শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে সিনিয়র পুলিশকে পিটিয়ে হ্যান্ডকাফ পরালেন এসআই!

| প্রকাশিতঃ ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ৭:০৬ অপরাহ্ন


মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রামে একজন উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বেধড়ক পিটিয়েছেন পুলিশের আরেক পরিদর্শককে। শুধু তাই নয়, হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ওই পুলিশ পরিদর্শককে থানায় নিয়ে গেছেন তিনি।

গত ২৫ অক্টোবর বিকাল সাড়ে চারটায় নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার হোটেল প্যারামাউন্ট সিটি এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটলেও পুলিশের পক্ষ থেকে চেপে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

মারধরের শিকার পুলিশ সদস্যের নাম আফতাব হোসেন। তিনি সিএমপি’র কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক। এই ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা আফতাব হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ঘটনার দিন আমি রিয়াজউদ্দিনবাজার গিয়েছিলাম কিছু বাজারসদাই করতে। এসময় হোটেল প্যারামাউন্ট সিটির নিচে সাদা পোশাকে কোতোয়ালী থানার এসআই রবিউল হোসেন এবং এএসআই অনুপসহ ৬-৭জন পুলিশ সদস্য কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাকে মারধর শুরু করে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে দেয়।

আফতাব নিজেকে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ইন্সপেক্টর পরিচয় দিলেও ক্ষান্ত হননি এসআই রবিউল। তাকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। এসময় আফতাব কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামানকে ফোন করে তাকে মারধর এবং হ্যান্ডকাফ লাগানোর কারণ জানতে চান। পরে হ্যান্ডকাফ খুলে আফতাবকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।

খবর পেয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা ছুটে যান কোতোয়ালী থানায়। পরে থানা ভবনে সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়ে বিষয়টির আপাতত সুরাহা করেন। এ ঘটনা তদন্তে একজন উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিএমপির একজন কর্মকর্তা।

কোতোয়ালী থানার একজন কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে একুশে পত্রিকাকে জানান, সম্প্রতি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি মামলা হয় কোতোয়ালী থানায়। ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি হাটহাজারী উপজেলায়। ঘটনার দিন মামলার বাদিই ইন্সপেক্টর আফতাবকে টাকা ছিনতাই ঘটনার ‘সোর্স’ বলে চিহ্নিত করলে এসআই রবিউল আফতাবকে ‘আটক’ করে থানায় নিয়ে আসেন। রবিউল কিছুদিন আগে বন্দর থানা থেকে বদলি হয়ে কোতোয়ালী থানায় যোগ দিয়েছেন। তিনি (রবিউল) ইন্সপেক্টর আফতাবকে চিনেননি।-বলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

তবে ইন্সপেক্টর আফতাবকে মারধর এবং হ্যান্ডকাফ লাগানোর বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই রবিউল হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি।’ ইন্সপেক্টর আফতাব আপনার বিরুদ্ধেই মারধর এবং হ্যান্ডকাফ লাগানোর অভিযোগ করেছেন, আপনি অস্বীকার করছেন কেন-এমন প্রশ্নে এসআই রবিউল বলেন, ‘উনি কেন বলছেন তা আমি জানি না।’

এদিকে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কোতোয়ালী থানায় ছুটে যান নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর৷ তবে ঘটনার পরপর পুলিশ কমিশনার থানা ভবনে যাওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ মহসীন। যদিও প্রতিবেদক
ওই সময় স্বচক্ষে কোতোয়ালী থানায় নগর পুলিশ প্রধানের উপস্থিতি ও অবস্থান প্রত্যক্ষ করেন।

এদিকে, এসআই রবিউল হোসেনসহ আরও কিছু পুলিশ সদস্য ইন্সপেক্টর আফতাবকে মারধর এবং হ্যান্ডকাফ লাগানোর বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন সিএমপি’র দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার এসএম মেহেদী হাসান।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। এর বাইরে কোনও ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই।’

একইভাবে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীনও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে বলেছেন, ‘এ রকম কোনও ঘটনা আমার নলেজে নেই।