝিয়ে দিল এসিসট্যান্ট ডিরেক্টর। স্ক্রিপ্টটা শুনেই নাক কুচকালো তানহা। বললো, ‘সত্যি? এ সৌন্দর্য সাবান ব্যবহার করলে সাধারণ মেয়েরা তানহা হয়ে উঠবে?’

নির্মল হেসে বললো, ‘তানহা তো একজনই! অতুলনীয়! কেউ তার মত হতে পারবে না।’

তানহাকে প্রসন্ন করার জন্য বললেও শব্দগুলো ভাগাড়ে ছোড়া নোংরার মত মনে হলো।

‘তাহলে তো মিথ্যে! এই সৌন্দর্য সাবান নিয়ে মিথ্যে বলতে হবে?’- তানহার ঘোর লাগা প্রশ্ন।

‘মিথ্যে কেন হবে? এটা একটা কৌশল। দেখ তোর একটা ভাল অঙ্কের ফ্যান-ফলোয়ার আছে। তুই এটা প্রমোট করলে অনেকেই প্রোডাক্টের ব্যাপারে আগ্রহী হবে। সিম্পল ক্যালকুলেশন।’

ক্যালকুলেশনে তানহা বরাবরই অদক্ষ। তাই স্ক্রিপ্ট পরিবর্তন করার অনুরোধ করলো। নির্মল বিষয়টাকে ভালভাবে নিল না। স্মরণ করিয়ে দিল তানহার অতীত। তানহাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল অতীতের তানহার সাথে এই মুহূর্তে সামনে দাঁড়ান তানহার বিস্তর তফাৎ। নির্মল সে কথাকে আমলে না নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ না পাওয়ার শঙ্কা জাগানোর চেষ্টা করলো। তানহা নিজের ভক্তদের না ঠকানোর প্রত্যয়ে অটল। তাই কথা কিংবা কাজ কোনওটাই এগোল না।

পর দিন সকালটা শুরু হলো সংবাদপত্রের বিনোদন পাতায় এক অপ্রিয় শিরোনামের মুখোমুখি হয়ে।

‘অতীতবিস্মৃত তানহা। যে নির্মাতা তাকে আলোয় এনেছেন তার কাজে না বললেন!’

শিরোনাম নিয়ে তানহার কোনওকালেই মাথাব্যথা ছিল না। কিছুটা বিস্মিত ভক্তদের মন্তব্য পড়ে। সবাই কেমন ভুল বুঝছে তাকে। অবশ্য এসব বিষয় আমলে নিলে কাজের ক্ষতি। সব বাদ দিয়ে কাজে ডুবে থাকতে পারলেই ভাল। পরের দিনের একটা বড় প্রজেক্টের শুটিং। সেটার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তানহা। এ কাজটা নিয়ে অনেক আশাবাদী। দারুণ কিছু হবে। ভক্তরা হয়তো এক নতুন তানহাকে আবিষ্কার করবে।

সন্ধ্যা। একটা ফোনকল এল। রিসিভ করলো। ওপার থেকে জানান হলো আগামীকাল শুটিং এ থাকতে হচ্ছে না। কখন আসতে হবে পরে জানান হবে। তানহা ফোন রাখলো।

দুপুর। বিকেল। সন্ধ্যা। রাত। কিন্তু সকাল হয় না। কেন?