একুশে প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর- দেশে ইয়াবা উদ্ধারে কাজ করে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর এসব ইউনিট। নিয়মিত ইয়াবা উদ্ধারে এসব ইউনিট সামর্থ্য প্রমাণও করছেন যে যার মত করে। তবে পাঁচটি ইউনিট একই ইয়াবা উদ্ধার করলেও সবচেয়ে ‘দামি’ ইয়াবা উদ্ধার করছে এলিট ফোর্স র্যাব!
র্যাবের উদ্ধারকৃত প্রতি পিস ইয়াবার মূল্য ৫০০ টাকা। আর একই ইয়াবা উদ্ধার করলেও অন্যান্য সংস্থার উদ্ধার করা ইয়াবা ছুঁতে পারেনি র্যাবের ইয়াবার দাম।
একই ইয়াবা উদ্ধার করলেও দামে এত অমিল কেন জানতে চাইলে র্যাব ৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ইয়াবা উদ্ধারের পর আমরা প্রতি পিস ইয়াবা দাম দেখাই ৫০০ টাকা করে৷ এটা আনুমানিক একটা মূল্য। উদ্ধার করা ইয়াবা তো আমরা আর বাজারে বিক্রি করি না। তবুও দামের হেরফেরের বিষয়টি আমি দেখছি।’
সংবাদমাধ্যমে ইয়াবা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার পাঠানো প্রেস রিলিজ এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা নিয়ে বিভিন্ন সময় করা প্রেস ব্রিফিং পর্যালোচনা করে দেখা যায়, র্যাব তাদের উদ্ধার করা ইয়াবার মূল্য সবসময়ই প্রতি পিস ৫০০ টাকা করে দেখায়।
সর্বশেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি তাদের দাপ্তরিক মোবাইল থেকে পাঠানো এসএমএসেও আনোয়ারা থেকে এক লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়। উক্ত ক্ষুদেবার্তায় সেই ইয়াবার মূল্য দেখানো হয় ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পিসের মূল্য ৫০০ টাকা।
এদিকে, পিস প্রতি ৩০০ টাকা করে দাম দেখানো হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) উদ্ধার করা ইয়াবার। তাদের ওয়েবসাইটে রেজু আমতলী বিওপি’র একটি অভিযানে এক লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানানো হয়। উদ্ধারকৃত এসব ইয়াবার মূল্য লেখা হয় তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পিসের দাম ৩০০ টাকা।
একই মূল্য দেখানো হয় পুলিশের উদ্ধার করা ইয়াবার। ২০২০ সালরে ২৩ জুলাই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থকেে উদ্ধার করা হয় ৫৫ হাজার ইয়াবা। উদ্ধারকৃত সেই ইয়াবার মূল্য এক কােটি ৬৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেন সাতকানিয়া র্সাকলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্যা। র্অথাৎ প্রতি পিসের মূল্য ৩০০ টাকা।
পুলিশের চেয়ে মূল্য কিছুটা বেশি দেখানো হয় কোস্টগার্ডের উদ্ধার করা ইয়াবার। কোস্টগার্ডের উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মূল্য দেখানো হয় ৩৭০ টাকা। ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের ছেঁড়াদিয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উপকূল থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা সেই ইয়াবার বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকা বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে তখন দাবি করেন টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। সে হিসেবে প্রতি পিসের দাম পড়ে ৩৭০ টাকা।
তবে সবচেয়ে কম দামি ইয়াবা উদ্ধার করে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের উদ্ধার করা ইয়াবার মূল্য দেখানো হয় প্রতি পিস ১৭৫ টাকা। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর টেকনাফ থেকে ৫৭ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এসব ইয়াবার মূল্য এক কোটি টাকা বলে সংবাদ মাধ্যমকে তখন জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ জোনের সহকারী পরিচালক মোস্তফা মুকুল। অর্থাৎ প্রতি পিস ইয়াবার মূল্য প্রায় ১৭৫ টাকা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধার করা ইয়াবার দাম নির্ধারণে গড়মিল কেন, প্রশ্ন করলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। তবে এ মূল্যের সাথে মামলার সম্পর্ক নেই। আমার জানা মতে, পুলিশ সদর দপ্তর প্রতি পিস ইয়াবার মূল্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।’
একই প্রসঙ্গে কোস্টগাড পূর্ব জোনের অধিনায়ক লে. কমান্ডার হাবিবুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আগে আমরা উদ্ধার করা প্রতি পিস ইয়াবার দাম ৫০০ টাকা দেখাতাম। সদর দপ্তরের বেধে দেওয়া দাম অনুযায়ী ২০১৯ সালের আগস্ট মাস থেকে প্রতিপিস ইয়াবার দাম দেখানো হচ্ছে ৩০০ টাকা।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাদের বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার করা প্রতিপিস ইয়াবার দাম দেখায় ১৭৫ টাকা। অন্যান্য সংস্থা থেকে এত কম দেখানো হয় কেন, প্রশ্ন করলে সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন) কুসুম দেওয়ান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়মেই প্রতিপিস ইয়াবার মূল্য দেখানো হয়ে থাকে। এটার সাথে মামলার কোনও সম্পর্ক নেই।’