শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

সাবেক কাউন্সিলর দম্পতির ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ জীবনগল্প!

| প্রকাশিতঃ ১৫ মার্চ ২০২১ | ১০:০৩ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডবলমুরিং থানা পুলিশ চেক প্রতারণার মামলার আসামি ধরতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর দম্পতি জাবেদ নজরুল ইসলাম-ফারহানা জাবেদের বাসায়। অনেক নাটকীয়তাশেষে দেয়াল টপকে বাসায় ঢোকার পর পরিবারের সদস্যদের ধস্তাধস্তির মুখে কথিত আসামি জাবেদ নজরুল ইসলামের ভাই সাইদুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

পরদিন মামলার কাজগপত্র পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, প্রকৃতপক্ষে চেকের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জাবেদ নজরুলের ভাই সাইদুল ইসলাম নন। এটি অন্য সাইদুল ইসলাম। প্রকৃত আসামির নাম ও পিতার নামের সাথে মিল থাকলেও আটক ব্যক্তির সাথে মায়ের নামের মিল নেই। সেটি জানার পর ‘দুঃখপ্রকাশ’ করে কাউন্সিলর-ভ্রাতাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পুলিশের এমন ভুল, সেই সাথে তীব্র বাধার মুখে কথিত আসামিকে ধরতে গিয়ে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হাতে কিছুটা ব্যথা পান ফারহানা জাবেদ। এরপর পুরো বিষয়টিকে পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’ উল্লেখ করে অনেকের সহানুভূতি আদায় করে নিচ্ছিলেন আলোচ্য কাউন্সিলর দম্পতি।

কিন্তু অভিযানের পূর্বাপর একটি ‘ফোনালাপ’ সেই সহানুভূতিপ্রাপ্তির বিষয়টিকেই এখন নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ঘটনার পরপরই একুশে পত্রিকার হাতে আসা একটি ফোনালাপের অডিওতে দেখা যায়, ৮ মার্চ রাত পৌনে ১২টার দিকে ডবলমুরিং থানার এসআই কিশোর কুমারের নেতৃত্বে আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশ টিম একঘণ্টার মতো অপেক্ষায় থাকার পরও সাবেক কাউন্সিলর দম্পতি বাসার দরজা না খোলায় আরেক এসআই সাইদ আলম জাবেদ নজরুল ইসলামকে দরজা খুলে দিতে টেলিফোনে বারবার অনুরোধ করছিলেন।

সেই ফোনালাপটি একুশে পত্রিকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো –

সাইদ আলম : আপনি একজন কাউন্সিলর, আপনার দুটি পায়ে ধরছি। গেইট খুলবেন না ভাই? আমি দারোগা সাইদ আলমকে আপনি চেনেন, আপনার এখানে আমি চা খেয়ে যাই। আপনার ভাইয়ের সাথে আমি কথা বলবো, সমস্ত অনার করবো। আমার ওসি বলছে আপনাকে অনুরোধ করার জন্য। এরপরও যদি আপনি দরজা খুলে না দেন! আপনি একজন জনপ্রতিনিধি, আমাদেরকে রাস্তায় দাঁড় করাই রাখছেন।

জাবেদ নজরুল : বদ্দা অনর ল হতা হইর তো, অনে আফন মানুষ নয় না? হঠাৎ গরি, অনারা বিপদে বন্ধুর পরিচয়, অনারা তো পরিচিত মানুষ।

সাইদ আলম : ভাই, আমরা পৌনে বারোটার সময় আপনার গেইটে এসেছি। বেশি রাতও হয় নাই। একটা ঘণ্টা দাঁড় করাই রাখছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে, আপনি কেন পুলিশকে অনার করতেছেন না। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধটা কোথায় বলেন ভাই?

জাবেদ নজরুল : অনার তো অনেরারে অবশ্যই গরি। কিন্তু আঁই শুই। বেগগুন শুই গেইগুই।

সাইদ আলম : তো শুই গেলে অনর যদি আজিয়ে মহসিন স্যার আইলে অনে দরজা খুলি নদি ফারিবেন না?

