শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

সপরিবারে কানাডায় পালানো ব্যবসায়ী তায়েবুরের স্ত্রী কঠোর গোপনীয়তায় চট্টগ্রামে!

প্রকাশিতঃ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১, ১০:১৩ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ রফিক : কোটি কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের মামলায় সপরিবারে কানাডায় পালিয়ে থাকা চট্টগ্রামের সেই ব্যবসায়ী এএনএম তায়েবুর রশিদের স্ত্রী আসমা কামরুন কঠোর গোপনীয়তায় চট্টগ্রাম আসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ১৪৮ নম্বর ফ্লাইটে দুবাই থেকে তার চট্টগ্রামে আসার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামে এসে তিনি উঠবেন নগরের ১৫-১৬ জাকির হোসেন রোডে এটিএম রবিউল হোসেনের ‘টুইন হাউস’ নামে একটি বিলাসবহুল বাড়িতে। বাড়িটি তার বাবার। মামাতো ভাই শৌখিক মাজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি আসছেন দুবাই থেকে। কিছু দিন আগে তায়েবুর রশিদ সপরিবারে কানাডা থেকে দুবাই আসেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ, এবি ব্যাংকের টাকা লুটের টাকায় কানাডায় আয়েশি জীবনযাপন করছেন তায়েবুর ও তার স্ত্রী আসমা। কানাডা ছাড়াও দুবাইতে আছে তায়েবুরের ব্যবসা। ২০১৫ সাল থেকে তায়েবুর স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে কানাডায় বসবাস শুরু করেন। গত বছর দুদক মামলা দায়েরের আগে কানাডায় পালিয়ে যান তায়েবুর রশিদ। এদিকে মামা শ্বশুরের ছেলে শৌখিক মাজেদের বিয়েতে তায়েবুর নিজে না এলেও তার স্ত্রী আসমা কামরুন একাই আসছেন কাল। আসমার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, আজ বুধবার কনের গায়ে হলুদ, আগামীকাল বর শৌখিকের গায়ে হলুদ খুলশীতে। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রীমা কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে এবং ২০ ফেব্রুয়ারি লেডিস ক্লাবে ঘটা করে বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চারদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানমালার তিনটি অনুষ্ঠানেই আসমা কামরুনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সুত্রগুলো জানায়, কিছুদিন আগে সপরিবারে কানাডা থেকে দুবাই আসেন তায়েবুর রশিদ। অর্থপাচার করে দুবাই ও কানাডায় বিত্তবৈভব গড়ে তুলেন তায়েবুর ও তার স্ত্রী আসমা। চট্টগ্রামের খুলশিতেও আছে তাদের একাধিক অভিজাত ফ্ল্যাট, বাড়ি-গাড়ি।

জানা যায়, কানাডায় পালিয়ে থাকা তায়েবুর রশিদ সেখানে পাচার করা টাকা দিয়ে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেন। টরন্টোর ‘বেগমপাড়ায়’ রয়েছে তার বিলাসবহুল বাড়ি। ব্যাংক লুটের টাকা কানাডায় পাচার করে সেখানে সপরিবারে আয়েশি জীবনযাপন করছেন তায়েবুর রশিদ ও তার স্ত্রী আসমা।

জানা গেছে, গত বছর ২৬ নভেম্বর এবি ব্যাংকের অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে ২৩৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২১ জন সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে করা মামলায় (নম্বর ২১) ১৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিদেশে পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগে ২৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন- ব্যবসায়ী এএনএম তায়েবুর রশিদ, মো. লোকমান হোসেন, ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক, সাবেক এমডি মশিউর রহমান চৌধুরী, সাবেক পরিচালক এম এ আউয়াল, ফাহিম উল হক, মো. ইমতিয়াজ হোসেন, ফিরোজ আহমেদ, সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন, শিশির রঞ্জন বোস, বিবি সাহা রায় ও মো. মেজবাউল হক, ডিএমডি সাজ্জাদ হোসেন, কর্মকর্তা মো. শাহজাহান, মো. আরিফ নেওয়াজ, কাজী আশিকুর রহমান, কাজী নাসিম আহমেদ, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সালমা আক্তার, শামীম আহমেদ চৌধুরী, মো. শাহজাহান, মো. আমিনুর রহমান ও সরফুদ্দিন আহমেদ।

আজ বুধবার ১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দক্ষিণ খুলশি জাকির হোসেন রোডের পাশে সেই ‘টুইন হাউস’ বাড়িটি ঘিরে চলছে শৌখিকের বিয়ের আয়োজন। দেখা গেছে, লাল ইটের গাঁথুনিতে তৈরি ডুপ্লেক্স টাইপের পাশাপাশি দুটি বাড়ি। ভেতরে ডেকরেশনের ২-৩ জন কর্মচারী সামিয়ানা টাঙাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করে ওই বাড়িটির এক নিরাপত্তাকর্মী একুশে পত্রিকাকে জানান, কাল বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠান আছে। চলছে খাবার-দাবারের আয়োজন৷ বিয়ের আনন্দে সামিল হতে কানাডা প্রবাসী মামাতো বোন আসমা কামরুন কাল দুবাই থেকে এ বাড়িতে আসছেন বলেও জানান ওই নিরাপত্তাকর্মী।