বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

‘পুলিশ’ পরিচয় ছাপিয়ে কথাসাহিত্যিক

প্রকাশিতঃ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ


নুরুল আবছার : “একদিকে যুদ্ধবিগ্রহ, মামলা-ফ্যাসাদ প্রভৃতি কদর্য দিক, অপরদিকে সাহিত্য, শিল্প, ধর্ম প্রভৃতি কল্যাণপ্রদ দিক। একদিকে শুধু কাজের জন্য কাজ। অপরদিকে আনন্দের জন্য কাজ। একদিকে সংগ্রহ, আরেক দিকে সৃষ্টি। যে জাতি দ্বিতীয় দিকটির প্রতি উদাসীন থেকে শুধু প্রথম দিকটির সাধনা করে, সে জাতি কখনও উঁচু জীবনের অধিকারী হতে পারে না।”- জাতিকে সাহিত্যে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বলা প্রমথ চৌধুরীর এই উক্তির মর্মকথাই যেন নিজের মধ্যে ধারণ করে নিয়েছেন একজন এসএম মোশতাক আহমেদ খান।

পেশায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসএম মোশতাক আহমেদ খান লেখালেখির জগতে মোশতাক আহমেদ নামে পরিচিত। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) পদে কর্মরত আছেন তিনি। পুলিশের কাজে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও লেখালেখিতে তাঁর আগ্রহ প্রচুর। তাই পুলিশি পদবির চেয়েও একজন উদীয়মান কথাসাহিত্যিক হিসেবে মোশতাক আহমেদের পরিচিতিই যেন ঢের বেশি।

আপাদমস্তক চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি তো আছেই অধিকন্তু মোশতাক আহমেদের মেধামননে জাগরুক থাকা ‘লেখক-সত্ত্বা’ পুলিশ বাহিনী ছাড়াও সবমহলে ব্যাপক সমাদৃত। ‘শান্তি শৃঙখলা নিরাপত্তা প্রগতি’ নীতিবাক্যে মোহাবিষ্ট হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করে চলছেন তিনি। এজন্য পেশাগত দক্ষতা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পরপর দুইবার ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)’ ও একবার ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদকে (বিপিএম)’ ভূষিত হয়েছেন।

এত এত দায়িত্বভারকে ছাপিয়েও যেই বিষয়টি মোশতাক আহমেদকে করেছে অনন্য, অসাধারণ; আজকে সেই গল্পটাই পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

এ কথা বললে নিশ্চয়ই অত্যুক্তি হবে না যে, মোশতাক আহমেদই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রথম কর্মকর্তা যিনি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৭’ ও প্যারাসাইকোলজিকাল সায়েন্স ফিকশন ‘রি‌বিট ও দুলাল’ উপন্যাসের জন্য ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার’ এর মতো গুরত্বপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

শুধু এ দুটোই নয়, তাঁর পুরস্কারের ঝুলিতে আরও রয়েছে ২০১৩ সালে ‘কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কার’, ২০১৪ সালে ‘ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার’ ও ‘কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার’, ২০১৫ সালে ‘সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার’সহ অন্তত ৭টি পুরস্কার।

ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লেখালেখি করে আসছেন তিনি। প্রথম লেখা ‘মাকৈই মাছ’ বইয়ের মধ্য দিয়েই সাহিত্যচর্চার হাতেখড়ি হয় এসএম মোশতাক আহমদের। লেখাটির পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ায় প্রকাশ করতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় বই ‘অপূর্ণতা’ যা পরবর্তীতে ‘মায়াবী জোছনার বসন্তে’ নামে প্রকাশ করেন। তৃতীয় বই ‘জকি’। মূলত জীবনধর্মী এ ‘জকি’ বইটির মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে বই প্রকাশ শুরু করেন তিনি। যেকোনো একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে ভিন্ন-ভিন্ন বিষয়ে লিখতে পছন্দ করেন মোশতাক আহমেদ।

‘জকি’ প্রকাশের পর তিনি মনোনিবেশ করেন সায়েন্স ফিকশনের দিকে। বলা হয়ে থাকে, ‘সায়েন্স ফিকশন মানুষের ভাবনার জগতকে সুপ্রসারিত করে অবধারিতভাবে যা অন্য সাহিত্যে সম্ভব নয়।’ একে একে লিখতে থাকেন দুর্দান্ত, অনবদ্য সব সায়েন্স ফিকশন। রোবটিজম, ক্লিটি ভাইরাস, নিহির ভালবাসা, লাল শৈবাল, ক্রিকি, পাইথিনের মত সায়েন্স ফিকশনগুলো তাঁকে সায়েন্স ফিকশন জগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে।

এরই মধ্যে ২০১৪ সালের নভেম্বরে ‘আজকের কল্পনা, আগামীর বিজ্ঞান’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে বিজ্ঞান সাহিত্যকে ধারণ ও লালন করতে কিছু উদ্যমী বিজ্ঞানপ্রেমীদের নিয়ে গড়ে তোলেন বিজ্ঞানকেন্দ্রিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি’। যে সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির বর্তমান সদস্য ১২ হাজারের অধিক।

বিজ্ঞান কঠিন নয়, আনন্দের-তা সহজভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে এসএম মোশতাক আহমেদ ‘বিজ্ঞান আনন্দ’ নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকাও নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন এই সোসাইিটির মাধ্যমে। তারপর উদ্যোগ নেন হিউম্যানোয়েড রোবট তৈরির। বাংলাদেশে প্রথম কথা বলা হিউম্যানোয়েড রোবট ‘রিবো’ তৈরি করে এই সোসাইটি; যা ওই বছরে অনুষ্ঠিত সায়েন্স ফিকশন ফ্যাস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়।

এরপর দ্বিতীয় হিউম্যানোয়েড রোবট ইবোও তৈরি হয় বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির তত্ত্বাবধানে।

বিজ্ঞানের প্রসার ও জনপ্রিয়করণে বিভিন্ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ বছরও বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি আয়োজন করছে ‘সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল’।

বর্তমানে সায়েন্স ফিকশন মুভি, সায়েন্স ফিকশন নাটক, বিজ্ঞানভিত্তিক চিত্রাঙ্কন (এলিয়েন, স্পেসশিপ, ডাইনোসর) তৈরির প্রতিযোগিতা, সায়েন্স সিটি নির্মাণসহ এ ঘরানার প্রভৃতি বিষয়ের উপর জোর দিচ্ছে এই ‘বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি’।

এসব ছাড়াও ক্রি, লাল মানব, রোবো, লিলিপুটের গ্রহে, পৃথিবীতে লিলিপুটেরা, লিলিপুটদের ফিরে যাওয়া, নিকি, গিগো, গিপিলিয়া, বায়োবোট নিওক্সি, রিরি, অণুমানব, দ্বিতীয় পৃথিবী, লাল গ্রহের লাল মানব, সবুজ মানব, প্রজেক্ট ইক্টোপাস, রোবটের পৃথিবীসহ উল্লেখযোগ্য বইসমূহ প্রকাশ করে এসএম মোশতাক আহমেদ অর্জন করেছেন ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা। তাঁর ক্লাসিক সায়েন্স ফিকশন ‘রিবিট’ কিশোর-কিশোরীদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রকাশ হতে থাকে একটির পর একটি সংখ্যা।

ভৌতিক বই রচনা করেও সাহিত্যকর্মে অসামান্য দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন হালের জনপ্রিয় এ লেখক। আত্মা, প্রেতাত্মা, অতৃপ্ত আত্মা, অশুভ আত্মা, রক্ত পিপাসা, রক্ত তৃষ্ণা, অভিশপ্ত আত্মা, রক্ত পিপাসা, উলু পিশাচের আত্মা, শয়তানের সাধক চিলিকের আত্মা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

সায়েন্স ফিকশন, ভৌতিক বই রচনা ছাড়াও গোয়েন্দা, অ্যাডভেঞ্চার, প্যারাসাইকোলজিকাল উপন্যাস, ভ্রমণ উপন্যাস, স্মৃতিকথা, মুক্তিযুদ্ধসহ সাহিত্যের বিস্তৃত শাখায় এসএম মোশতাক আহমেদ রেখেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর।

ভ্রমণ উপন্যাস ‘বসন্ত বর্ষার দিগন্ত’, গোয়েন্দা বিষয়ক কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ ‘শিশিলন’, প্যারাসাইকোলজিকাল বিষয়ক উপন্যাস মায়াবী জোছনার বসন্তে, জোছনা রাতের জোনাকি, বৃষ্টিভেজা জোছনা, মন ভাঙা পরি, নীল জোছনার জীবনসহ একাধিক অমর সৃষ্টি মোশতাক আহমেদের বাংলা সাহিত্যে দাপুটে বিচরণের সাক্ষ্য দেবে যুগে যুগে।

শুধুমাত্র লেখালেখিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এ সব্যসাচী লেখক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে বানিয়েছেন ডকুমেন্টারিও। সেই ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানী মিলিটারি ও ঢাকার রাজারবাগে পুলিশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধের উপরেই তৈরি করে ফেলেন ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ নামে ডকুমেন্টারি।

যে ডকুমেন্টারিটি মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের বীরোচিত ভূমিকার এক অনন্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত; যা প্রতিদিন পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়ে থাকে।

এছাড়া গবেষণাধর্মী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘নক্ষত্রের রাজারবাগ’ লিখেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন মোশতাক আহমেদ।

সবশেষ অনিন্দ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পেয়েছে মোশতাক আহমেদের বই ‘ছায়াস্বর্গ’। এই প্যারাসাইকোলজিকাল উপন্যাসে লেখক কল্পনায় প্রিয়জনকে খোঁজার বিষয়টি চিত্রায়িত করেছেন। ছায়াস্বর্গ বইটি এখন পাঠকমহলে সমাদৃত হচ্ছে।