জাবেদ নজরুল : অনে ভাই ননা, ভাই! অনর লই ক্যান, কী গরন ফরিবু ইয়ান হন।

সাইদ আলম : ভাই এটা তো এখন পুলিশ প্রেসট্টিজের বিষয় হয়ে গেছে, আপনি বুঝেন না কেন?

জাবেদ নজরুল : অনে কী সমইস্যা, আঁরে হই এক্কানা হেল্প গরন না?

সাইদ আলম : তো অনে নিছে আইয়্যুন, অনে আইয়্যুন। অনেরে হই!

জাবেদ নজরুল : আঁই অনরতুন হেল্প ফাইন্নফারি?

সাইদ আলম : তো অনেরে আঁই হেল্প ন গরইজ্যুম বলি হইর নে?

জাবেদ নজরুল : ইয়্যানই তো হইর দ্যি। অনর তে সাহাইয্যু ফাইত ফারি তো?

সাইদ আলম :  ভাই আল্লাহর ওয়াস্তে, আল্লাহর ওয়াস্তে, ফর গড সেইক, আপনাকে আমি অনুরোধ করতেছি গেইটটা খুলেন।

এই ফোনালাপটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের অভিযোগটি ভিত্তিহীন রূপ পাওয়ার পাশাপাশি সাবেক কাউন্সিলর দম্পতির বাড়াবাড়ি ও মারমুখি আচরণই প্রকারান্তরে ফুটে ওঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী পুলিশ সদস্যদের সাথে কেন ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করেছেন তার উত্তর খুঁজছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

সিএমপির পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনো রিপোর্ট পাইনি। তবে জাবেদ নজরুল সাহেব পুলিশকে সহযোগিতা করলে এ ঘটনা ঘটতো না।’

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নামের মিল থাকায় পুলিশের ভুল হতে পারে। ভুল বুঝতে পেরে আমরা দুঃখপ্রকাশও করেছি।  কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ফারহানা জাবেদ এ ঘটনাকে পরিকল্পিত এবং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে পুলিশবিরোধী প্রচারণা হিসেবে ব্যবহার করছেন। সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছেন। সাবেক কাউন্সিলর দম্পতি পুলিশের সাথে সেদিন কেন অসৌজন্যমূলক আচরণ করলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওসি মহসীন।

মহসীন বলেন, জাবেদ নজরুল ইসলাম যদি পুলিশকে সহযোগিতা করতেন, স্থির হয়ে কথা বলতেন হয়তো তার বাড়িতে বসেই এই ভুল ধরা পড়তো। কিন্তু উপর্যুপরি অনুরোধের পরও তারা পুলিশকে সহযোগিতার পরিবর্তে সন্দেহজনক আচরণ করায় পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

এদিকে, ঘটনার পর সাবেক কাউন্সিলর ফারহানা জাবেদের আগ্রাবাদ দাইয়াপাড়ার বাড়ি সংলগ্ন মসজিদে ঢুকে মারমুখি আচরণ ও হাতাহাতিতে জড়ানোর আরও একটি ভিডিও একুশে পত্রিকার হাতে এসেছে। ঘটনাটি ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি।

