শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং ঘিরে অপরাধ-সাম্রাজ্য

প্রকাশিতঃ রবিবার, এপ্রিল ৪, ২০২১, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ


মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং কালচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পদধারী, নামধারী কথিত ‘বড়ভাইদের’ ছত্রছায়ায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোররা ব্যবহৃত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে খুনাখুনিসহ নানা অপরাধে কিশোর-তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসা ও দখলবাজিতেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ধর্ষণের ঘটনাও ঘটাচ্ছে তারা। কিশোর গ্যাংয়ের কাছে দেশি অস্ত্রের ছড়াছড়ি। এমনকি অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে কোনো কোনো কিশোর গ্যাং সদস্যের হাতে। গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া আলোচিত-চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই ঘটেছে কিশোর অপরাধীদের মাধ্যমে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হচ্ছে এসব কিশোর ও তরুণেরা। কিছু ক্ষেত্রে কিশোরদের আটকের পর আমরা তাদের অভিভাবকদের ডেকে সন্তানের বিষয়ে সতর্ক করছি। কিশোররা যেন অপরাধে জড়াতে না পারে সেজন্য অভিভাবকদের বেশি সচেতন হতে হবে। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে সে বিষয়ে মা-বাবাকেই বেশি নজরদারি করতে হবে।’

পুলিশের তথ্যমতে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুই বছরে চট্টগ্রাম মহানগরে ২৬টি খুনের ঘটনায় তরুণ-কিশোররা জড়িত। এই সময়ের মধ্যে ৫২টি গুরুতর অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রেও কিশোরদের হাত দেখতে পেয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২৩ জন। এসব কিশোর-তরুণদের ‘পুতুল’ হিসেবে ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক ‘বড়ভাইরা’।

সম্প্রতি ৪৯ জন কথিত ‘বড়ভাইয়ের’ তালিকাও করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। তাদের নিয়ন্ত্রণে নগরে অন্তত ৫ শতাধিক কিশোর ও তরুণ দাবড়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক ‘ছায়া’ থাকায় কিশোর অপরাধীদের পায়ে বেড়ি লাগানো যাচ্ছে না। নগরে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে যে, ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছিন্নমূল কিশোরদের ১৮ থেকে ২০টি ও অবস্থাপন্ন পরিবারগুলোর কিশোরদের আরো অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার করছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের বেশিরভাগই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের চার থানায় কিশোর গ্যাং গ্রুপ আছে ১৬টি। গ্রুপগুলোর সদস্য ৩৫০জন। কিশোর অপরাধীর আধিক্য বেশি কোতোয়ালী থানা এলাকায়। এখানে চারটি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১৫০। বাকলিয়া থানা এলাকায় গ্রুপ আছে তিনটি। এ তিন গ্রুপে সদস্য আছে ১৮। চকবাজার থানা এলাকায় গ্রুপ আছে ৭টি। এর সদস্য সংখ্যা ১৫১। সদরঘাট থানা এলাকায় গ্রুপ আছে ২টি। এগুলোর সদস্য সংখ্যা ৩০। সিএমপির উত্তর বিভাগের ৪ থানায় কিশোর গ্যাং গ্রুপ আছে ১৫টি। এসব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৯০জন।

কোতোয়ালী
কোতোয়ালী থানাধীন জামালখান, চেরাগী পাহাড়, হেমসেন লেইন, লাভলেইন, নন্দনকানন, এনায়েত বাজার এলাকায় সক্রিয় ছিল দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরীর গ্যাং। নৃশংসভাবে হত্যা, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এ গ্রুপের বিরুদ্ধে। গতবছরের ২৯ মে কারাগারে খুন হয় অমিত মুহুরী। তার অনুসারীরা যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের ছত্রছায়ায় থাকেন বলে অভিযোগ আছে।

সিআরবি, কদমতলী, আমবাগান, টাইগারপাস এলাকায় সক্রিয় বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের গ্রুপ। ২০১৩ সালের ২৪ জুন নগরের সিআরবিতে কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে বাবর গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন খুন হয়। এ মামলার আসামি লিমন। তার গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের টেন্ডারবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কাজের অভিযোগ রয়েছে।

চকবাজার
চকবাজার এলাকায় আছে সরকারি দুটি কলেজ। আছে কয়েকটি স্কুলও। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিশোর শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ এলাকায় সক্রিয় রয়েছে অন্তত দুটি বড় গ্রুপ। গ্রুপ দুটির নেতৃত্বে আছেন চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা নূর মোস্তফা টিনু ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রউফ।

