সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭

নটি আমেরিকা

প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২১, ৩:০৬ অপরাহ্ণ


শান্তনু চৌধুরী : অনেকদিন পর মাকসুদের গীতিকবিতা শুনছিলাম। গণতন্ত্র মানে কী? অনেক কিছুই এখন আর লেখা যাবে না। কেউ চাইলে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নিষিদ্ধ অ্যালবামটি থেকে গানগুলো শুনে নিতে পারেন। ওই গীতিমিছিল গানেরই একটি লাইন এমন ‘গণতন্ত্র মানে জনগণের আস্থাকে বিকিয়ে কিনুন!’।

এই যে জনগণের আস্থাকে বিকিয়ে কিনতে চান নেতারা সেটা আমরা এতদিন এশিয়ার দেশগুলোতে দেখে এসেছি। নিদেনপক্ষে অনুন্নত দেশে। কিন্তু গণতন্ত্রের রক্ষক দাবিদার খোদ আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যা দেখালো তাতে পুরো বিশ্বই যেন লজ্জা পেয়েছে।

ওরা বিভিন্ন সময়ে আমাদের গণতন্ত্র শেখার ছবক দেয়। বিশেষ করে নির্বাচন এলে আমাদের দেশের সাংবাদিকরাই নির্লজ্জ্ব হয়ে ওদের রাষ্ট্রদূতের কাছেই জানতে চান আমাদের দেশের নির্বাচন সম্পর্কে! কিন্তু আমেরিকার কংগ্রেস ভবনে হামলার পর থেকে আমরা তো চাইলেই তাদের বলতে পারি, আমাদের দেশ থেকে গণতন্ত্র শিখতে! আমরা বলতে পারি সেদেশে থাকা আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে শান্তিরক্ষী নিয়োগ দিতে!

প্রয়োজনে আমাদের সিইসিকে সেখানে পাঠানো যেতে পারে নির্বাচন শেখানোর জন্য। কারণ তিনি তো আগেই বলেছেন, আমেরিকার আমাদের কাছ থেকে শেখার আছে। আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা ৬ জানুয়ারির এই হামলায় সে দেশের আইনসভা কংগ্রেসের ক্যাপিটল হিল ভবন কয়েক ঘণ্টা দখল করে রাখে। তবে এটা মনে করার কারণ নেই যে, এমন হামলা এটিই প্রথম। ইউএস ক্যাপিটল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি জানাচ্ছে, এরকম অসংগঠিত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ওপর ২০০ বছর আগেও একবার হামলা চালানো হয়।

সমুদ্রবাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৮১২ সালে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। সেই যুদ্ধে ১৮১৪ সালে ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটন ডিসির প্রতিরক্ষাব্যুহ ভেদ করে এবং ক্যাপিটাল ভবন ও অন্যান্য কিছু দালান পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। ব্রিটিশ সৈন্যরা মশাল এবং গানপাউডার দিয়ে ক্যাপিটল ভবন, প্রেসিডেন্টের বাসস্থান এবং অন্যান্য সরকারি দফতর পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। সেই আগুন থেকে শুধু একটি মেহগনি কাঠের ডেস্ক রক্ষা পেয়েছিল, যা এখনও সিনেট চেম্বারে শোভা পাচ্ছে। পলিটিফ্যাক্ট নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে, ১৯১৫ সালের ২ জুলাই মধ্যরাতের কিছু আগে সিনেট রিসেপশন চেম্বারে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মান বিভাগের একজন সাবেক অধ্যাপক এরিখ মেনটার ডিনামাইট ব্যবহার করে এই বিস্ফোরণ ঘটান।

তিনি লিখেছিলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঝংকারের বিরুদ্ধে তিনি এই কাজ করেছেন, যাতে শান্তির বাণী যুদ্ধে নিনাদকেও ছাপিয়ে ওঠে। গ্রেফতারের কিছুদিন পর কারাগারের মধ্যেই এরিখ মেনটার আত্মহত্যা করেন।

১৯৫৪ সালের ১ মার্চ মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত ভূখ- পুয়ের্তো রিকোর স্বাধীনতাকামীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের গ্যালারিতে ঢুকে পড়ে।

হাউস হিস্ট্রি ওয়েবসাইটের খবর অনুযায়ী, পুয়ের্তোরিকান ন্যাশনালিস্ট পার্টির সদস্যরা কংগ্রেস কক্ষ লক্ষ করে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং গ্যালারিতে পুয়ের্তোরিকোর পতাকা উড়িয়ে দেয়। এছাড়া ১ মার্চ ১৯৭১ এ ক্যাপিটাল ভবনে বোমা বিস্ফোরণ হয়। লাওসে মার্কিন-সমর্থিত অভিযানের প্রতিবাদে দ্য ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ড নামে একটি গোপন সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে।

