সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

দুদকের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামে ‘বড় দুর্নীতি’তে অভিযুক্তরা

প্রকাশিতঃ রবিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ


শরীফুল রুকন : গত ১০ বছরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাব রাখার দায়িত্বে থাকা সিডিএ’র অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজেরের বিরুদ্ধে উঠে জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।

এ প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ নাজেরের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০১৫ সালে সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়। একই বছরের জুন থেকে অভিযোগটির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়। এই অনুসন্ধান শেষ হয়েছে চলতি বছরের জুনে।

পাঁচ বছর অনুসন্ধান করে সিডিএ’র অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজেরের বিরুদ্ধে উঠা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুদক! বিষয়টি গত ৪ জুন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জাফর আহমদ চিঠি দিয়ে দুদক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়কে জানান। একমাস পর ৫ জুলাই দুদক বিভাগীয় কার্যালয় থেকে উক্ত বিষয়টি প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করা হয়।

কমিশন অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টি অনুমোদন করার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত অব্যাহতির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দিয়ে জানান। এছাড়া বিষয়টি মোহাম্মদ নাজেরকে চিঠি দিয়ে জানানোর পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিডিএ চেয়ারম্যান, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালককেও অনুলিপি দিয়ে জানানো হয়।

‘অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ না পাওয়ার কারণে’ যে নাজেরকে দুদক অব্যাহতি দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ২০১০ সালেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২২টি মামলা করেছিল দুদক। এরপর গত ১০ বছরে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের আমলে বিভিন্ন সময়ে সিডিএতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ উঠলেও দুদককে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। এ সময়ে আরও চট্টগ্রাম মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে যান ছালামের ছোট ভাই সৈয়দ নজরুল ইসলাম কমু।

সম্প্রতি দুদক থেকে অব্যাহতি পাওয়া মোহাম্মদ নাজেরকে সিডিএ’র গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তার একজন বলে ধরা হয়। বিলাসী জীবন-যাপনে অভ্যস্ত নাজের নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণও করে থাকেন। কোনো কোনো বিদেশ সফরে স্ত্রী-সন্তানদেরও সঙ্গী করেন তিনি। গত ২ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ দিনের জন্য স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছেন সিডিএ’র অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজের।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের অধীনে ‘বৈদেশিক প্রশিক্ষণের’ অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ১৫ দিন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য মনোনয়ন পান মোহাম্মদ নাজের। উক্ত সময়ে তার সফরসঙ্গী ছিলেন সিডিএ’র বোর্ড সদস্য ও প্রাক্তন কমিশনার মো. গিয়াস উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস, উপ-সচিব অমল গুহ।

সিডিএ’র পক্ষ থেকে এই চারজনের বিদেশ সফরের জন্য প্রকল্পের তহবিল থেকে সব ব্যয় করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড। অথচ অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য এসএমইসি ইন্টারন্যাশনালসহ বিশ্বের ৭৮টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ২০১৮ অর্থবছরে নিষিদ্ধ করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির গ্রুপ স্যাংকশন সিস্টেমের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। ইন্টেগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি (আইএনটি), অফিস অব সাসপেনশন অ্যান্ড ডিপার্টমেন্ট (ওএসডি) ও স্যাংকশন বোর্ড এই প্রতিবেদন তৈরি করে।

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এসএমইসি ইন্টারন্যাশনালের পরামর্শে নির্মাণ করা আউটার রিং রোডের ওয়াকওয়ের কয়েকটি অংশ উদ্বোধনের আগেই ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই ধসে পড়ে। এ ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওয়াকওয়ে ধসের ঘটনায় সিডিএ’র অজ্ঞতা ও অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে এখানেও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের পক্ষ থেকে অব্যাহতি পাওয়া প্রসঙ্গে সিডিএ’র অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজের একুশে পত্রিকাকে বলেন, অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় দুদক আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে। ২০১০ সালে দুদকের দায়ের করা ২২টি মামলার সবকটি থেকেও অব্যাহতি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরের সল্টগোলায় অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রেলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান সামছুর রহমান, পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মেহদী হাসান, ব্যবস্থাপক (সংস্থাপন) আপেল মামুন ও ইস্টার্ন রিফাইনারীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতারুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে গত বছর। একই বছর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি, মজুত, বিপণন, বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কাজের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিপিসি। পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিক্যান্ট ব্যবসায়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টিও দেখভাল করে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বিপিসিতে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। সচিব পদমর্যাদার বিপিসির চেয়ারম্যান পদটি হচ্ছে অতিলোভনীয়। কারণ বিপিসির চেয়ারম্যান হওয়ায় পদাধিকার বলে তিনি কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির চেয়ারম্যান। এর মধ্যে রয়েছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস কোম্পানি লিমিটেড। এসবের মধ্যে পদ্মা অয়েল ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