৫৬ সেকেন্ডের ওই ডিডিওতে মসজিদ-সংশ্লিষ্ট স্থানীয় যুবক ওয়াহিদুল আলম রুবেলকে বলতে দেখা যায়, ‘মসজিদের সবকিছু ব্যবহার করস ব্যাটা, মসজিদের জন্য একটাকা খরচ করস না।’  এর ১৭ সেকেন্ড পরই রূদ্রমুর্তি ধারণ করে রুবেলের দিকে তেড়ে আসেন ফারহানা জাবেদ—এই তোঁয়ার কী সমস্যা, কী সমস্যা বলে রুবেলের গায়ে হাত তুলেন তিনি। এসময় ফারহানাকে উদ্দেশ করে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, আপনি কেন আসলেন, আপনি কেন আসলেন! কিন্তু কারো কথা না শুনে মসজিদের মধ্যেই হাতাহাতি, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে শোনা যায় ফারহানা জাবেদকে।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওয়াহিদুল আলম রুবেল একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘দাইয়াপাড়ার মসজিদের জায়গাটি আমার দাদা আব্দুল কাদেরের ওয়াকফ করা সম্পত্তি। মসজিদের মোতোওয়াল্লি আমার বড়ভাই জাবেদ নজরুল ইসলাম৷ মসজিদটি মূল সড়ক থেকে দুই ফুট নিচে। অজুখানাসহ বেশ কিছু সংস্কারমূলক কাজ করা জরুরি ছিল। ২০১৬ সালের ঘটনা। নজু ভাই (জাবেদ নজরুল ইসলাম) লোকজনকে বলাবলি শুরু করে যে, মসজিদের ফান্ডে দুই কোটি টাকা আছে। কিন্তু তিনি নাকি আমার জন্য মসজিদের সংস্কার কাজ করতে পারছেন না। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কখনও মসজিদের কাজ নিয়ে কোন বাধা দেয়নি। কারণ এটি আল্লাহর ঘর। চাইলে যে কেউ এটির উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারে। মসজিদটি সংস্কারবিহীন পড়ে থাকায় সেসময় আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিই অজুখানা ও বৈঠকখানা করব। কাজ চলাকালীন সময়ে একদিন স্যান্ডেল পায়ে মসজিদে ঢুকে আমি এবং আমার ভাইয়ের দিকে তেড়ে আসেন ফারহানা জাবেদ। তিনি কিছু একটা গন্ডগোল করতে পারেন, এ আশংকা থেকে আমি মোবাইলে ভিডিও করা শুরু করি। তিনি (ফারহানা) স্যান্ডেল দিয়ে আমি এবং আমার ভাইকে মারেন। আমাকে জিজ্ঞেস করেন, কার অনুমতি নিয়ে মসজিদের কাজ করছ? উত্তরে আমি বলি এ মসজিদ আমার দাদার গড়া। আমি তার নাতি। এসময় নজু ভাই বলেন ‘আমি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করব। তুমি চাঁদাবাজি করে মসজিদের কাজ করছো। আমি বলেছি, যান মামলা করেন। এরপর আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করতে তারা থানা থেকে পুলিশ নিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার পর তাদেরকে ফারহানা জাবেদের ভিডিওটি দেখাই।

এরপর পুলিশ উল্টো ফারহানাকে তিরস্কার করে বলেন, ‘আপনি কাউন্সিলর ভাল কথা। কিন্তু একজন নারী হয়ে আপনি পায়ে স্যান্ডেল নিয়ে মসজিদে ঢুকে কাজটা ঠিক করেননি। এসময় ফারহানা পুলিশকে বলেন, আমাদের অনুমতি ছাড়া মসজিদের কাজ করতে পারবে না। উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, যিনি মসজিদের কাজ করছেন তিনি তো আব্দুল কাদেরের নাতি। আর মসজিদ উন্নয়নের কাজ যে কেউ করতে পারে।’

২৪ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দা একুশে পত্রিকাকে বলেন, এই দম্পতি সবসময় উচ্ছৃঙ্খল ও মারমুখি আচরণে অভ্যস্ত। ধরাকে সরাজ্ঞান করা, সবক্ষেত্রে জোর-জবরদস্তি খাটানোই তাদের জীবনবোধ। মসজিদের জায়গা দখলে রেখেই ক্ষান্ত নন, সিটি কর্পোরেশনের ৬ ফুট জায়গা দখল করেই বাড়ি বানিয়েছেন তারা। দম্পতির দুজনই কাউন্সিলর থাকার ফলে সিটি করপোরেশন এতদিন সেই জায়গা উদ্ধারের চেষ্টা করেননি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সিটি করপোরেশনের এই নির্লিপ্ততারও সমালোচনা করেন এলাকার মানুষ।

অভিযোগ আছে, নিজেকে এখন উত্তর আগ্রাবাদের আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিলেও একসময় জাবেদ নজরুল ইসলাম জড়িত ছিলেন যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গড়া রাজনৈতিক দল এনডিপিতে। সেই সুবাদে সাকা চৌধুরীর সাথে ছিল সখ্যতা, দহররম-মহররম। সাকা চৌধুরী বিএনপিতে যোগ দিলে জাবেদেরও ঠায় হয় একই তরীতে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাঙ্গুনিয়াস্থ কবর জেয়ারত করতে যান বিভিন্ন সময়। ২০০০ সালে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সাইকেল প্রতীকের ২৪ নং ওয়ার্ডের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন জাবেদ নজরুল ইসলাম। জামায়াত-সম্পৃক্ততারও অভিযোগ আছে জাবেদ নজরুলের বিরুদ্ধে। এছাড়া স্ত্রী ফারহানা জাবেদকে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও দেখা যেত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