এদিকে ২০১৯ সালের গত ৬ এপ্রিল এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জেরে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ আছে, এ দ্বন্দ্বের জের ধরে নগরের গোলপাহাড় এলাকার যুবলীগ কর্মী এম এইচ লোকমান রনি নিহত হন স্থানীয় সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলামের গুলিতে। এর দু’দিন পর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন টিনুর অনুসারী সাইফুল। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর চকবাজার থেকে অস্ত্রসহ টিনুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তখন র‌্যাবের মেজর মেহেদী হাসান জানিয়েছিলেন, টিনু কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব কিশোরদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের অভিযোগ আছে। গ্রেপ্তারের পর এক বছরের বেশি সময় কারাভোগ করে গত ১৮ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান টিনু। তার বিরুদ্ধে নগরের কোতোয়ালী, পাঁচলাইশ ও চকবাজার এলাকায় জমি দখল, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচটির বেশি মামলা রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে টিনুর মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ক্রিকেট খেলার বিরোধের জেরে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র আদনান ইসফারকে হত্যা করে কয়েকজন কিশোর। দুদিন পর গ্রেপ্তার হয় পাঁচ কিশোর। তারা জবানবন্দিতে জানান, এনাম হোসেন নামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতা তাদের অস্ত্রটি দিয়েছিলেন। এই এনাম আবদুর রউফের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ঘটনার পর খুনিরা চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রউফের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানায়। তবে আবদুর রউফ তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। যদিও চকবাজার, চন্দনপুরা, গণি বেকারি মোড়, জামালখান এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য রউফ কিশোরদের ব্যবহার করতেন বলে তখন পুলিশ জানায়। ২০১৯ সালে রউফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া গতবছরের ১৪ জানুয়ারি নগরের চন্দনপুরায় ছাত্রলীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় রউফকেও অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।

চান্দগাঁও
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তৈরি করা কিশোর গ্যাং গডফাদারের ৪৮ জনের তালিকায় নাম আছে চান্দগাঁওয়ের এসরারুল হক এসরালের। ২০১৯ সালের এপ্রিলে চান্দগাঁও থানার হাদু মাঝিপাড়া এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় আমজাদ হোসেন নামে এক মুরগি ব্যবসায়ী যুবকের পা ড্রিল মেশিন দিয়ে ফুটো করে দেয়ার অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনায় জালাল উদ্দিন, দিদার উদ্দিন প্রকাশ লম্বা দিদার, রাশেদ, মিল্লাত, নিশান, ইমন, বাপ্পী ও সুজন ওরফে কালা সুজনের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা প্রচেষ্টা মামলাও হয়েছিল। আসামিরা এসরালের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও দর্জিপাড়ায় চাঁদা না পেয়ে জিয়াদ নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এরপর প্রধান অভিযুক্ত রাসেল পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। ফরিদের পাড়ায় দিনেদুপুরে হত্যা করা হয় নুরুল ইসলাম নামের এক যুবককে। নৃশংস এসব ঘটনায় জড়িতরা ছিল কিশোর অপরাধীরা। তাদের ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচিত এসরারুর হক এসরাল গত চসিক নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে এসরারুল হক এসরাল একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি জনপ্রতিনিধি। আমার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এবারের চসিক নিবাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেছি। আমাকে এলাকার মানুষ ভালবাসে। এজন্য তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। কেউ যদি আমার নামে অপকর্ম করে, তার দায়ভার আমার নয়। আমি অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই না।’

পুলিশ জানায়, নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে আরও অন্তত সাতজন কিশোর গ্যাং লিডার। তারা হলেন- সোহেল ওরফে ফ্রুট সোহেল, জুয়েল ওরফে ধামা জুয়েল, মাহতাব কবির, আব্দুল হালিম ওরফে লম্বা আশিক, শাহাদাত হোসেন ওরফে ল্যাংড়া রিফাত, নেওয়াজ শরীফ ওরফে কিরিচ নেওয়াজ ও ইমন বড়ুয়া। এর মধ্যে কিশোর গ্যাং লিডার সোহেল ওরফে ফ্রুট সোহেল চান্দগাঁও থানার বারাই পাড়া এলাকার মৃত তফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি চান্দগাঁও থানার অন্তত তিনটি মামলার আসামি। নেওয়াজ শরীফ ওরফে কিরিচ নেওয়াজ চান্দগাঁও থানার শমসের পাড়ার কালু মিস্ত্রির বাড়ির অলি ড্রাইভারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও ও চকবাজার থানায় আছে অন্তত চারটি মামলা।