বিপিসি চেয়ারম্যান সামছুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে, ২০১৮ সালে তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামে বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল নিয়োগে অনিয়ম করেছেন ও এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করেছেন। এর বাইরে বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল রিফাইনারির বিল পরিশোধে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করেছেন।

অভিযোগ উঠে, তেল কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে নিজ ছেলেকে ইন্দোনেশিয়ায় কাজের সুযোগও করে দিয়েছেন সামছুর রহমান। ওই ছেলের একটি সামাজিক সংগঠনও রয়েছে। সংগঠনটির নামেও বিপিসির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।

এক পৃষ্ঠায় বিপিসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরে এর বিপরীতে পূর্ণাঙ্গ মতামত দিতে গত বছরের অক্টোবরের শুরুতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা। এক বছর অনুসন্ধানের পর গত ১২ আগস্ট সামছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুদক সচিব চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান করে কাস্টমস, ভ্যাট ও এক্সাইজ চট্টগ্রামের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট মো. শামসুল হুদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুদক। কক্সবাজার থানা রোডের বদর মোকাম এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা শামসুল হুদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ১৯৯৯ সালে শুরু হয়েছিল। তিনি এখন নগরের মেহেদীবাগের শহীদ মির্জা লেনের একটি বাড়িতে বসবাস করেন। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলামের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ মার্চ শামসুল হুদা চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়া সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্টদের পাঠান দুদক সচিব।

চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক ডিভিশনাল ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার (ডিইই) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান (বর্তমানে একই পদে ঢাকায় কর্মরত) ও সিনিয়র সাব এসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শেখ ফরিদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের মূল্যবান তার ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত ও জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে। ২০১৫ সালে এ অভিযোগটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। গত ৫ বছর ধরে অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুদক। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিষয়টি তাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন দুদক সচিব।

এদিকে চট্টগ্রাম রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সাবেক রেকর্ড কিপার ভজন বৈদ্য’র বিরুদ্ধেও জ্ঞাতআয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুদক। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী হিসেবে কাজ করা ভজন বৈদ্য সম্প্রতি অবসরে গিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা মিলেনি বলে প্রতিবেদন দিয়েছেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর উপসহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম। এ প্রেক্ষিতে তিন বছর পর গত ৭ অক্টোবর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ভজন বৈদ্য।
যদিও অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনও দলিলই সম্পাদন হয় না। নামজারি, খারিজ, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ নানা কাজে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নামে-বেনামে তারা বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক আকতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সাব রেজিস্ট্রি অফিস। সরকারি রেজিস্ট্রেশন, হেবা, এওয়াজ- সবগুলোতেই কোনোরকম ঘুষ-অনিয়ম ছাড়া কাজই হয় না। সরকারি রাজস্বের টাকাও সেখানে ঠিকমতো আদায় করে না। দুদকের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসেব যাচাই করা।’

এদিকে গত বছর কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর সাবেক ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও বিক্রয় সহকারী মাকসুদুর রহমান হাসনুর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এক বছর পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠি ইস্যু করে জসিম ও মাকসুদুরসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেন অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এছাড়া দীর্ঘ ৪ বছর অনুসন্ধান শেষে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) মাহামুদ হাসান সেলিমকে অবৈধ সম্পদের অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুদক। অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি গত ২৭ অক্টোবর মাহামুদ হাসান সেলিমসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন দুদক সচিব।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী মাহামুদ হাসান সেলিম বলছেন, সিভিল এভিয়েশনের একজন সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল।

সচেতন নাগরিক কমিটি বা সনাক-টিআইবি, চট্টগ্রামের সভাপতি আকতার কবির চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সর্ষের ভেতর ভূত আছে। যেভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন, তাতে দুদকের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এখন অনেকেই ব্যঙ্গ করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দায়মুক্তি কমিশন বলছেন। আমার কাছেও তা-ই মনে হচ্ছে। কারণ বিপিসি, সিডিএ, কাস্টমস এসব হচ্ছে দুর্নীতির আখড়া। সেখানে দুর্নীতি খুঁজে না পাওয়া বিশ্বাসযোগ্য নয়।’ প্রতিটি ছাড় ও দায়মুক্তির বিষয়ে দুদকের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এ সব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দুদক চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক মাহমুদ হাসান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘অব্যাহতি তো আমরা দিই না। অব্যাহতি দেয় প্রধান কার্যালয়। আর সব বিষয় আমার নলেজে থাকে না। আমি এখন অফিসের বাইরে, ঢাকায় আছি।’ এসব বিষয়ে জানতে প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে দুদক কাউকেই ছাড় দেয় না। অনুসন্ধানে কোনো অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া গেলেই কেবল অব্যাহতি দেওয়া হয়। কমিশন কোনো মামলা করলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে করে থাকে।’