৮-১০ বছর আগে জাবেদ নজরুল ইসলাম যে জিপ ব্যবহার করতেন সে জিপটি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও এলাকায় আলোচনা আছে। এক পর্যায়ে চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথেও সখ্যতা গড়ে তোলেন জাবেদ।  এর আগে ২৪ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড থেকে ২০০৫ সালে চসিকের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৬ সালের দিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী জাবেদ নজরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান চশমা হিলের বাসভবনে। বিষয়টি তখন কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রকাশ পায়। প্রকাশিত হয় জাবেদ নজরুলের নামও।

জানা যায়, জাবেদ নজরুলের ভাই আলোচ্য সাইদুল ইসলাম সালাউদ্দিন কাদেরের সাথে হত্যামামলা ও অস্ত্রমামলার আসামি। হত্যামামলায় সালাউদ্দিন কাদের ১ নাম্বার আসামি আর সাইদুল ছিলেন ৩ নাম্বার আসামি। কোতোয়ালী থানার এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন হাজাতবাসও করেন সাইদুল। এছাড়া আপন মামাকে ছুরিকাঘাত করায় সাইদুলের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় আছে আর একটি মামলা।

জানা গেছে, গেল ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনে ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে দলীয় (আওয়ামী লীগ) সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন জাবেদ নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফারহানা জাবেদ। কিন্তু নির্বাচনে দুজনই হেরে যান।

এর আগে দলের মনোনয়ন পেতে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীসহ (বর্তমানে মেয়র) নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার দুয়ারে বেশ দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যায় জাবেদ নজরুলকে। নির্বাচনের আগে হঠাৎ রেজাউল করিমের সাথে বিতর্কিত জাবেদ নজরুলের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অনেকের কাছে ‘দৃষ্টিকটু’ ঠেকলে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রেজাউল করিম কৌশলে তাকে এড়িয়ে চলছেন বলেও জানা গেছে।

জাবেদ নজরুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পুলিশ সেদিন আমাদের সাথে অপেশাদার আচরণ করেছে। আমি বার বার বলেছি-ওয়ারেন্ট দেখান। তারা ওয়ারেন্ট দেখাননি। আমার স্ত্রী ফারহানা জাবেদ সাবেক কাউন্সিলর। তাকেও ওয়ারেন্ট দেখায়নি পুলিশ। ভুল হতে পারে। কিন্তু যে বাসায় থাকেন দুজন সাবেক কাউন্সিলর, সে জায়গায় পুলিশ ভুল করতে পারে ? আমি তো পুলিশকে সহযোগিতার কথা বলেছি। এটা তো চেকের মামলা ছিল। এটা তো মার্ডার কেইস নয়।’ স্ত্রী ফারহানা জাবেদকে শারীরিকভাবে পুলিশ হেনস্থা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। হাতে আঘাত পাওয়ার কথা বলা হলেও এক্সরে রিপোর্টে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জাবেদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রী এখনো মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার হাত ভাঙেনি বটে। কিন্তু থেতলে গেছে।’

একসময় যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অধুনালপ্ত রাজনৈতিক দল এনডিপির সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জাবেদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কখনো এনডিপি’র সাথে জড়িত ছিলাম না। এগুলো মিথ্যা প্রচারণা। আমি যখন কাউন্সিলর ছিলাম, তখন সাকা চৌধুরী কত বিয়েশাদীতে গিয়েছিলেন। সেসময় হয়তো তার (সাকা চৌধুরী) সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল। আমি কোনো সময়, কোনোকালে তার পার্টি করার প্রশ্নই উঠে না। আমি করি আওয়ামী লীগ। তিনি করতেন বিএনপি। আমি উত্তর মেরুতে। উনি  দক্ষিণ মেরুতে। আমি তো সারাজীবন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে রাজনীতি করেছি। জিয়াউর রহমানের আমলে আমি ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম।’ বলেন জাবেদ নজরুল ইসলাম।