শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

অস্ট্রেলিয়ায় ফেসবুকে খবর শেয়ার করা বন্ধ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১, ২:১৭ অপরাহ্ণ


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : ফেসবুকে খবর পড়া কিংবা শেয়ার করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। অস্ট্রেলীয় সরকারের প্রস্তাবিত একটি আইনের প্রতিবাদে ফেসবুক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একে ফেসবুকের ‘ভুল, অহেতুক এবং জবরদস্তির’ বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সরকার।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেশটির নাগরিকদের। তারা ফেসবুকে কোন নিউজ কন্টেন্ট শেয়ার এবং কিংবা পড়তে পারছেন না। এর ফলে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গণমাধ্যমগুলোর নিজেদের ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশের পর তা প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। তবে আজ সকাল থেকেই অস্ট্রেলীয়রা দেশী-বিদেশী কোন খবরই ফেসবুকে দেখতে পাচ্ছেন না। এমনকি দেশটির বিভিন্ন জনপ্রিয় খবরের কাগজগুলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজগুলোতেও আর কোন নিউজ লিংক পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকেও এসব সংবাদ প্রতিষ্ঠানের পেজ দেখা যাবে না।

এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য, জরুরি সেবা ও অন্যান্য খাতেরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজও বন্ধ হয়ে যায়। তবে পরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়, নিউজ সাইটের পেজ বন্ধ করতে গিয়ে ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

মূলত, কোন নিউজ কন্টেন্ট ফেসবুক বা গুগলের মতো প্লাটফর্মগুলোতে শেয়ার করার জন্য সেই সব প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে এমন বিধান রেখে একটি প্রণয়ন করছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল বুধবার এই আইন দেশটির নিম্নকক্ষে পাসও হয়েছে। তবে এর বিরোধিতা করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এই আইনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোকে অন্যায্যভাবে ‘সাজা’ দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘আইনটিতে দুটি তিক্ত বিকল্প বেছে নিতে বলা হয়েছে। এর একটি হল- ওই আইনকে মেনে নেওয়া, যেখানে পারস্পরিক সম্পর্কের বাস্তবতাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। অন্যটি হল অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের কার্যক্রম থেকে নিউজ কন্টেন্ট প্রদর্শন বন্ধ করা। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা পরেরটি বেছে নিয়েছি।’

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী পল ফ্লেচার বলেন, নিজের সুনাম ও অবস্থানের ক্ষেত্রে ফেসবুকের ওই পদক্ষেপ কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে খুব মনোযোগের সঙ্গে ভাবা উচিত।