বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

চট্টগ্রাম আদালতে বিচারাধীন দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ কক্সবাজারে!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২০, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ


সবুর শুভ : টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি বেশ আলোচিত-সমালোচিত। ইয়াবাকাণ্ড নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমালোচনাও আছে। ১২ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানায় বদির বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির একটি মামলা চট্টগ্রামের একটি আদালতে এখনো বিচারাধীন। মামলাটির বাদী ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন এ মামলায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকা ১১ পয়সার।

সেই মামলাসহ দুর্নীতির ১৭ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ করতে খোদ চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বসবেন কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে। তিনিসহ ৭ জনের একটি দল চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পৌঁছাবেন আগামীকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। ৬ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির ১৭ বিশেষ মামলায় সেখানে সাক্ষ্যগ্রহণ করতে স্থাপন করা হবে ‘সার্কিট বেঞ্চ’। সাক্ষ্যগ্রহণকালে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে থাকবে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে ইতোমধ্যে।

প্রসঙ্গত, জেলা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বেও রয়েছেন। এ আদালতের বিচারক বছরের বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম বিভাগের ৬টি জেলায় (ফেনী, লক্ষীপুর, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) পর্যায়ক্রমে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার দুর্নীতির বিশেষ মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের ‘সার্কিট টিম’ কক্সবাজার যাচ্ছেন। তাছাড়া বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে যাচ্ছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি এডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলুসহ দুদকের তিন সদস্যের একটি দলও।

সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন পারভেজ জানান, এতে সাক্ষীদেরকে কষ্ট করে চট্টগ্রামে আসতে হবে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সাক্ষীরা আসতে না পারার কারণে দুর্নীতি মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে লেগে যায় বছরের পর বছর। চট্টগ্রাম বিভাগের ৬ জেলায় সারা বছর পর্যায়ক্রমে ‘সার্কিট বেঞ্চ’ গঠনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিশেষ মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক।

বিশেষ জজ আদালত থেকে পাওয়া তথ্য মতে, জেলা ও দায়রা জজ এর নেতৃত্বে ‘সার্কিট টিমের’ অন্য সদস্যরা হলেন, বেঞ্চ সহকারি (পেশকার) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন পারভেজ, রেকর্ড সহকারি মোহাম্মদ মুছা, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ আলী আকবর, অফিস সহায়ক মোহাম্মদ আবুল কাশেম, গানম্যান মোহাম্মদ সোহাগ মিয়া ও গাড়ী চালক মোহাম্মদ ফারুখ হোসেন।

তথ্য মতে, ১৭ দুর্নীতি মামলার মধ্যে তিনটি মামলা রয়েছে দুই যুগ আগের। ৬ সেপ্টেম্বর সারাদিন কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। সার্কিট বেঞ্চ পরিচালনার বিষয়টি অনুলিপি আকারে জানানো হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ সংশ্লিষ্টদেরকে। কক্সবাজারে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শেষে ৭ সেপ্টেম্বর ‘সার্কিট বেঞ্চ’ টিম নগরীতে ফিরবে।

এদিকে টেকনাফের আলোচিত সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির দুর্নীতি মামলাসহ ১৭ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে বেশ আলোচনা চলছে। দুর্নীতির আরেকটি মামলায় তিনি গত বছর বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য চট্টগ্রাম আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ মামলাটিও রয়েছে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে। ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন এবার ‘সার্কিট বেঞ্চ’ টিম নিয়ে বদির নিজ জেলা কক্সবাজারেই যাচ্ছেন। এ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে আদালত পাড়ায়।