চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগড়ার সরকারদলীয় সাংসদ ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীর শ্বশুর জামায়াতের সুরা সদস্য মোমিনুল হক চৌধুরীকে অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের নেতারা।
বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে তারা এই দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংসদ নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীর বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা।
সাতকানিয়া উপজেলা কমান্ডের কমান্ডার আবু তাহের এলএমজি তার বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধকালীন আলবদর কমান্ডার জামায়াতের সুরা সদস্য যুদ্ধাপরাধী মোমিনুল হকের কন্যা, সাতকানিয়ার সাংসদ-পত্নী রিজিয়া রেজা চৌধুরী একুশে ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, তার বাবা যুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বক্তব্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চরম অবমাননাকর। এটি সুকৌশলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের চরম বিকৃতির অপচেষ্টা। তাকে যুদ্ধাপরাধের মামলা ও শাস্তি থেকে বাঁচাতেই এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই মোমিনুল হক চৌধুরী চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে নিজামীর জানাজায় জামায়াত-শিবিরকে একত্রিত করেছিলেন। তার নির্দেশে ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল আহম্মদ সৈয়দ ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কাঞ্চনার বুদ্ধিজীবী রায় বাহাদুর কামিনী ঘোষসহ ১৮ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে আটজনকে কামিনী ঘোষের ভিটায় এবং ১০ জনকে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামে আলবদর, আল শামসের অপারেশন কমান্ডার। একাত্তরের ৩ ডিসেম্বর সাতকানিয়া উপজেলার বিএলএফ কমান্ডার মনির আহম্মদ রাজাকার শিরোমনি মোমিনুল হক চৌধুরীসহ ২৭ রাজাকারকে ছোট পুকুরিয়ায় বাঁশখালীর গ্রুপ কমান্ডার শফির কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, বাংলার মাটিতে রাজাকারের ঠাঁই হবে না। মানবতাবিরোধী আল শামস কমান্ডার মোমিনুল হক চৌধুরীর মেয়ে রিজিয়া রেজা চৌধুরী সাফাই গেয়ে বলেছেন, তার বাবা যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তিনি আসলে এসব মিথ্যাচার করে বাবার অপকর্ম ঢাকতে চেয়েছেন। আমরা মোমিনুল হক চৌধুরীর যুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপকর্মের বিচার এবং তাকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে এ ধরনের অপকর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে যুদ্ধকালীন ১ নম্বর সেক্টরের অধীন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটগুলোর কমান্ডাররাসহ বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিজিয়া রেজা চৌধুরী বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে যারা মনোনয়ন পাননি তারাই এধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যেন আগামী সংসদ নির্বাচনে নদভী মনোনয়ন না পান। প্যারেড মাঠে নিজামীর জানাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এসময় তার বাবার বয়স হয়েছে, তিনি খুবই অসুস্থ বলে জানান সাংসদপত্নী রিজিয়া রেজা।