চট্টগ্রাম: রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাদের তৈরি অস্ত্র ব্যবসায়ীর তালিকায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে রেখেছে বলে দাবি করেছেন সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। এসময় আবুল হাশেম বক্কর উপস্থিত ছিলেন না।
গত ৭ মার্চ চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি দৈনিকে আবুল হাশেম বক্করসহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের কয়েকজননেতা অস্ত্র ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অস্ত্র ব্যবসায়ীদের তালিকাটি একটি গোয়েন্দা সংস্থা তৈরী করার পর তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের কাছে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি নেতা এস কে খোদা তোতন, শাহ আলম, শওকত আজম খাজা ও টিংকু দাশ অস্ত্র ব্যবসায় যুক্ত আছেন।
এই সংবাদের প্রতিবাদ করে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আবুল হাশেম বক্কর একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। সরকারকে নিয়মিত কর দেন। ১৯৭৯ সাল থেকে বক্কর ছাত্রদল ও পরবর্তীতে যুবদলের সঙ্গে যুক্ত আছেন। রাজনীতিতে কর্মীবান্ধব এবং তৃণমূল পর্যায়ের একজন সাহসী সংগঠক বক্কর। উদ্দেশ্যমূলকভাবে বক্করকে অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া স্বেছাসেবক দল নেতা এস কে খোদা তোতন, সাবেক ছাত্রদল নেতা টিংকু দাশ, শাহ আলম, শওকত আজম খাজার নামও উদ্দেশ্যমূলকভাবে তালিকায় রাখা হয়েছে। অথচ চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সরকারদলীয় সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা যেভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করছে, তাদের কোন বিচার হচ্ছে না।
বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম অস্ত্র ব্যবসায়ীর তালিকা থেকে বাদ দেয়া না হলে রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দিন, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, যুবদল সভাপতি কাজী বেলাল ও সাধারন সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দীপ্তি প্রমুখ।