শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭

দুর্গাপূজার ফ্যাশনে শৃঙ্খলা, পবিত্রতা ও পরিবেশ রক্ষার ডাক

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২০, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ


তাপস কুমার নন্দী : অন্যান্যবার এত দিনে চট্টগ্রাম নগরী চষে ফেলে পুজোর শপিং, পৌঁছে যায় শেষ ধাপে। এ বছর করোনাসুরের দাপটে সে সব মাটি।

করোনার দাপটে বদলে যাওয়া জীবনযাপনে সচেতনতার ভাগটা যে খানিক বেড়েছে, চারপাশে তাকালেই তার প্রমাণ মিলছে।

করোনা-সচেতনতার পাশাপাশি তাতে জায়গা করে নিচ্ছে পরিবেশ সচেতনতাও। পরিবেশবান্ধব পোশাক বা সাজের উপকরণ বেছে নেওয়াটা ইদানীং বেশী। লকডাউনের দিনগুলোয় ঘরবন্দি জীবন সে প্রবণতাকে উসকে দিয়েছে আরও খানিক। আর পুজোর সাজেও তাই নিশ্চিত জায়গা করে নিতে চলেছে পরিবেশ-সচেতনতা।

শপিংমল ‘অর্ণব’ বলেন বা ‘মাসুম’ বলেন কেনাকাটা যদিও বা হচ্ছে অল্পস্বল্প, তারও বেশির ভাগটাই অনলাইনে। আর সেই অনলাইন শপিং-এর সাইটে চোখ রাখলেই বদলটা চোখে পড়ছে। কমবয়সী প্রজন্মের পছন্দে ঢুকে পড়ে ‘ইকো ফ্রেন্ডলি ফ্যাশন’ এখন ক্রমশই ট্রেন্ডিং।

বেশিরভাগ ডিজাইনারেরা বলছেন, পোশাকে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় এড়ানো, ক্ষতিকর রাসায়নিক যুক্ত কাঁচামাল ব্যবহার না করা, বর্জ্যপদার্থ পুনর্ব্যবহারের মতো ব্যবস্থা গড়ে দিচ্ছে পরিবেশ সচেতন ফ্যাশনের ধারা। তা প্রচলিত করে তুলতে ক্রেতাদেরও পরিবেশবান্ধব পোশাকের চাহিদা তৈরির পাশাপাশি অল্পদিনে জামাকাপড় বাতিল না করা বা বাতিল জামাকাপড় নানা উপায়ে কাজে লাগানো অর্থাৎ ‘স্লো ফ্যাশন’-এ মানিয়ে নিতে হবে। অনলাইন শপিং সাইট বা ইন্টারনেটে জামাকাপড় রিসাইক্লিং সংক্রান্ত অজস্র ভিডিওই তার প্রমাণ।

দেখা যাচ্ছে, ইদানীং অর্গ্যানিক কটন বা লিনেনের পোশাকের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই দুটিই উদ্ভিজ্জ ফাইবার থেকে তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব।পরিবেশবান্ধব উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বিশেষভাবে তৈরি সিল্ক, উল, পুনর্ব্যবহৃত পলিয়েস্টার বা নাইলনের মতো উপকরণও। সে সব কিনছেনও ক্রেতারা। ইন্টারনেটের সৌজন্যে শহরগুলোতে তো বটেই, গ্রামেও ক্রমশ পরিচিতি বাড়ছে পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের।

পুজোর সাজেও যে পরিবেশ সচেতন ফ্যাশনের চাহিদা তৈরি হবে, তা বোঝা কঠিন নয়। ডিজাইনাররা বলেন, “ক্রমশ পরিবেশ, প্রকৃতি বা জলবায়ু যে চেহারা নিচ্ছে, তাতে নিজেদের বাঁচার স্বার্থেই এখন পরিবেশ বাঁচানো জরুরি। আর তাই দেরিতে হলেও সচেতনতা বাড়ছে এবং ফ্যাশনেও জায়গা করে নিচ্ছে।

তাই পুজোর সাজেও অর্গানিক কটন বা লিনেনের শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক প্রাধান্য পাবে। এমনিতেও এখন করোনা পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে ঘুরে এসেই পোশাক কেচে নেওয়াটা জরুরি। পুজোয় বেরুলেও তা-ই করতে হবে। তাই নিয়মিত ধোয়াধুয়িতেও সহজে নষ্ট হবে না, রঙ ফিকে হয়ে যাবে না, এমন ফ্যাব্রিক বেছে নেওয়াটাই ভাল। সে ক্ষেত্রেও সুতি বা লিনেন উপযোগী।

আর পুজোর সাজের রঙে প্যাস্টেল শেড বাছলে উজ্জ্বলও দেখাবে, রঙগুলো তাড়াতাড়ি ফিকে হওয়ার আশঙ্কা কম।

একজন সচেতন মানুষের কথা,পুজোয় এমন পোশাক না পরাই ভাল, যেটা পরলে ধর্মকে অবমানিত করা হয়।
ইদানীং শাড়ির ফ্যাশনে বিভিন্ন দেব-দেবীর ছবি দেওয়া হচ্ছে, অথবা অংকিত হচ্ছে বিভিন্ন স্বস্তিকা নতুবা লেখা হচ্ছে বিভিন্ন ধর্মীয় বাণী। আমার মতে এগুলো একদম বাদ দেওয়াই ভাল। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখি।