
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদের দাবি করেছেন, চট্টগ্রাম কারাগার থেকে খুনের মামলার আসামী ফরহাদ হোসেন রুবেলের পালানোর ঘটনায় একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে।
কাদের বলেন, ‘যেহেতু আমি তাকে চিনি না, তারও আমাকে চেনার কথা নয়। আমার ধারণা, কেউ তার ব্রেনওয়াশ করেছে। নরসিংদী থেকে থানায় আনা পর্যন্ত সময়ে হয়তো তাকে এই প্রলোভন দেখানো হয়েছে যে, আমার নাম বললে সে মুক্তি পাবে। একটি কুচক্রীমহল সুপরিকল্পিতভাবে রুবেলকে দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’
বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরে একুশে পত্রিকার সাথে মুঠোফোনে এসব কথা বলেন আবদুল কাদের।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সকালে নরসিংদি থেকে গ্রেফতারের পর একইদিন সন্ধ্যায় সিএমপির কোতোয়ালী থানা থেকে আদালতে নিতে গাড়িতে তোলার প্রাক্কালে পুলিশের উপস্থিতিতে একুশে পত্রিকার কাছে ফরহাদ হোসেন রুবেল দাবি করেন সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদেরই তাকে জেল থেকে পালাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে জেল-পালানোর ঘটনায় রুবেল সরাসরি আবদুল কাদেরের নাম উল্লেখ করে একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘তিনি (কাদের) আমাকে জেল থেকে পালাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।’ তাকে জেল থেকে বের করতে আবদুল কাদেরের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন রুবেল।
এদিকে, রুবেলকে পালাতে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টি অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবি করে আবদুল কাদের বলেন, ‘রুবেল নামের এ আসামিকে সাহায্য করেছি বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তাতে আমি নিজেই হতবাক। গতকাল তাকে গ্রেপ্তারের পর আপনাদের একুশে পত্রিকায় পালানোর ‘সাহায্যকারী’ হিসেবে সে আমার নাম বলেছে। বাস্তবে আমি কখনোই তাকে দেখিনি, তাকে চিনিও না। তাকে পালাতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে আমার কোনো স্বার্থ নেই। এই নোংরামিটা কারা করছে, সেটাই আমার বোধগম্য হচ্ছে না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি আমি।’-যোগ করেন কাদের।
আবদুল কাদের বলেন, ‘আমি এর আগেও দীর্ঘদিন জেলে ছিলাম। অনেক বড় মাপের নেতা-কর্মীরা আমার সাথে জেলে ছিলেন। সেসময় আমার খারাপ কোনো রেকর্ড ছিল না। তবে অনেক কারাবন্দী আমার কাছে আসতেন। সাহায্যের জন্য মিনতি করতেন। কিন্তু প্রশাসনের দায়িত্ব তো আমি পালন করতে পারি না। জামিনের বিষয়ে ফয়সালা দেয় আদালত, এখানে আমি সাহায্য করার কে? যেখানে আমি নিজের কর্মীদের কারামুক্ত করতে পারছি না, সেখানে এধরনের দুর্ধর্ষ আসামীকে সাহায্য করার প্রশ্নই আসে না।’
কারাগারে কখনোই রুবেলের সাথে দেখা হয়নি দাবি করে আবদুল কাদের বলেন, ‘কারাগারে আমি সাধারণ ওয়ার্ডে ছিলাম না, রেসট্রিকটেড জোনে থাকতাম। আমাকে কারাগারে পাঠানোর পর প্রথমে সেলে এবং পরবর্তীতে শেখ রাসেল-১ এ রাখা হয়েছিল। আমার ওয়ার্ডটি ছিল একেবারেই আলাদা, কাজেই কারো সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ আমার ছিল না।’
রুবেলের পালানোর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করে কাদের বলেন, ‘এতো নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সে কারাগার থেকে পালিয়েছে সে প্রশ্নের উত্তর কারা কর্তৃপক্ষই ভালো দিতে পারবে। এ দায় নিঃসন্দেহে কারা কর্তৃপক্ষের। সঠিক তদন্ত করলে এ ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে। তবে রুবেলের পালানোর খবরে আমি নিজেই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলাম।’
প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ ভোর ৫ টায় ফাঁসির সেলের পাশে নির্মাণাধীন ৬ তলা ভবনের ৪ তলা থেকে লাফ দিয়ে কারাগার থেকে পালিয়ে যান রুবেল। এ ঘটনায় ওইদিনই সকালে নগরীর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং একইদিন রাতে মামলা করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ।
রুবেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্তে কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগীর মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সুপার ইকবাল হোসেন এবং বান্দরবান জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার ফোরকান ওয়াহিদসহ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কারা অধিদপ্তর। এই ঘটনায় আলাদা একটি তদন্ত কমিটি করা হয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও।
রুবেলের জেল-পালানোর ঘটনায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার আবু সাদাতকে প্রত্যাহার এবং দুই কারারক্ষীকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে।
একুশে/জেআইএস/এটি