সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭

মামলার ফাঁদ: ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের কান্না থামছে না

প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২১, ৭:০৪ অপরাহ্ণ


মোহাম্মদ রফিক : ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ৪ ধারার নোটিশ জারির পর জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার চাওয়া ছাড়া কেউ কোনো মামলা করতে পারবেন না। এমন আইনী বিধানকে সামনে রেখে ২০১৯ সালের ২১ মে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। কিন্তু উক্ত বিধান অনুসারে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার না চেয়ে মামলা দায়ের করছে ভূমিদস্যু একাধিক চক্র। উক্ত চক্রে আছে রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী টাউট ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তা। অতি সম্প্রতি সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

অভিযোগ আছে, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ৮ ধারা (পূর্বের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ৭ ধারা) নোটিশ জারির পর মানুষকে হয়রানির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একাধিক চক্র টাইটেল মোকদ্দমা দায়ের করছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব মামলার কারণে একদিকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, অপরদিকে জমির প্রকৃত মালিকেরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম নগরে এমনই একটি চক্রের করা মামলার ফাঁদে পড়ে অন্তত দেড় হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে আদালতের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন ৫ বছর ধরে। যেসব প্রকৃত ভূমি মালিক ক্ষতিপূরণের ৪০-৫০ শতাংশ টাকা হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তিতে আসছে, তাদেরকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে চক্রটি। পরে আদালতের হলফনামা জমা দিয়ে ওই চক্রটি ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে তুলে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারির পরও থেমে নেই চক্রগুলোর টাইটেল মামলার ফাঁদ। এলএ শাখা সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ২১ মে থেকে অদ্যাবধি চট্টগ্রাম শহর ও জেলা এলাকায় ৭টি মেগা প্রকল্পসহ ১২০টি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অন্তত তিন শতাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার কারণে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে পড়ে আছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারির পরও কেন মামলার বিষয়টি আমলে নেওয়া হচ্ছে-জানতে চাইলে এলএ শাখার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (১) নাজমা বিনতে আমিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র দিয়ে পরিস্থিতি কাভার দেওয়া যাচ্ছে না। এজন্য ‘ভূমি অধিগ্রহণ বিধিমালা-২০২০’ নামে একটি প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি কার্যকর করা হলে জমির প্রকৃত মালিকদের ভোগান্তি কমে আসবে।’

এদিকে নগরের হালিশহর, উত্তর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা মৌজায় সরকারের পাঁচটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা কয়েকশ’ একর জমি নিজেদের দাবি করে ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন এমইউএম আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। উক্ত পাঁচ মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের জমির ক্ষতিপূরণ দাঁড়ায় ৭৫২ কোটি টাকায়।

সরকারি কোষাগারে ৭৫২ কোটি টাকা পড়ে থাকলেও মালিকানার বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষতিপূরণের টাকাও পরিশোধ করতে পারছে না ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। এই দুর্ভোগের জন্য ভুক্তভোগীরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কিছু কর্মকর্তাকে দুষছেন।

চট্টগ্রাম জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী রফিকুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, সংবিধানের ৪২ (২) অনুচ্ছেদে ক্ষতিপূরণসহ বাধ্যতামূলকভাবে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আদালতে কোনও প্রশ্ন উত্থাপন বা মামলা না করার বিষয়ে বলা হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ এর ৪৭ ধারায় অধিগ্রহণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা না করার বিষয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে।

তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনের ৪ ধারা (পূর্বের আইনের ৩ ধারা) এবং ৮ ধারা (পূর্বের আইনের ৭ ধারা) নোটিশ জারির পর আর কোনো অভিযোগ গ্রহণের সুযোগ নেই বিধায় আইনের ৪৭ ধারা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করে ২০১৯ সালের ২১ মে পরিপত্র জারি করেছিল ভূমি মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে নগরের পতেঙ্গা ও হালিশহর এলাকার তিন মৌজায় প্রায় দেড় হাজার একর জমির মালিকানা দাবি করে এইউএম আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি চট্টগ্রামের তৃৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অপর মামলা (৭৫৪/১৫) দায়ের করেন। মামলাটি চলমান থাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না।
ভূমি হুকুমদখল কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ৬ মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ প্রদান করেন। আজও তা নিষ্পত্তি হয়নি। পৃথক সাতটি জমি অধিগ্রহণ (এলএ) মামলা মূলে পাঁচটি মেগা প্রকল্পের জন্য চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা, হালিশহর ছাড়াও আনোয়ারায় একটি মেগা প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে প্রায় ৩০০ একর জমি।

মেগা প্রকল্প হলো-বে টার্মিনাল, নৌবাহিনীর উল্কা ঘাট প্রকল্প, এলএনজি পাইপ লাইন (জিটিসিএল প্রকল্প), কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প এবং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল।
এসব প্রকল্পের জন্য জমির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা গেছে ৪০১ কোটি টাকা। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৭৫২ কোটি বিলি করা সম্ভব হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী উত্তর পতেঙ্গার বাসিন্দা খালেদ শরীফ জানান, এলএনজি প্রকল্প আওতায় তার মালিকানাধীন সাড়ে ৩ শতক জমি অধিগ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। জমির ক্ষতিপূরণ এসেছে প্রায় ৭৫ লাখ। ৮ ধারায় নোটিশ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে এলএ শাখা থেকে বলা হয় ‘সংশ্লিষ্ট দাগের বিপরীতে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে আদালতে মামলা আছে। তাই টাকার চেক দেওয়া যাবে না।’

