শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ডোপ টেস্টের আওতায় আসছেন ছাত্রলীগে পদ প্রত্যাশীরা

| প্রকাশিতঃ ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১১:১৪ পূর্বাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য, গণপরিবহনের চালক-সহকারি, সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের পর এবার ছাত্রলীগে পদ প্রত্যাশীদের ডোপ (মাদকদ্রব্য) টেস্টের কথা ভাবছে সরকার। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বাড়ানোর কথাও ভাবছে সরকার। সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শনিবার (২৪ অক্টোবর) একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা একসাথে দুটি বিষয়ে কাজ করবো। প্রথমে পদপ্রত্যাশীদের খসড়া তালিকা হাতে নিয়ে দেখবো কেউ অনুপ্রবেশকারী আছে কিনা। তারপর অনুপ্রবেশমুক্ত তালিকা ধরে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণদেরকেই কেবল পদায়নের জন্য সুপারিশ করা হবে।

সরকারি চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ডোপ (মাদকদ্রব্য) টেস্ট শুরু হয়েছে।
২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হয়।

পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে গত মাসে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজির আহমেদ ডিএমপির অভ্যন্তরে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু করেন। টেস্টে মাদক-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় ১২ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। জানা যায়, পর্যায়ক্রমে সন্দেহভাজন সকল পুলিশ সদস্যকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার চিন্তা করছেন পুলিশের আইজিপি।

এছাড়া গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গত ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ডোপ টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরিবহন কর্মীদের আপত্তির মুখে বাস মালিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসে। কিন্তু গেলো সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণপরিবহন শ্রমিকদের ডোপ টেস্টের বিষয়টির উপর ফের জোর দেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদেরও ডোপ টেস্টের কথা ভাবছে সরকার।

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) একটি শাখা বর্তমানে সীমিত পরিসরে ডোপ টেস্টের কাজ করছে। তবে ডোপ টেস্টের জন্য যেসব সরঞ্জাম থাকার কথা সেটা এখনও কেনা হয়নি।

এই ডোপ টেস্টে মুখের লালা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ সাত দিন, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ দুই মাস, চুল পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ১২ মাস এবং স্প্যাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে গত পাঁচ বছরের মধ্যে কেউ মাদক গ্রহণ করলেও তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে।

কিন্তু বর্তমানে শুধু ইউরিন (মূত্র) পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি শেষ ১০ দিনের ভেতর কোনও মাদক গ্রহণ করেছেন কিনা তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে। মাদকদ্রব্য আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪(৪) বাস্তবায়নের জন্য জরুরিভিত্তিতে কমপক্ষে একটি অটোমেটিক ইউরিন (মূত্র) অ্যানালাইজার কেনা জরুরি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনার ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও আওয়ামী কেন্দ্রীয় উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, এই উদ্যোগ খারাপ নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ছাত্রলীগ পদ প্রত্যাশীদের ছেকে দেখা যেতে পারে।

এরপরও আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সত্যিই লজ্জা এবং অপমানের।-বলেন আমিনুল ইসলাম।