শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ধ্বংস হচ্ছে পারকি সৈকতের পরিবেশ!

| প্রকাশিতঃ ৩ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০৯ অপরাহ্ন


জিন্নাত আয়ুব, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : পারকি সমুদ্র সৈকতঘেঁষা দৃষ্টিনন্দন ঝাউবাগান দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের ঝাপটায় গাছের গোড়া থেকে বালু সরে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাগানের ঝাউ গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উপড়ে পড়ছে।

এছাড়া ড্রেজার বসিয়ে সৈকতের চর থেকে বালু উত্তোলন, দীর্ঘদিন আটকে থাকা জাহাজ, অপরিপকল্পিতভাবে স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, ময়লা–আবর্জনা ফেলাসহ নানা অনিয়মের কারণে পারকি সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ এখন ধ্বংসের পথে।

পারকি সমুদ্র সৈকত মূলত কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। অর্থাৎ কর্ণফুলী নদীর মোহনার পশ্চিম তীরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং পূর্ব-দক্ষিণ তীরে পারকি সমুদ্রসৈকত। এখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় সূর্যাস্ত।

একসময় পারকি সৈকতে বিশাল বালুভূমি ছিল, একপাশে ছিল ঝাউবাগান, সাথে বঙ্গোপসাগর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান পারকি চরে প্রকৃতিপ্রেমীরা এসে হারিয়ে যেতেন। আনন্দ ভাগাভাগি করতে পর্যটকরা নামতেন সমুদ্রে। কিন্তু এখন আগের সেই পরিবেশ নেই।

স্থানীয়রা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার বসিয়ে সৈকত থেকে বালু উত্তোলন ও সৈকতের চর থেকে মাটি নিয়ে বেঁড়িবাধ নির্মাণ করছে। যার ফলে ঝাউগাছের গোড়া থেকে বালু সরে যাচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে চরের ঝাউগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলো। এছাড়া আটকে থাকা জাহাজের কারণেও চরে কাদামাটি জমে যাচ্ছে। অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এই সৈকত ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্র জানায়, পারকি সৈকতের বালিয়াড়িতে ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে ১২ হেক্টর জমিতে ঝাউবন গড়ে তোলা হয়। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ১ দশমিক ২ হেক্টর, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৫ হেক্টর ও ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ৫ হেক্টর জমিতে ঝাউবাগান তৈরি করা হয়।

চারবার মিলে বালিয়াড়ির মোট ৩৯ দশমিক ২ হেক্টর বা ৯৭ একর জমিতে লাগানো হয় ঝাউগাছ। এই সবুজ বেষ্টনী পারকি সৈকতের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকেও উপকূলবাসীকে রক্ষা করে।

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বন্দর বিট কর্মকর্তা মো. হান্নানুজ্জামান বলেন, গত দুই বছরে উপড়ে পড়া ৬৫টি ঝাউগাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। সৈকতে উপড়ে পড়া বাকি গাছগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। সৈকতের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় আপাতত ঝাউবাগান সৃজনের পরিকল্পনা নেই।

চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সালাউদ্দীন লিপু বলেন, পারকি সৈকতে অবৈধ বালু উত্তোলন, মুনাফালোভীদের অবৈধ ভ্রাম্যমাণ স্থাপনা ও বৃক্ষ নিধনের কারণে বিষিয়ে উঠছে চারপাশের পরিবেশ। জলবায়ুর পরিবর্তনও সৈকতের ধ্বংস হয়ে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করছে। আমাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন অপরিকল্পিত আয়োজন আমাদেরই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। কাল বিলম্ব না করে পারকি সৈকত রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

এ প্রসঙ্গে আনোয়ারার ইউএনও শেখ জুবায়ের আহমদ বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে পারকি সৈকতের বিভিন্ন অনিয়মকে আমরা দূর করতে চেষ্টা চালাচ্ছি। পারকি সৈকত রক্ষায় সকল প্রকার পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।