সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭

ঘুমন্ত মানুষকে জাগাতে একুশে পত্রিকা ও আজাদ তালুকদারের কলমযুদ্ধ

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারি ৬, ২০২১, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ


কাজী মোহাম্মদ আহসান ইকবাল : প্রকাশের শুরু থেকেই আমি একুশে পত্রিকার ধারাবাহিক পাঠক। লক্ষ করছি, গতানুগতিক লেখার বাইরে এসে পত্রিকাটি মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিতে নিরলস পরিশ্রমে এগিয়ে যাচ্ছে। সত্যকে সত্য বলার সৎ সাহস এখন খুবই কম। এমন এক গড্ডালিকা প্রবাহে একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার দৃঢ় প্রত্যয়ে সত্য ও সুন্দরের আলোকে মানুষকে জাগানোর কলমযুদ্ধে ব্যাপৃত। আগামীর বাধা দূর করতে মননশীল সৃষ্টির ছোঁয়ায় অনন্য এক আবহে একুশে পত্রিকার পথচলা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

আলো-আঁধারি ঘোলাটে চিত্রপটে ঝাপসার আঁচড়ে সাদাজমিন বিদগ্ধ। ঝরেপড়া চিন্তার চাষে অনুর্বর ফসলের মাঠ। অসুস্থ মানসিকতার হীনম্মন্যতায় ঘেরা সমাজচিত্র ও তার মূল্যবোধ মিথ্যার কলেবরে আবৃত।

দুর্বৃত্তায়নের ফাঁদে আটকে থাকা সুশাসন-সুনীতির বিপর্যয়ের খাদ থেকে আলোর প্রভা মেখে দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে একুশে পত্রিকা ও আজাদ তালুকদার দৃপ্ত শপথে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

একটি দেশ ও তার প্রগতির চাকা বেগবান করতে সম্মিলিত গণজাগরণ অপরিহার্য। স্রোতের বিপরীতে কঠিন এক পথ মাড়িয়ে একুশে পত্রিকার আজকের এ অবস্থান; আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মেধার বিকাশের পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে একুশের প্রতিটি সংখ্যায়, কলামে, লাইনে এবং শব্দে।

শব্দের তালে তালে বর্ণের উচ্চারণে নিখুঁত শৈল্পিক উপাখ্যান গড়তে যে আত্মনিবেদন ও প্রতিজ্ঞার প্রাণের জোয়ার তা সামষ্টিক কারিগরি নির্মাণশৈলীর বহিঃপ্রকাশ। এখানেই একুশে পত্রিকার স্বতন্ত্রতা, স্বার্থকতা।

কালের ধারায় পরিবর্তনের বিপ্লব চলছে। সত্য ও সুন্দরের বিপ্লব যেখানে ফানুসের মতো উড়তে আরো শক্তি ও সাহস জোগানোর কথা, সেখানে বিভেদের দেয়াল এসে বিচ্ছেদের কালো মেঘে মানুষকে আচ্ছাদিত করে রাখছে অবিরাম।

ভাঙাগড়ার এই খেলায় একুশ যেমন শোষণের বলিষ্ঠ উচ্চারণ ছিল, প্রতিবাদের প্রথম প্রেমে বাঙালির অপরাজেয় মন হয়ে প্রতিশোধের তীব্র থাবায় হায়েনাদের মসনদে আগুন জ্বালিয়ে আজকের বাংলাদেশকে জন্ম দিয়েছিল, যা এখনো চেতনার বাতিঘর; ঠিক এমন কঠিনকে ভালোবেসে একজন সম্পাদক আজাদ তালুকদার একুশের ফেরিওয়ালা হয়ে মুক্তির নিশানে নোঙর করছেন প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ।

লেখা শুধু লেখা নয়। কলমের কালির আঁচড়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে পাঠকের চাহিদা মেটাতে যত্নশীল ও সচেতনতার যে উদাহরণ একুশে পত্রিকার; তা অসময়কে সঙ্গী করে বহুদূর পাড়ি দেওয়ার সহজ সমীকরণ।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সাহস একুশে পত্রিকার আছে। তাইতো দুঃসাহসিক এই অভিযান প্রতিটি পাতায় পাতায়। একুশের শব্দেরা ভ্রমণের কাহিনী, সাহিত্যের রস আর রকমারি বিনোদনে চমক দিতে পারছে কখনো গ্রাম, কখনো শহর এবং প্রান্তিক অঞ্চলের সমস্যার চুম্বক অংশ পাঠকের চোখের সামনে উপস্থাপনে সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলার দারুণ মুন্সীয়ানার মাধ্যমে।

সীমানা পেরিয়ে ওপার বাংলা থেকে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের প্রাণবন্ত সাহিত্যের নির্যাস ঢেলে সাজানোর কারুকাজ আমাকে মুগ্ধ করছে নিয়ত। বিশ্বায়নের এ যুগে আধুনিক সমাজ কাঠামোর আঙ্গিকে বাংলাদেশ গড়তে যে পরিবর্তন দরকার তার প্রাণোচ্ছ্বাসে ভরপুর একুশে পত্রিকা। অফলাইন থেকে অনলাইন হয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নজরদারি ও সমস্যা তুলে ধরা একুশে পত্রিকার নিত্য কাজের অংশ।

নির্দিষ্ট গলিতে আবদ্ধ না থেকে সার্চলাইটের মতো সামগ্রিক ঘুনে ধরা চিত্রকে চোখের সামনে আনার আগ্রহ একটি প্রকাশনাকে সমৃদ্ধ করে নিঃসন্দেহে। সেই সমৃদ্ধতার মাইলফলক স্পর্শ করুক একুশে পত্রিকা। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্লু ইকোনোমি, অভয়ারণ্য, প্রাণিজগৎ, কৃষি অর্থনীতি ও মানবসম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহারকে প্রাধান্য দিতে একুশে পত্রিকা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

বাংলা সাহিত্য, চট্টগ্রামের চিরায়ত সংস্কৃতি, ধর্মপ্রাণ মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চার মূল্যবোধ ও গবেষণাধর্মী জ্ঞানচর্চার আরও পথ একুশে পত্রিকার মাধ্যমে বিকশিত হওয়া উচিৎ। অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে একুশে পত্রিকা আরও জোরালো ভূমিকা পালন করুক-এটাই চাওয়া অনুক্ষণ।

কাজী মোহাম্মদ আহসান ইকবাল : প্রাবন্ধিক-সমাজকর্মী