শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

উত্তরটা এখনো খুঁজে বেড়ান চট্টগ্রামের সৌখিন এন্টিক সংগ্রাহক তারেক জুয়েল

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ


একুশে প্রতিবেদক : তোমার মনে বসত করে কজনা-এই উত্তর এখনো খুঁজে বেড়ান বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সৌখিন এন্টিক সংগ্রাহক তারেকুল ইসলাম জুয়েল।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি জামালখান একুশে পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত একুশে আড্ডায় এই উত্তর খোঁজার কথা জানাতে গিয়ে জানিয়েছেন আরও কিছু।

তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা তারেকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে আমি সুফিজম নিয়ে পড়াশোনা করছি। সেরকম একটা বই পড়ছিলাম, আবার সেটা রেখে আমি কিছুদিন আগে কেনা বাদ্যযন্ত্র কাহন বাজাতে শুরু করলাম। দুটো কিন্তু দুই জিনিস। তো আমি বিশ্বাস করি আমাদের মধ্যে একাধিক মানবসত্তা বিরাজ করে। আমার মাঝেও এরকম বেশ কিছু সত্তা আছে, যে কিছুক্ষণ সুফিজমের বই পড়তে চায়, পরক্ষণে কাহন বাজাতে চায়, আবার অ্যানটিক জিনিসপত্রও সংগ্রহ করতে চায়।’

প্রসঙ্গত তিনি বলেন, ‘এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয়েছিল বেশ কয়েকদিন আগে। তার সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম ‘পরিচয়’ মানুষের জন্য কতটা গুরুত্ব বহন করে। তার বাবার একটি কোম্পানি ছিল। যে কোনো একটি কারণে অন্যকোন একজনকে কোম্পানির ডিরেক্টরশিপ দিয়ে দিতে হয়। যার কারণে তার এখন কোনো পরিচয় নেই। তার একটামাত্র ইচ্ছা, তিনি একটি অফিস নিতে চান। তার ট্রেড লাইসেন্সসহ সকল ধরনের বিষয় ঠিকঠাক আছে। তিনি শুধু একটি পরিচয় চান।’

‘পরিচয় না থাকলে যে কঈ কষ্ট, সেটা উনাকে না দেখলে বোঝা যাবে না। তার বাড়ি-গাড়ি সব আছে। শুধু প্রয়োজন পরিচয় দেওয়ার মত একটা আইডেনটিটি। পরিচয় আসলেই অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিজের পরিচয় দেওয়ার মত একটি পরিচিতি তৈরি করা খুব দরকার। এর সেটা তখনই সম্ভব যখন একজন মানুষের কর্ম থাকবে। নিজের ব্যক্তিসত্তা। এটা যার থাকবে না তার পরিচয়ও থাকবে না।’

সেভাবেই নিজের পরিচয় খুঁজে বেড়ান জানিয়ে তারেক জুয়েল বলেন, ‘বইয়ের মাধ্যমে লেখক কী বলতে চেয়েছেন, চিত্রকর্মের মাধ্যমে চিত্রশিল্পী কী বলতে চেয়েছেন, সেটা খোঁজার চেষ্টা করি। ইন্টারেস্টিং মানুষের সাথে পরিচিত হতে চেষ্টা করি। যার নিজস্ব মতাদর্শ আছে, কারো রেফারেন্স দেয় না। নিজের মত প্রকাশ করে। যেমন, দাউদ ভাই আছেন, আজাদ ভাই আছেন, রানু আপা আছেন, বিদ্যুৎ দাদা আছেন- এদের সকলের কাছে আমি নিত্যনতুন ও সৃজনশীল ধারণা পাই। সামনে এগোনোর অনুপ্রেরণা পাই।’

‘আর অ্যান্টিক জিনিসপত্র সংরক্ষণের ব্যপারে যদি বলতে যাই, আমি সেই জিনিসগুলোই সংরক্ষণ করি যেগুলো কোনো না কোনো সময় আমার জীবনের অংশ ছিল। যে জিনিসটার সাথে আমার কখনও সংশ্লিষ্টতা ছিল না, এমন জিনিস আমি সংরক্ষণ করি না।’ বলেন চট্টগ্রামের এই সৌখিন সংগ্রাহক।

একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদারের সাংবাদিকতার ধরন নিয়ে কথা বলেন তারেক জুয়েল; তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্নসময় বিভিন্ন সংবাদকর্মীর সাথে মিশেছি। অনেক সাংবাদিকের সাথে আমার পরিচয় ছিল, আছে। কিন্তু আজাদ ভাইয়ের সাথে পরিচয় হওয়ার পর আমি দেখেছি একজন সাংবাদিক কতটা আন্তরিকতা দিয়ে, সততার সাথে কাজ করতে পারে। বাধাবিপত্তির পরও নিজের লক্ষ্য থেকে পিছুপা না হওয়া একজন আজাদ তালুকদারকে আমি দেখেছি। তাকে দেখার পর সাংবাদিকতার প্রতি ধারণা বদলে গেছে, শ্রদ্ধা বেড়েছে।’ – যোগ করেন তারেক জুয়েল।

একুশে আড্ডায় অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও কর কমিশনার বাদল সৈয়দ, চট্টগ্রামের অতিথি খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার খাদিজা রহমান, একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার, চসিকের প্রাক্তন কমিশনার ও মানবাধিকারকর্মী এডভোকেট রেহানা বেগম রানু, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বারের প্রেসিডেন্ট টিপু সুলতান সিকদার, চট্টগ্রাম আইটি ফেয়ারের সত্ত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম, ডেইলি স্টারের চট্টগ্রাম করসপনডেন্ট মোস্তফা ইউসুফ, লেখক-সাংবাদিক ফয়সাল করিম, জাতীয় বিতার্কিক ইশরাত জাহান ইমা, হিডেন হার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সুনেহরা জহুরা ইসলাম প্রমুখ।