৭ নভেম্বর ১৯৮৩ সালে রাত প্রায় ১১টার দিকে ক্যাপিটাল ভবনের উত্তর শাখার তিন তলায় এক বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে এক ব্যক্তি ক্যাপিটালের টেলিফোন এক্সচেঞ্জে ফোন করে এই বোমার কথা জানায়। সে নিজেকে ‘সশস্ত্র প্রতিরক্ষা ইউনিট’ নামে এক গোপন সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করে। গ্রেনাডা এবং লেবাননে মার্কিন অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ঐ ব্যক্তি জানায়। ২৪ জুলাই ১৯৯৮ সালে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেদ করে যাওয়ার সময় এক সশস্ত্র হামলাকারীর গুলিতে ক্যাপিটল পুলিশের দুজন কর্মকর্তা নিহত হন। হামলাকারী রাসেল ইউজিন ওয়েস্টনকে আটক করা হলেও মানসিক ভারসাম্যহীনতার জন্য তার বিচার করা যায়নি।

প্রিয়তমা, কী ভাবছো? পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশে এসব কেমন ঘটনা। এতো আর বরিশালের বাবুগঞ্জ না যে, বিয়ে বাড়িতে মাংস কম দেওয়ার কারণে খুনোখুনি হয়ে যাবে। ঘটনাটি এমন বাবুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রফিয়াদি গ্রামের মোতাহার মীরের ছেলে সজীব মীরের সঙ্গে বরিশাল নগরের কাউনিয়া সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার আবুল কালাম হাওলাদারের মেয়ে রুনা বেগমের বিয়ে হয়। দুদিন আগে রুনা বেগমকে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। পরে বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কনেপক্ষ থেকে ৪৮ জন সেই অনুষ্ঠানে যান। তারা খাবার খেতে বসেন। খাবারের একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন মাংস কম দেওয়ার অভিযোগ করেন।

এ নিয়ে বরপক্ষের লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। ক্রমে তা হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে বরের চাচা আজহার মীর ঘটনাস্থলেই মারা যান। এদিকে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ঘটেছে আরেক কাণ্ড! বিয়ের আসরে সেজেগুজে বসে রয়েছে নবদম্পতি। জমকালো

বিয়ে বাড়িতে অতিথিরা আসছেন। দেখা করছেন আর নবদম্পতির হাতে তুলে দিচ্ছেন উপহার। কেউ দোয়া করছেন আবার কেউ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তবে এর মধ্যেই ঘটল অবাক করার মতো ঘটনা। বরের হাতে তুলে দেওয়া হল একে ফোরটি সেভেন। তবে কাউকে খুন-হত্যা করতে নয়। বিয়ের উপহারস্বরূপ বরের হাতে এটা তুলে দেওয়া হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে আচমকাই এক নারী বরের হাতে তুলে দিলেন একে ফর্টি সেভেন রাইফেল।

এই যে আমরা আমেরিকা যাওয়ার জন্য এতো উদগ্রীব, এখন তো মনে হচ্ছে সেই দেশটি অনিরাপদ হয়ে উঠছে। যেমনটি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে অনিরাপদ হয়ে উঠছে যুক্তরাজ্যও। তবে করোনাকালেও করোনাভাইরাসের তা-বের মধ্যেও ভ্রমণের জন্য বিশ্বের ৬টি দেশ নিরাপদ বলছে উইগো ট্র্যাভেল ব্লগ। সেই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নাম। এর পরেই রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের নাম।

তালিকার চার, পাঁচ ও ছয় নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে জাম্বিয়া, কিউবা ও সৌদি আরব। এই যে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা করোনাকাল পার করছি নানা দুশ্চিন্তা এসে ভর করছে। কী লাভ এতো এতো দুশ্চিন্তা করে। ছোটজীবন আনন্দে বাঁচাটাই তো মঙ্গল। এজন্য এতো বেশি টাকা না জমিয়ে কিছু টাকা হলেই দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো উচিত। কিন্তু এই করোনাকালে তো ট্যুরিস্ট ভিসা নেই বললেই চলে। তাহলে উপায়, বিনোদনের অনেক রাস্তাই বন্ধ। ইন্টারনেটই ভরসা! চলো তবে নটি আমেরিকা খুলে বসি!

শান্তনু চৌধুরী : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক