শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭

ব্যতিক্রমী রায়: বাড়িতে থেকেই সাজা ভোগ করবে ১৪ শিশু

প্রকাশিতঃ বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২০, ১১:২৩ অপরাহ্ণ


সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শিশু আদালতে পৃথক ১০টি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলার আসামি ১৪ শিশুর প্রত্যেকের সাজা হয়েছে এক বছর করে। কিন্তু তাদের কারাগারে যেতে হবে না। নিজ বাড়িতে থেকেই সাজা ভোগ করবে তারা। এই সময়কালে তাদের সাতটি শর্ত পালন করতে হবে। শর্ত পালনের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা।

আজ বুধবার সুনামগঞ্জের শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এসব মামলায় ব্যতিক্রমী এই রায় ঘোষণা করেছেন।

রায়ে সাজা ভোগের সময় বিচারক যেসব শর্ত পালনের কথা উল্লেখ করছেন সেগুলো হলো—বাবা-মায়ের আদেশ মানা, তাঁদের সেবা করা, ধর্মীয় অনুশাসন মানা ও নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা, প্রত্যেককে কমপক্ষে ২০টি করে গাছ লাগানো ও গাছের পরিচর্যা করা, অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে না জড়ানো।

শিশুদের নিয়ে এমন রায় দেওয়ার বিষয়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, শিশুরা যাতে পারিবারিক বন্ধনে থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে সেটির প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। জীবনের শুরুতেই যাতে শাস্তির কালিমা তাদের স্পর্শ না করে সে জন্য এমন সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংশোধনাগারে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধে আটক থাকাদের সংস্পর্শে এসে অপরাধী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া সংশোধনাগারের ওপর চাপ কমানোও এমন রায়ের একটি কারণ। সব মিলিয়ে শিশুদের সার্বিক কল্যাণের বিষয়টি ভাবা হয়েছে।

প্রবেশনে দেওয়া এসব শিশুর বিরুদ্ধে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে টাকা নেওয়া, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একজনের ছবির সঙ্গে অন্যের ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, শ্লীলতাহানি, মাদক রাখা, জুয়াখেলা, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, আসামি পলায়নে সহযোগিতা করা এবং মারামারির অভিযোগ ছিল।

সুনামগঞ্জ শিশু আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নান্টু রায় বলেন, ১৪ শিশুকে সাতটি শর্তে একজন প্রবেশন কর্মকর্তা ও পরিবারের তত্ত্বাবধানে দেয়া হয়েছে। দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অরডিন্যান্স-১৯৬০ এবং ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৩৪ (৬) ধারায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। প্রতি ৩ মাস পর পর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার শর্তে এ রায় দেয়া হয়েছে। শিশুদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের ফেরানোর নজির হয়ে থাকবে এ রায়। এ রায়ের মাধ্যমে শিশুরা তাদের সংশোধনেরও সুযোগ পাবে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান বলেন, এই শিশুরা প্রবেশনকালীন শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করছে কি না, তা তত্ত্বাবধান করতে আদালত আমাকে আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি অভিভাকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব শর্ত পালনে তাদের সহযোগিতা করা এবং পাশে থাকা। তিন মাস পরপর এ বিষয়ে আদালতে আমাকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।