বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

বান্দরবানে সব মানুষের গন্তব্যের নাম ‘বীর বাহাদুর’!

প্রকাশিতঃ সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০, ৬:২৪ অপরাহ্ণ


বান্দরবান : বান্দরবানের বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মো. ইসলাম কোম্পানী একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করছেন। আর কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে নির্মাণকাজ। কদিন আগে বান্দরবানের এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের কাছে নির্মাণ কাজের অগ্রগতি জানাতে এসেছিলেন। এক পর্যায়ে গো ধরলেন। বললেন, আমার বাড়িটার নির্মাণ শেষ হলে আপনাকে আমার বাড়িতে যেতে হবে, খেতে হবে দুটো ডাল-ভাত।

মন্ত্রী বললেন, হ্যাঁ যাবো, কিন্তু একটা শর্ত আছে। সাচিং প্রু জেরী আর মা ম্যা চিংকেও একই সাথে নিয়ে যেতে হবে। সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলেন ইসলাম কোম্পানী। বললেন, শুধু তারা নন, আরো কাউকে যদি নিয়ে যেতে বলেন তাদেরও নিয়ে যাবো।

প্রিয় পাঠক, সারাদেশে যখন দমনপীড়নের রাজনীতি, মতপ্রকাশ বাধাগ্রস্ত, ঠিক তখন বান্দরবানের রাজনীতিতে উল্টোচিত্র। এখানে তেমন কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা নেই। নেই হানাহানি কিংবা দমন-পীড়নের খড়্গ।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এর মূল কারণ হচ্ছে মন্ত্রী বীর বাহাদুরের রাজনৈতিক উদারতা, পরমত সহিষ্ণুতা। যে কারণে দলমত নির্বিশেষে সবারই একবাক্য- বান্দরবানের মানুষের আশা-ভরসার শেষ ঠিকানা বীর বাহাদুর। যে কোনো মানুষ যে কোনো প্রয়োজনে, বিপদে-আপদে ছোটেন একটা গন্তব্যে; যে গন্তব্যের নাম বীর বাহাদুর।

বান্দরবান জেলা বিএনপি নেতা ইসলাম কোম্পানী একুশে পত্রিকাকে বলেন, এমন উদারচিত্তের নেতা সমাজে খুব কমই আছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিরোধীদলের নেতারা যেখানে মামলা-হামলায় জর্জরিত, সেখানে ব্যতিক্রম শুধু বান্দরবান। সত্যিকার অর্থে তিনি বান্দরবানের সকল মানুষের অভিভাবক হয়ে উঠতে পেরেছেন। পেয়েছেন সর্বজনিনতা।

বছরের দুই ঈদেই তিনি দলমত নির্বিশেষে প্রায় সব মুসলিমের ঘরে দামি জায়নামাজ-টুপি, আতরসহ ইবাদতসামগ্রী পাঠাচ্ছেন প্রায় ২০ বছর ধরে। ঈদের আগের রাতে পাঠান ঘরে ঘরে কেক। একইভাবে অন্য ধর্মালম্বীদের নানা উৎসবেও নানান উপহারসামগ্রী পাঠাতে ভোলেন না। সবমিলিয়ে মন্ত্রী মহোদয় বান্দরবানকে গড়ে তুলেছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য এক দৃষ্টান্ত।-যোগ করেন ইসলাম কোম্পানী।

স্থানীয়রা জানান, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি ও বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি মা ম্যা চিং এবং সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাচিং প্রু জেরীর বাড়ি বীর বাহাদুরের বাড়ি লাগোয়া। রাজনৈতিক সৌহার্দের পাশাপাশি তাদের মাঝে প্রতিবেশিসুলভ চমৎকার সম্পর্ক। বিভিন্ন উৎসব-পার্বন ছাড়াও তারা একে অপরের খোঁজ নেন, উপহার সামগ্রী পাঠান পরস্পর।

তবে বান্দরবানে রাজনৈতিক সম্প্রীতির বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র জাবেদ রেজা; তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো না হলেও মামলা-হামলা যে এখানে একেবারে নেই, তা নয়। বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করায় মা ম্যা চিংয়ের মতো একজন বয়োবৃদ্ধ নেত্রীকে পর্যন্ত সাজানো নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় আমাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।’

বান্দরবানের রাজনীতিতে সম্প্রীতি বিরাজ করছে কি না- জানতে চাইলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাচিং প্রু জেরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘গণমাধ্যমে কোন বিষয়ে মতামত দেয়া থেকে আমি এখন দূরে থাকছি। জীবনের এই সময়ে এসে, আমি কোন কিছুতে যুক্ত হতে চাচ্ছি না। এই মুহূর্তে কোন জায়গায় এক্সপোজ হতে মানসিকভাবে আমি প্রস্তুত না। তবে আপনার প্রসেস সাকসেসফুল হোক, আমি চাই। কিছু মনে করবেন না বাবু, কেমন?’

এ বিষয়ে জানতে সাবেক সাংসদ মা ম্যা চিংয়ের মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া মিলেনি।