বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

ফেলে আসা সময়ের কথন

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০, ৪:১৭ অপরাহ্ণ


বিপ্লব বড়ুয়া : বয়স বাড়ছে। সে অনুপাতে নিজের চিন্তা-চেতনা, জ্ঞান-গড়িমা, কষ্টসহিষ্ণুতা কিংবা সহনশীলতা কতটুকু উর্ধগতি হয়েছে সে কথা প্রশ্নাতীত!

বুদ্ধিদীপ্ত মন-মানসিকতা নিয়ে প্রত্যেকে চায় নিজের জীবনটাকে সর্বদা ফুরফুরে রেখে সকল প্রসন্নতার কলতানে আসন্ন আগামীকে রাঙিয়ে রাখতে। কিন্তু, নিয়তির সোপান কখনো সবে প্রস্ফুটিত গোলাপ ছড়ানো সৌরভে বেষ্টিত থাকে না। যেজন্যে চড়াই-উৎড়াইয়ের নানান ইন্দ্রজাল ছেঁদ করে আমাদের বেঁচে থাকতে হয় নির্দিষ্ট একটি সময়ের কাল্পনিক ফ্রেমে।

কালের এই যুগোপযোগী সময়ে স্বার্থপরতা কথাটি বড়ই বুখাট্টা (বেমানান/সুড়সুড়ি ধাঁচের) শোনায়। তবে, আমার একান্তই নিজস্ব অভিব্যক্তি- নিজের প্রয়োজনে স্বার্থপর না হতে পারলে জীবনের আরক্ত সময়গুলোতে নিজেকে একরকমের সম্মুখযুদ্ধের পিছুহটা সৈনিকই বলে মনে হয়।

কেননা না দেখে, না জেনে বীজ বপন করে যদি বলি- আমি আমই খাবো সেটা তো আর হয় না।

সময়টার লাগাম যখন আমারই হাতে ছিলো, তখন সরলতার অপরিপক্ব মানসে নিজের উর্বরতার সবকিছু ব্যয় করেছি নিজের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করা সদ্য পরিচিতজনদের কল্যাণে। ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবিনী নিজের ভাইদের কথা বা নিকটাত্মীয়দের কারো কথা। সেটা আমার জ্ঞানহীনতা, আমার নির্বুদ্ধিতা, আমার আত্মপোলব্ধির অগভীরতা। আমার উদাসীনতা, সর্বোপরি আমার ব্যর্থতা।

কিছুটা স্বার্থপরতার ছোঁয়া আমি পেতাম যদি সেসময়টাতে, তবে আজ হয়তো আমাকে এতো বেশি বিবেকের কাঠগড়ায় উপনীত হতে হতো না।

এতদূর এসে, ক্লান্তি অনুভব করছি শারীরিক, মানসিক উভয় সেগমেন্টে। ক্ষতটা আজ মহীরূহ আকার ধারণ করেছে! সবুজ বনানী শুঁকিয়ে যেন চৌচিড় হয়ে যাচ্ছে। তাইতো হিমেল হওয়ার তীব্রবেগ কিছুই আজ আর টের পাই না!

কাউকে না ঠকিয়ে স্বার্থপর হতে পারাটা নিজের জীবনের জন্যে আগামীর সুরক্ষিত বার্তাবরণ নয় কী!

লেখক : কানাডা প্রবাসী