
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সমালোচনা করে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। তবে কখন, কোথায় ও কার সাথে তার এই কথোপকথন হয় তা জানা যায় নি। তিনি যার সাথে কথা বলেছেন অডিওতে তার কণ্ঠও স্পষ্ট নয়। তিনি একপেশে কথা বলে গেছেন।
একুশে পত্রিকার হাতে আসা অডিও রেকর্ডটিতে সাংসদ নদভীকে বলতে শোনা যায়, সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী সংসদে আহমদ শফি ও দেওবন্দি আকীদার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর আমি দাঁড়িয়ে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে বাঁশ বানিয়ে ফেলেছি। বাঁশ বানিয়ে ফেলেছি পুরো।’ রেকর্ডে তার একথা শুনে অপর ব্যক্তির হাসির শব্দ শোনা যায়।
রেকর্ডটিতে সাংসদ নদভী বলেন, ‘সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী শেখ হাসিনার জোটে থাকলেও শেখ হাসিনা তাকে দুই পয়সার দাম দেয় না। কথা বুঝেছেন?’
ফাঁস হওয়া রেকর্ডটিতে নদভী আরও বলেন, মাওলানা জুনায়েদ (বাবুনগরী) সাহেবের দ্বারা মুসলিম উম্মাহর বা কওমি জগতের ভালো কোনো কিছু আশা করা যায় এটা আমি মনে করি না। তো আমি আপনাকে যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে বাবুনগরীকে পূজা করতে করতে আহমদ শফির উপরে নিয়ে গেছে একটা শ্রেণি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘নদভী সাহেব আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কথা বলেছেন। সরকার হেফাজতের ঐক্য চায়। কিন্তু তিনি হেফাজতের ঐক্য ভাঙার মিশনে নেমেছেন।’
এদিকে গত বৃহস্পতিবার হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। হেফাজতের কেউ কেউ এখন নদভীর বিরুদ্ধে হেফাজতকে ভাঙনের চেষ্টার অভিযোগ করছেন।

এম জিয়া উদ্দিন আহমেদ নামের এক হেফাজত কর্মী ফেসবুকে স্ট্যাটাসে নদভীর সাথে জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন-‘নিজে কওমির সন্তান পরিচয় দিয়ে কওমির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে সাবেক জামায়াত নেতা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার এমপি আবু রেজা নদভী। তার দ্বারা কওমিতে গ্রুপিং ও ভাঙন হয়েছে।’
নদভীর এই কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, নদভীর কথোপকথনের অডিও রেকর্ডটা আমি শুনেছি। তিনি হয়তো হেফাজতের কোনো নেতার সাথে এসব কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি হেফাজতের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে অনধিকার চর্চা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘হেফাজতের আমীর আহমদ শফি ও মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর মধ্যে বিরোধ মীমাংসা হয়ে গেছে। আমরা সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ। এ অবস্থায় নদভী সাহেব হেফাজতের আমীর ও মহাসচিবের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছেন। রেকর্ডটি শুনে মনে হচ্ছে তিনি হেফাজতকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছেন। একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এটা আশা করি না।’
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মঙ্গলবার দুপুর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও হেফাজত ইস্যুতে অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য জানার বিষয় উল্লেখ করে সাংসদ নদভীর মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
https://www.facebook.com/EkusheyPatrika/videos/363887558104049/?t=22