শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাংলাদেশের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়েছে ভারত

| প্রকাশিতঃ ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ | ৬:৫৬ অপরাহ্ন

হায়দারাবাদ: অধিনায়ক বিরাট কোহলির ডাবল-সেঞ্চুরি, ওপেনার মুরালি বিজয় ও উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে হায়দারাবাদ টেস্টে ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষনা করেছে ভারত। দ্বিতীয় দিন শেষে ১ উইকেটে ৪১ রান করেছে বাংলাদেশ। ফলে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ৬৪৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা।

বিজয়ের ১০৮ ও কোহলির অপরাজিত ১১১ রানের উপর ভর করে প্রথম দিন ৯০ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান তুলেছিলো ভারত। এমন স্কোর ইঙ্গিত দিচ্ছিলো, বাংলাদেশের সামনে রানের পাহাড় দাড় করাতে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত তাই হলো, ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান।

দ্বিতীয় দিন কোহলির মারমুখী ডাবল সেঞ্চুরির পর রয়েসয়ে সেঞ্চুরি করেছেন সাহা। এতে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় রানের নয়া রেকর্ড গড়লো ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের আগের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ছিলো ৩ উইকেটে ৬১০। ২০০৭ সালে মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে রানের পাহাড় গড়েছিলো ভারত। হায়দারাবাদের স্কোরটি ভারতের টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
সিরিজের একমাত্র টেস্টে ১১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে মারমুখী মেজাজেই ছিলেন কোহলি। ফলে ২৩৯তম বলেই বাউন্ডারির সহায়তায় টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল-সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। টানা চার সিরিজে ডাবল-সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়কে পেছনে ফেলেন কোহলি। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরিকে ডাবলে রুপ দিয়ে ২০৪ রানে থামেন কোহলি। তার ২৪৬ বলের ইনিংসে ২৪টি চার ছিলো।

কোহলির সাথে চতুর্থ উইকেটে ২২২ রানের জুটি গড়েন আজিঙ্কা রাহানে। কোহলির আগেই মাঠে ছাড়েন তিনি। রাহানের সংগ্রহ ছিলো ৮২ রান। কোহলি ও রাহানের বিদায়ের পর ভারতের রান তরতর করে এগিয়েছে সাহা-রবীচন্দ্রন অশ্বিন-রবীন্দ্র জাদেজার ব্যাটের উপর ভর করে।
অশ্বিন ৩৪ রানে থেমে গেলেও, টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন সাহা। তার সাথে সপ্তম উইকেটে ১১৮ রানের জুটি গড়েছেন জাদেজা। তবে সাহা’র সেঞ্চুরি ও জাদেজা হাফ-সেঞ্চুরির পরই ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। সাহা ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৫৫ বলে ১০৬ এবং জাদেজা ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৮ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থেকে যান।
ভারতের রানের পাহাড়ের চাপেও, বল হাতে উইকেট শিকারের সাফল্য ছয়বার করতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে সেটি আরও বাড়তে পারতো, যদি না প্রথম দিনের মত দ্বিতীয় দিনেও ক্যাচ ও রান আউটের পাল্লায় না নামতেন মোমিনুল-তামিমরা। ১৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় সফল বোলার মিরাজ। ১৬৫ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। পতন হওয়া অন্য উইকেটটি এই ইনিংসের প্রথম ওভারেই নিয়েছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

ভারত ইনিংস ঘোষনা করায় দিনের শেষ ভাগে ১৪ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সেখানে দেখেশুনেই শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। এতে ৩৮ রানের জুটি দলকে এনে দেন তারা। তবে ডিআরএসের ফাঁদে পড়ে ভাঙ্গে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। ১৫ রান করে উইকেটের পেছনে ফিরেন সৌম্য।
১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সৌম্যর বিদায়ে জুটি বাঁেধন তামিম ও মোমিনুল। এরপর আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি তারা। ফলে তামিম ২৪ ও মোমিনুল ১ রানে অপরাজিত থেকে যান। ভারতের উমেশ যাদব নিয়েছেন সৌম্যর উইকেটটি।

স্কোর কার্ড (দ্বিতীয় দিন শেষে) :
ভারত প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ৩/৩৫৬) :
লোকেশ রাহুল বোল্ড ব তাসকিন ২
মুরালি বিজয় বোল্ড ব তাইজুল ১০৮
চেতেশ্বর পূজারা ক মুশফিক ব মিরাজ ৮৩
বিরাট কোহলি এলবিডব্লু ব তাইজুল ২০৪
আজিঙ্কা রাহানে ক মিরাজ ব তাইজুল ৮২
ঋদ্ধিমান সাহা অপরাজিত ১০৬
রবীচন্দ্রন অশ্বিন ক সৌম্য ব মিরাজ ৩৪
রবীন্দ্র জাদেজা অপরাজিত ৬০
অতিরিক্ত (লে বা-৫, ও-১, নো-২) ৮
মোট (৬ উইকেট ডি. ১৬৬ ওভার) ৬৮৭
উইকেট পতন : ১/২ (রাহুল), ২/১৮০ (পূজারা), ৩/২৩৪ (বিজয়), ৪/৪৫৬ (রাহানে), ৫/৪৯৫ (কোহলি), ৬/৫৬৯ (অশ্বিন)।
বাংলাদেশ বোলিং :
তাসকিন আহমেদ : ২৫-২-১২৭-১ (নো-১, ও-১)।
কামরুল ইসলাম রাব্বি : ১৯-১-১০০-০ (নো-১)।
সৌম্য সরকার : ১-০-৪-০।
মেহেদি হাসান মিরাজ : ৪২-০-১৬৫-২।
সাকিব আল হাসান : ২৪-৪-১০৪-০।
তাইজুল ইসলাম : ৪৭-৬-১৫৬-৩।
সাব্বির রহমান : ৩-০-১০-০।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ : ৫-০-১৬-০।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস :
তামিম ইকবাল অপরাজিত ২৪
সৌম্য সরকার ক সাহা ব উমেশ ১৫
মোমিনুল হক অপরাজিত ১
অতিরিক্ত (লে বা-১) ১
মোট (১ উইকেট, ১৪ ওভার) ৪১
উইকেট পতন : ১/৩৮ (সৌম্য)।
ভারত প্রথম ইনিংস বোলিং :
ভুবেনশ্বর কুমার : ৫-২-৭-০।
ইশান্ত শর্মা : ৫-০-৩০-০।
রবীচন্দ্রন অশ্বিন : ২-১-১-০।
উমেশ যাদব : ২-১-২-১।