শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭

অপরাধীদের আস্তানা ‘ডালারমুখ’ গিরিছায়া হয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে

জমির উদ্দিন পারভেজের সাহসী-রুচিশীল উদ্যোগ

প্রকাশিতঃ বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২০, ৩:২৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : রাউজান থানার ডালারমুখ স্পটটি রীতিমতো ভয়ঙ্কর ও আতঙ্কছড়ানো। একদা ডাকাতদলের সদস্যরা ডাকাতি শেষে এখানে এসে অবস্থান করতেন। ভাগবাটোয়ারা করতেন লুণ্ঠিত মালামাল, অর্থকড়ি। একইভাবে সন্ত্রাসীদেরও নিরাপদ আস্তানা ছিলো এই স্পট। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, বিএনপি সরকারের আমলেও ছিল এই ভীতিকর অবস্থা, অপরাধীদের আস্তানা।

মাত্র কয়েকবছরের ব্যবধানে সেই স্পটটিতে এখন শান্তি আর বিনোদনের বেলুন উড়ছে। সুশীতল, পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশ। পর্যটক আকৃষ্ট এক অনন্য স্থান এখন সেটি। ৬ রকমের বন্যপ্রাণী নিয়ে মিনি চিড়িয়াখানা, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, পাহাড়-টিলাজুড়ে ছোট ছোট বসার স্থান, সেই সঙ্গে রিসোট।

ভয়ঙ্কর সব গল্প ছাপিয়ে সেই স্থানটিকে চিত্তাকর্ষণের অনন্য স্থানে পরিণত করার কারিগর রাউজান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, পৌরসভার প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ।


কেন এই উদ্যোগ, কিংবা চিত্তাকর্ষক বিনোদন স্পট করতে এমন ভয়জড়ানো স্থানকেই বা কেন বেছে নিলেন-এমন প্রশ্নে জমির উদ্দিন পারভেজের জবাব-আমি ছোটবেলা থেকে ছাত্ররাজনীতি করেছি। ছাত্রলীগের সভাপতি থেকে যুবলীগের সভাপতি হয়েছি। যখন, যেখানে অন্যায়-অনিয়ম দেখেছি সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়েছি। প্রতিবাদ করেছি। ছাত্রলীগের মূল স্লোগান-শিক্ষা-শান্তি, প্রগতি। সেই স্লোগানকে মনেপ্রাণে ধারণ এবং লালন করার চেষ্টা করেছি বলেই ছাত্রসমাজের, নির্যাতিত নিপীড়তদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন লড়তে গিয়ে সুন্দর রুচিবোধেরও লালন করেছি। এলাকাকে নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্তকরণে নিরবচ্ছিন্ন সময় দিয়েছি। সেই চেতনারই অংশ আজকের গিরিছায়া। আর এই গিরিছায়ার জন্য বেছে নিয়েছি যেখানে দিনের বেলায়ও মানুষ যেতে ভয় পেতো, সেই ডালারমুখকে।

‘মজার বিষয় হচ্ছে, সন্ত্রাসী-ডাকাতদের উচ্ছেদ, মূলোৎপাটন শুধু নয়, সেই ডালার মুখ এখন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে গিরিছায়ার নানা উদ্যোগ-আয়োজনে। পাহাড়ের পাদদেশ ঘিরে ভয়ঙ্কর সেই স্পটকে ঘিরেই এখন হাজারো মানুষের আবেগ, আনাগোনা।’ যোগ করেন পারভেজ।

জানা গেছে, সাধারণ দর্শনার্থী শুধু নয়, সমাজ-রাষ্ট্রের বিশিষ্টজনেরাও গিরিছায়া পরিদর্শনে এখন মুগ্ধতার ঢেঁকুর গিলছেন। গত বছরের ১৪ মার্চ ‘গিরিছায়া’ পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পরিদর্শন শেষে পরিদর্শনবই নিজ থেকেই খুঁজে নেন তিনি। তারপর লিখেন-রাউজান থানার মনোরম পরিবেশে অবস্থিত রেস্টুরেন্ট কাম রিসোট গিরিছায়া পরিদর্শন করে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ছোট চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করলে যে কারও ভালো লাগবে। বিমুগ্ধ পরিবেশে পর্যটকদের খাবারের ব্যবস্থাও অনন্য’।


সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স বার্নিক্যাট গিরিছায়া পরিদর্শন করে মুগ্ধতা প্রকাশ করার ঘটনা। এছাড়া বিভিন্ন সময় সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, শিল্পপতি ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতা সুকুমার চৌধুরী, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন কাউন্সিলর ও নারীনেত্রী অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু, পশ্চিমবঙ্গের আবৃত্তিশিল্পী ডালিয়া বসু সাহা, জ্ঞানবাংলার উদ্যোক্তা বদরুল হুদা খানসহ বিশিষ্টজনেরা গিরিছায়ার মায়ায় ডুবেছেন, মুগ্ধ হয়েছেন।