“প্যারাসাইকোলজি মানে মোশতাক স্যার। ‘মন ভাঙা পরি’ দিয়েই শুরু আমার ‘ডা. তরফদার’কে। এই চরিত্রটি আমার এখন ফেভারিটের মধ্যে একজন। প্রতিটি বই আমার প্রিয়। তেমন এই বইটা পড়ে অসম্ভব ভালো লেগেছে আমার। রহস্যগুলো অসাধারণ ছিলো। আশা করি প্রতিটি বছর একটি করে ‘ডা. তরফদারের’ বই পাবো আমরা পাঠকরা। আমরা অপেক্ষাই থাকি কখন আসবে বই। সবাই এই বইটি কিনে পড়তে পারেন, ভালো লাগবে।” -অনলাইন বুকস্টোর রকমারির ওয়েবসাইটে এভাবেই ছায়াস্বর্গ বইটির রিভিউ দিয়েছেন সবুজ আহমেদ নামের এক পাঠক।

এদিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বরাবরই অনিন্দ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে মোশতাক আহমেদের ১০০তম বই ‘মায়াস্বর্গ’। বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশন জগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করা এ লেখকের বই পড়তে মুখিয়ে আছে লক্ষ লক্ষ পাঠক।

মায়াস্বর্গ উপন্যাস নিয়ে মোশতাক আহমেদ বলেছেন, উপন্যাস লেখার জন্য সাধারণত আমি খুব একটা পড়াশোনা করি না। তবে মায়াস্বর্গ লিখতে গিয়ে আমাকে পড়তে হয়েছে, প্রচুর পড়তে হয়েছে। কোনো উপন্যাস লেখার জন্য এতো পড়াশোনা আমি করিনি। উপন্যাসটিতে রহস্য উন্মোচনের স্বার্থে আমাকে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। ব্যাখ্যাগুলোকে আমি সহজভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। বিজ্ঞদের কাছে ব্যাখ্যা অতিসহজীকরণ বা সরলীকরণ মনে হতে পারে, আবার কোনো পাঠকের কাছে মনে হতে পারে কঠিন হয়েছে উপস্থাপনা। তবে যা কিছু করা হয়েছে উপন্যাসকে সুখপাঠ্য করার জন্য। আশা করছি আমার পূর্বের আটটি প্যারাসাইকোলজির উপন্যাসের মত পাঠক প্রিয় অর্জন করবে ‘মায়াস্বর্গ’।

অন্যদিকে মার্চ থেকে শুরু করোনাকাল, অগত্যা ঘরবন্দি মানুষ-পাঠক। অর্থ ও মানবিক সংকটে অনেকটা নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। বুভুক্ষু মানুষের জন্য খাদ্য সংকট আর পাঠকের জন্য পড়তে না-পারার সংকট, অনেকটা একই। তাই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে করোনাকালে বিনামূল্যে পাঁচটি বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন জনপ্রিয় এ কথা সাহিত্যিক।

মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার অন্তর্গত তুজারপুর ইউনিয়নের সড়ইবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ চুকিয়ে ১৯৯০ সালে খুলনা জিয়া স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৯২ সালে খুলনা বি এল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিসহ স্নাত্তক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে ৩২ ব্যাচে এমবিএ এবং ২০০৫-০৬ সালে ব্রিটিশ সিভনিং স্কলার হিসাবে তিনি ইংল্যান্ডের লেস্টার ইউনিভার্সিটি হতে কৃতিত্বের সাথে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।

মোশতাক আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ২০০১ সালে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ২০ তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ‘সহকারী পুলিশ সুপার পদে’ চাকরিতে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির স্টাফ অফিসার, শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অফিসার ইনচার্জ, গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ প্রধানের পার্সোনাল সেক্রেটারি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, ওয়ারি বিভাগে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ(সদর দপ্তর) ইন্টেলিজেন্স এন্ড এনালাইসিস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মোশতাক আহমেদ।

এছাড়া ২০০৮-০৯ সালে লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ, পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদায় সুদানের দার্ফুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের হেডকোয়ার্টারসে পর্যবেক্ষক পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) পদে দায়িত্বরত আছেন।

লেখালেখির বিষয়ে জানতে চাইলে মোশতাক আহমেদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত নিয়ম করে লিখি বলেই এত লিখতে পারছি। বছরে তিনশ পয়ষট্টি দিনই লিখি। এজন্য খুব সকালে ঘুম থেকে উঠি আমি। আমাকে কষ্ট দিতে হলে আমার লেখালেখি বন্ধ করে দিতে হবে। কাজেই এমন কষ্ট যেন পেতে না হয় সেজন্য জাগরুক আছি, আমৃত্যু থাকতে চাই।