
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়ে ফেইসবুকে নানা সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সাংবাদিকদের সম্পর্কে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন।
এর আগে গতকাল সোমবার তিনজন কাউন্সিলর চসিকের প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এ তিনজন হলেন- রামপুরা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন (২৯ ভোট), বাগমনিরাম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন (২৭ ভোট) এবং সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর আফরোজা কালাম (২৬ ভোট)।
প্যানেল মেয়র নির্বাচনের এ ফলাফলকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান, সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ফেইসবুকে লিখেছেন, “হায়রে ভোট! দামি মোবাইল ফোন, শাড়ি চুড়ি, পাজামা পাঞ্জাবি কিংবা কচকচে টাকাই নিয়ামক শক্তি। ইয়াবাই মুখ্য! হায়রে ভোট! হায়রে নগর আমার!”
এ পোস্টে দৈনিক পূর্বদেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার রাহুল দাশ নয়ন লিখেছেন, “চিন্তা করছি প্যানেল যদি শুরু হয় ইয়াবা দিয়ে, শেষ কোথায় হবে?” আরও নানাজন প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন।”
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নবনির্বাচিত প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন একুশে পত্রিকাকে বলেন, “ফেইসবুকে যারা লিখতেছে, তারা পড়ন্ত সূর্যের দালাল। উদীয়মান সূর্যকে পূজা করে মানুষ, পড়ন্ত সূর্যকে করে না।”
তিনি বলেন, ‘আমি ইয়াবা ব্যবসায়ী কিনা প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করুন। দেশের প্রশাসন, পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভালো করেই জানে আমি কী?’
প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়ে ফেইসবুকে নানা সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন বলেন, ‘আমি ফেইসবুক চালাইও না। ফেইসবুক কী। ফেইসবুক কী রাষ্ট্রীয় সম্পদ?’
আলোচনার একপর্যায়ে আবদুস সবুর লিটন একুশে পত্রিকা প্রতিবেদকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
এসময় একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলা করতে আমাকে উপর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি এখন ঢাকায়, আমি নির্দেশটি পেয়েছি। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে আমি মানহানি মামলা করার। আপনি আমার বিরুদ্ধে আরও লেখালেখি করছেন। যেগুলোর কোনও ভিত্তি নেই। আমি এতদিন আওয়াজ করিনি, কারণ কাউন্সিলর ইলেকশন ছিল, আবার প্যানেল মেয়র ইলেকশন ছিল।’
‘কেন মামলা করবেন, আপনাকে নিয়ে তো এখনো কোনো নিউজ হয়নি। তাছাড়া কথা হচ্ছে মাত্র এখনই। নিউজ করার আগেই কেন একুশে পত্রিকা নিয়ে উপর মহলে কথা হচ্ছে, ক্ষোভটা কি তাহলে পরিকল্পিত’ -এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি আবদুস সবুর লিটন।
একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করতে কে নির্দেশ দিয়েছেন জানতে চাইলে লিটন বলেন, ‘এটা কী আপনাকে বলবো?.. আপনি বুঝতেছেন। আমাকে যেহেতু নির্দেশ দেয়া হয়েছে মানহানি মামলা করার জন্য, আমি কার কথা বলতেছি সেটা আপনি জানেন। আপনি সাংবাদিক হলে হা করলে বুঝতে পারবেন কী বলতে চেয়েছি।’
কোন নিউজের কারণে মানহানি হয়েছে- জানতে চাইলে আবদুস সবুর লিটন বলেন, ‘আপনি এখন যেটা বলছেন সেটা মানহানি। যে প্রশ্ন আমাকে করতেছেন সেটা মানহানি। আমি রেকর্ড করতেছি। তাছাড়া আপনি কে? আপনার জানার অধিকার কী?’
একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে ফেইসবুকে আলোচনার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়ার কথা জানালে লিটন বলেন, ‘আরে গণমাধ্যমকর্মীরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে। আমিও গণমাধ্যম একটা চালাই।’
এ কথা বলার পর একুশে পত্রিকার প্রতিবেদক বলেন, ‘আপনি কাকে কী বলছেন জানেন? আপনার এ বক্তব্যের জন্য যদি আমি মানহানি মামলা করি..।’ লিটন বলেন, ‘হ্যাঁ, করেন। মানহানি মামলা করেন।’
ক্ষিপ্ত হয়ে একুশে পত্রিকার প্রতিবেদককে আবদুস সবুর লিটন আরও বলেন, ‘আমি বুঝতেছি, আপনার মাথাটা নষ্ট আছে। আপনি পাগল।’