শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

করোনার মধ্যেই বিএসআরএম’র ফ্রোবেল একাডেমিতে পাঠদান!

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ২৪, ২০২১, ১:৫৮ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ রফিক : সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মাঝেও চট্টগ্রামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ফ্রোবেল একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার অভিযোগ ওঠেছে।

গত কয়েকদিন ধরে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে এবং স্থানীয় একাধিক সূত্রে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি।

২০১৭ সালে আগস্ট মাসে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অনন্যা আবাসিক এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে দেশের ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী পাঠদানে অংশ নিচ্ছে। তারা সকাল ১০টায় অভিভাবকদের গাড়িতে করে আসছে এবং পাঠদান শেষে বিকাল চারটায় ফিরে যাচ্ছে।  স্কুলকর্তৃপক্ষ অস্বীকার করলেও নাম প্রকাশ না করে একাডেমির একাধিক সূত্র পাঠদানের বিষয়টি একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের লেবেল ৩ এ শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। পাঠদান শেষে দুই-তিনজন শিক্ষককে একাডেমি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে ফ্রোবেল একাডেমির প্রশাসনিক ইনচার্জ আমজাদ হোসেনের দাবি, করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে কিছু শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে তা শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের বোঝানো হচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একাডেমিতে পাঠদানের প্রশ্নই উঠে না-বলেন আমজাদ হোসেন।

এর আগে গত ২০ মার্চ বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পরিচয় গোপন রেখে এ প্রতিবেদক ফ্রোবেল একাডেমির ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন, প্রশাসনিক দপ্তরে বসে কাজ করছেন ৮-১০ জন কর্মকর্তা- কর্মচারী। পাঠদান হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারজানা কামাল বলেন, ‘না, আমরা ভার্চুয়াল ক্লাস নিচ্ছি। ফিজিক্যালি নয়।’

জানা গেছে, গত ১১ মার্চ অন্যন্যা আবাসিক এলাকায় ফ্রোবেল একাডেমি’র নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের ভারতীয় উপ দূতাবাসের সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি এবং তার সহধর্মিণী।

জানা গেছে, ফ্রোবেল একাডেমি নগরীতে অবস্থিত ক্যামব্রিজ এবং এসটিইএম সনদপ্রাপ্ত ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। প্রথম শ্রেণির পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্যামব্রিজ আন্তর্জাতিক প্রাথমিক পাঠ্যক্রম সরবরাহ করে। পাঠ্যক্রমটিতে সামাজিক অধ্যয়ন, বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, ধর্মীয় অধ্যয়ন এবং বিদেশি ভাষাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইংরেজি মাধ্যম এ প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৫৭। শিক্ষক আছে ৭০ জন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত বছর ১৭ মার্চ থেকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকা স্কুল-কলেজগুলো ৩০ মার্চ থেকে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে গত কয়েকদিন ধরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির সূচক ঊর্ধ্বগতির দিকে থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।