শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

জাতীয় পত্রিকার কৃপণতায় নাছিরের আক্ষেপ

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) কর্মকাণ্ড বা অর্জনগুলো জাতীয় পত্রিকাগুলোয় প্রত্যাশিত কাভারেজ পাচ্ছে না দাবি করে এ নিয়ে আক্ষেপ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র এবং সিজেকেএস’র সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

‘মুজিব শতবর্ষ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২১’ আয়োজন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উক্ত মন্তব্য করেছেন।

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে গড়াচ্ছে এ টুর্নামেন্ট। আ জ ম নাছির উদ্দীন আক্ষেপ করে বলেন, “চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে সিজেকেএস সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে দিচ্ছে। জাতির জনকের জম্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে অন্যান্য জেলার ক্রীড়া সংস্থাগুলো একটি ফুটবল বা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে কিনা আমার জানা নেই। এক্ষেত্রে সিজেকেএস ব্যতিক্রম।

চট্টগ্রামের প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠকদের নামে দল গঠন করে সংস্থাটি আয়োজন করেছে ‘মুজিব শতবর্ষ টি-২০ ক্রিকেট-২০২১’। এ টুর্নামেন্টে কোনো স্পনসর যুক্ত না করে বঙ্গবন্ধুর সম্মানে নিজস্ব তহবিল থেকে সিজেকেএস ব্যয় করছে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। এর আগে একইভাবে সিজেকেএস আয়োজন করেছিল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। কিন্তু সিজেকেএস’র এসব কর্মকাণ্ড চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকায় গুরুত্ব পেলেও প্রত্যাশিত কাভারেজ পাচ্ছে না জাতীয় পত্রিকায়গুলোয়।

নাছির বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামে দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় পত্রিকাগুলোর ব্যুরো প্রধানদের নিয়ে বসব। প্রয়োজনে ঢাকার সব জাতীয় পত্রিকার অফিসে যাব। তাদের কাছে জানতে চাইব চট্টগ্রামের কী অপরাধ ? চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় পত্রিকা আয় করছে কোটি কোটি টাকা। অথচ আমাদের অর্জনগুলো সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আমার খুব দুঃখ লাগে।’

সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আরও বলেন, “উন্নয়নের ‘স্বর্ণদুয়ার’ চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মতো চট্টগ্রামে ফুটবল, ক্রিকেট, বিলিয়ার্ড, টেবিল টেনিস, এথলেটিক্স, স্নুকার, দাবা ইত্যাদি প্রচলিত রয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক খেলার মধ্যে রয়েছে জব্বারের বলীখেলা, কুস্তি ও নৌকাবাইচ এখনও চালু আছে। গ্রামাঞ্চলে বৈচি, ডাংগুলি এখনো দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের খেলোয়াড়দের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। দেশের বাইরে থেকে সুনাম আনার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

আইসিসি ট্রফি জেতা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দলনেতা ছিলেন চট্টগ্রামের আকরাম খান। কমনওয়েলথ গেমস থেকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম স্বর্ণপদক অর্জনকারী চট্টগ্রামের শুটার আতিকুর রহমান। চট্টগ্রামের স্প্রিন্টার মোশাররফ হোসেন শামীম জাতীয় পর্যায়ে ৭ বার ১০০ মিটার স্প্রিন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গণের মূল কেন্দ্র চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। চট্টগ্রামের প্রধান ক্রীড়া সংগঠন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা। চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন ইভেন্টে জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে সিজেকেএস অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে। অথচ এত কর্মযজ্ঞ যে সংগঠনের তা নিয়ে জাতীয় পত্রিকাগুলোয় প্রত্যাশিত কাভারেজ দেওয়া হয় না বলে আক্ষেপ জানান তিনি।

আমার আশা ভবিষ্যতে চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পত্রিকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংবাদকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। – বলেন আ জ ম নাছির।

একুশে/এমআর/এটি