সর্বোত্তম শিক্ষার সূর্য লোহাগড়া থেকেই উদিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, চাকরির কারণে আমি অসংখ্যবার জাপান গিয়েছি। জাপানিরা বলেন, আমরা সূর্যোদয়ের মানুষ, তোমরা লালসবুজের মানুষ। আমি বিশ্বাস করি লালসবুজের দেশ বাংলাদেশের নিভৃত এই অঞ্চল থেকেই আগামীতে উন্নত শিক্ষার সূর্যোদয় রচিত হবে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগড়ার চুনতিতে সবুজ আর পাহাড়ঘেরা বীর বিক্রম জয়নুল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ষপূর্তি ও পাঁচতলা বিশিষ্ট স্কুল ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বীর বিক্রম পিএসসি বলেন, বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ছোট্ট গ্রাম অক্সফোর্ডের নামে। সেই অক্সফোর্ড গ্রামটিই আজ শিক্ষার মশাল জ্বালিয়ে বিশ্বদরবারে অনন্য স্থান দখল করে আছে। আজকের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে তেমনই এক বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই লোহাগাড়া হবে সারা দেশের আইকন।
অ্যাপল কম্পিউটারের জনক স্টিভ জর্জ-এর জীবনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব বলেন, স্টিভ জর্জ ছিলেন বিশ্বসেরা ধনী মানুষ। মৃত্যুশয্যায় উপনীত হয়ে তিনি উপলব্ধি করলেন, তিনি অঢেল ধনসম্পদ, অর্থ উপার্জন করেছেন। কিন্তু মানসিক পরিতৃপ্তি লাভের মতো সেই তুলনায় তেমন কিছু অর্জন করেননি। এই অনুশোচনার মাঝেও মানবতার সেবায় অর্জিত যৎসামান্য তৃপ্তি নিয়েই তিনি এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। কাজেই বিত্ত-বৈভব নয়, জনহিতকর, মানবিক অর্জনগুলোই মানুষকে একটা সময়ে পরিতৃপ্ত করে, প্রশান্তি এনে দেয়। মানসিক পরিতৃপ্তির জন্য, মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার জন্য, সবাইকে জনকল্যাণে এগিয়ে আসার জন্য, তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি লোহাগাড়ায় ডলু খালের দুই প্রান্তে দুইটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন।
প্রফেসর আবদুল খালেকের সঞ্চালনা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী। বক্তব্য রাখেন নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য সাহেদা আখতার জাহান, ইউপি চেয়ারম্যান তসলিমা আকতার, চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আবু রেজা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী এমপি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ইসলামবান্ধব সরকার। ইসলামের প্রসার ও সুরক্ষার জন্য গত ৭ বছরে তিনি যা করেছেন তা আর কোনো সরকার করেনি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (স.) এর সাহাবি দারুল আরকাবের নামে দেশে এক হাজারটি বিশেষায়িত মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে আরবী ভাষায় জ্ঞান লাভ ও গবেষণার দ্বার খুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন তিনি কতটা ইসলামবান্ধব।