পরিচয় গোপন রেখে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাইলে এলএ শাখার এক কর্মকর্তা বিষয়টির সমাধান করতে হলে মামলার (৭৫৪/১৫) বাদি কথিত ভূমি মালিক এমইউএম আবুল হোসেনের মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে প্রতিবেদক নগরের সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় এমইউএম আবুল হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে গেলে ক্ষতিপূরণের ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধের গ্যারান্টি দিলে তিনি খালেদ শরীফের সাড়ে তিন শতক জায়গার মালিকানা দাবি প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জানান।

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াদুদ জানান, নগরের উত্তর কাট্টলী মৌজায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ লাইন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য কিছু জমি অধিগ্রহণ করে সরকার (এল ২৩/১৭-১৮)। এ মৌজার অধীন বিএস ৫৮৬৬ এবং ৫৮৪০ দাগে মোট জমি ৩৮ শতক। দুটি দাগের আন্দর ৩৩ শতক জমির মালিক ওয়াদুদ। কিন্তু ২০১১ সালে চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী জজ তৃতীয় আদালতে সত্ত্ব ঘোষণার মামলা (৩৫/১১) করেন দোলন কুমার গুহ নামের এক ব্যক্তি। মামলা থাকায় জমির ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে অস্বীকার করে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা।

২০১৮ সালের মে মাসে আরমান নামে এক দালাল বাদি দোলন কুমার গুহ মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মর্মে একটি সহিমুহুরি নকল ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় নিয়ে আসেন। কর্মকর্তারা যাচাই করে দেখেন, মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত ওই নকলে বাদির সই ও ছবি জাল করা হয়েছে।

জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা বাগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এরমধ্যে কেউ আদালতে মামলা ঠুকে দিয়ে, কেউ দলিল বা খতিয়ান টেম্পারিং করে প্রকৃত জমির মালিকদের সর্বশান্ত করছে।
সংস্থাটির এ কর্মকর্তা জানান, প্রভাবশালী উক্ত চক্রে আছে এক শ্রেণীর আইনজীবী, সরকারি দলের নেতাসহ বেশ কিছু টাউট। ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয় ঘিরে গড়ে উঠা এ চক্রের দৌরাত্মে অতিষ্ঠ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। এ চক্রে আছে সরওয়ার, মোজাম্মেল, আরমান, ইকবাল, আশীষ, মিঠুন, সুমন, চেইনম্যান নজরুল, সার্ভেয়ার দীপু ও জাহাঙ্গীর, আহমদ নবী।

এর মধ্যে চেইনম্যান নজরুল ২০১৯ সালে গ্রেফতার হন। চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা ও কোটি টাকার চেকসহ তাকে গ্রেফতার করেছিল দুদক। আহমদ নবী জেলা প্রশাসনে নিজেকে ‘ক্ষমতাধর’ ব্যক্তি হিসেবে প্রচার করেন। চক্রে আছে সরকারি দলের মহানগর শাখার মাঝারি থেকে শুরু করে শীর্ষ পদে থাকা অনেক নেতা। আছে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর কাছের কিছু লোকজনও।

বিষয়টি স্বীকার করে সদ্য বিদায়ী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, এলএ শাখা ঘিরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে তাদের অপতৎপরতা বন্ধে বিভিন্ন সময় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের টাকা কখন ছাড় হবে সে সময়ের জন্য চক্রটি ওঁৎ পেতে থাকে। একটি এলএ কেইস (ভূমি অধিগ্রহণ মামলা) ম্যাচিউর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে টাকা গ্রহণের জন্য ৮ ধারার নোটিশ করা হয়। এসময় চক্রটি বেশ সক্রিয় হয়ে উঠে। ৮ ধারার নোটিশ জারির পর চক্রটি তথ্য নিয়ে জমির মালিকের খোঁজে মাঠে নামে। এরপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণের টাকা হাতিয়ে নিতে নানা ফন্দি করে।

তবে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের ২১ মে জারি করা পরিপত্র অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন।

২০১৯ সালের ২১ মে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) বদিউল আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ৪ ধারার নোটিশ জারির পর সংঘবদ্ধ একাধিক চক্র মামলা দায়েরের কারণে প্রকৃত জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের ভোগান্তি দূর করতে শিগগিরই আসছে ‘ভূমি অধিগ্রহণ বিধিমালা-২০২০’। এ বিধিমালা কার্যকর হলে ৪ ধারার নোটিশ জারির পর অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকানা নিয়ে কারো দাবি বা মামলার বিষয়টি এলএ শাখায় গ্রহণ করা হবে না।’

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মামলার ফাঁদে আটকে দেওয়ার পর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া সাপেক্ষে জমির প্রকৃত মালিককে ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে ৪০-৫০ শতাংশ ‘কমিশন’ চক্রটিকে দিতে হয়েছে। অধিগ্রহণের চেক গ্রহণের আগে ‘কমিশনের’ চেক দিয়ে দিতে হয়েছে তাদের। পরে সার্ভেয়ার, কানুনগো ও কিছু অধিগ্রহণ কর্মকর্তার মধ্যে এ টাকার ভাগ হয়েছে।

সম্প্রতি, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একটি উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিপূরণ পাওয়া একাধিক লোকের সঙ্গে কথা বলে সংস্থাটি। সংস্থাটির তথ্য মতে, ভূমি অধিগ্রহণের নোটিশ পাওয়ার পর থেকে এলএ শাখার সার্ভেয়ার, কানুনগো ও অফিস সহকারীর পাশাপাশি ‘মামলাচক্র’-এর সাথে তাদের অলিখিত চুক্তি করতে হয়েছে। ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ঘাটে ঘাটে। এর আগে ঠিকভাবে জমির সব কাগজপত্র দেখিয়ে থাকলেও খুঁঁত খুঁঁজতে থাকেন সার্ভেয়ার ও কানুনগোরা। পরে চক্রের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে হয়েছে তাদের।