চান্দগাঁও থানাধীন আরেক কিশোর গ্যাং লিডার হলেন মো. জুয়েল ওরফে ধামা জুয়েল। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন জুনু। বাড়ি কসাই পাড়ায়। এই জয়নালের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে, চান্দগাঁও থানায় দ্রুতবিচার আইনে এবং ছিনতাই ও হত্যার হুমকির অভিযোগে জিডিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মাহতাব কবিরের বাড়ি চান্দগাঁও থানাধীন শাহী আবাসিক এলাকায়। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান। তার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় আছে একটি মামলা। পেশাদার ছিনতাই হিসেবে পুলিশের খাতায় নাম আছে আব্দুল হালিম ওরফে লম্বা আশিকের নাম। হালিম চান্দগাঁও শমসের পাড়ার তালুকদার বাড়ির মাস্টার ইউনুসের ছেলে। তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় আছে একাধিক মামলা।

ছিনতাইকারীর দলনেতা হিসাবে পুলিশের তালিকায় নাম আছে শাহাদাত হোসেন ওরফে ল্যাংড়া রিফাতের। তার বাবার বাম মনছুর আলী। থাকেন বহদ্দারহাট এলাকায়। তার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও চকবাজার থানায় ডজনখানেক মামলা আছে। চান্দগাঁও থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত আরেক অপরাধী ইমন বড়ুয়া। তার বাবার নাম রঞ্জিত বড়ুয়া। থাকেন বহদ্দারহাট বদি আলম গলিতে। এই ইমন বড়ুয়া বহদ্দারহাটের আলোচিত সবুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় আছে ছয়টি অস্ত্র ও ছিনতাই মামলা।

পাঁচলাইশ
পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিকারী কিশোর অপরাধীদের নেতৃত্বে আছেন- মো. ফিরোজ, শাহাদাত হোসেন ওরফে ল্যাংড়া রিফাত, ফ্রুট সোহেল, পিস্তল মিঠু, নুরুদ্দিন ওরফে লম্বা নুরু, কালা নুরু, মাহাতাব কবির, মুসলিম খান, হামকা জুলকাস ও জুয়েল, গুলি বাপ্পাসহ অনেকে। এদের মধ্যে ফিরোজের ‘রিচ কিডস’ নামে একটি গ্যাং আছে বলে অভিযোগ আছে। তার গ্রুপে আছে বেশকিছু সংখ্যক কিশোর ও তরুণ। গ্রুপটি সক্রিয় আছে নগরের মুরাদপুর, নাসিরাবাদ, ষোলশহর ও পাঁচলাইশ এলাকায়।

বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে চাঁদা দিতে হয় এ গ্রুপকে। গতবছর চাঁদা না দেয়ায় চালিতাতলী এলাকায় এক প্রবাসীর ভবনে পেট্রোল বোমা হামলা চালায় তারা। এ ঘটনায় ফিরোজের সহযোগী ঢাকাইয়া আকবর গ্রেপ্তার হয়। এছাড়া ফিরোজের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রবর্তক মোড়ে একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে ১১ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পরেরদিন বায়েজিদ থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় ফিরোজ। এ সময় তার কাছ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ভর্তি দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি গুলিসহ একটি ম্যাগাজিন, একটি একনলা বন্দুক, একটি বন্দুকের ব্যারেল, তিনটি কার্তুজ, দুটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই তিন রাউন্ড গুলিভর্তি নাইনএমএম পিস্তলসহ ফের গ্রেপ্তার হয় ফিরোজ। ২০১৮ সালে তাসফিয়া হত্যা মামলায় এবং গত বছরের ১ মে বায়েজিদ থানা পুলিশের হাতে গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে দুই দফা কারাগারে যান ফিরোজ।

এদিকে নগরের বিবিরহাট হামজারবাগ এলাকায় দুর্ধর্ষ কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ আছে হোসেন রবিনের বিরুদ্ধে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে পাঁচলাইশ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর বিবিরহাট এলাকার নিজ বাসা থেকে ডেকে মায়ের সামনে ২০-২৫ জন মিলে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজু নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে। এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি এই রবিন। চলতি মাসে এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তুচ্ছ বিষয়ে গুলি ছোড়া, কুপিয়ে আহত করা রবিনের অভ্যাস। ফুটপাত, পরিবহন স্ট্যান্ড, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন খাত থেকে চাঁদাবাজিতে জড়িত রবিনের গ্রুপটি। রবিনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা আছে। কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে তার নাম আছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তালিকায়।

এদিকে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে পুলিশের উপর হামলা চালায় একদল কিশোর অপরাধী। এ ঘটনায় পুলিশের করা মামলার মূল অভিযুক্ত করা হয় আওরাজ ভূঁইয়া রওনককে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি নগর ছাত্রলীগের ঘোষিত চকবাজার থানা ইউনিটে তাকে দেওয়া হয়েছে সহ-সভাপতির পদ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও প্রবত্তক এলাকায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খুলশী

খুলশী থানা এলাকার ত্রাস কথিত যুবলীগ নেতা সোলাইমান বাদশা। ‘ডিএক্স বয়েজ’ নামে তার একটি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ রয়েছে। দুই নম্বর গেইট এলাকার মূর্তিমান আতংক এই সোলেমান। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অস্ত্র বেচাকেনাসহ নানা দুর্ধর্ষ অপরাধে সক্রিয় তার গ্রুপ। তিনি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসিম আহমেদ সোহেল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। ষোলশহর দুই নাম্বার গেট, জিইসি, জাকির হোসেন রোড, আল ফালাহ গলি ও নাসিরাবাদ এলাকায় সক্রিয় আছে তার গ্রুপ। বাদশার গ্রুপের সদস্যরা ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশের এক এএসআইকে গুলি করে।

২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট এমইএস কলেজ এলাকায় খুন হয় দশম শ্রেণির ছাত্র জাকির হোসেন (সানি)। জাকির হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল আলম আদালতে জবানবন্দিতে দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, এমইএস কলেজের জিএস আরশেদুল আলম ওরফে বাচ্চুর অনুসারী তারা। কলেজে বড়ভাই আনিসের সঙ্গে বেয়াদবি করায় জাকিরকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। তবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে নগর ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আরশেদুল আলম বলেন, ‘নিহত জাকির ও আসামিদের কাউকেই তিনি চেনেন না।’

এদিকে ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিপক্ষের উপর হামলার প্রস্তুতি নিয়ে ৯ জন কিশোর নাসিরাবাদ সিন্ডবি কলোনি থেকে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল হামলার উদ্দেশ্যে। দুই নম্বর গেইট মোড় অতিক্রম করতেই সামনে পড়ে পুলিশের চেকপোস্ট। মুহুর্তেই তাদের একজন পুলিশের উপর গুলি চালায়। এ ঘটনায় এএসআই আব্দুল মালেক পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল হাকিম ও তার দেওয়া তথ্যে আরো দুই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছিল, সেদিন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল খোকন নামে এক কিশোর। তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন কিশোর গ্যাং লিডার সোলেমান বাদশা।

নগরের লালখানবাজার এলাকায় সক্রিয় রয়েছে তিনটি গ্রুপ। এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত লালখানবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল। আরেকটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন সাবেক কাউন্সিলর এফ কবির মানিক। তাদের বিরুদ্ধে আছে কিশোর গ্যাংয়ে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে লালখান বাজারে খুন হন কলেজছাত্র দিদার। এ হত্যা মামলার আসামি ছিলেন আবুল হাসনাত বেলাল। পরে অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ দেয় পুলিশ। দিদার হত্যায় ১৪ কিশোর জড়িত থাকার তথ্য পায় পুলিশ। এখানকার আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম নগর ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত হত্যা মামলায় চাজশিটভুক্ত আসামি। লালখানবাজার এলাকার দোকান ও মার্কেট থেকে তার গ্রুপের সদস্যরা চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ আছে।

বায়েজিদ বোস্তামী
ক্রাইম জোনখ্যাত বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় আধিপত্যের লড়াই থামছে না। বিবদমান গ্রুপ-উপগ্রুপ লিপ্ত হচ্ছে সংঘর্ষে। ঝরছে একের পর তাজা প্রাণ। পরিসংখ্যান বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকার দলীয় ১০ জন কর্মী, সমর্থক ও নেতা খুন হয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের অনেকেই বয়সে কিশোর। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ আরেফিননগরে সংঘটিত হয় ছাত্রলীগ কর্মী ইমন হত্যাকাণ্ড। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিটন সরকার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘খুনোখুনির মূল কারণ চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা, পাহাড়ের জমি।’

বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের হিসেব অনুযায়ী এই এলাকার ‘গডফাদাররা’ হলেন- শেরশাহ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কুদ্দুস ওরফে কানা কুদ্দুস, শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি, অক্সিজেন এলাকার বাস্তুহারা লীগ নেতা আব্দুন্নবী লেদু। পলিটেকনিক্যাল এলাকার আবু মো. মহিউদ্দিন ও দিদারুল আলম। তবে এ দুজন বিদেশ পলাতক। পুলিশ জানায়, কুদ্দুস এবং শফি যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যা মামলার আসামি। মহিউদ্দিন ও দিদার আওয়ামী লীগ কর্মী রিপন হত্যা মামলার আসামি। লেদুর বিরুদ্ধে আছে চাঁদাবাজি, সরকারি খাস জমি দখলসহ নানা অভিযোগ। একসময় তারা একাট্টা ছিলেন। এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদকব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখন বিভক্ত। প্রত্যেকের আছে আলাদা বাহিনী। সহযোগিরা হলেন- আব্দুল নবী লেদুর অনুসারী সোর্স আনোয়ার, শফির অনুসারী শেরশাহ’র পিস্তল সোহেল, পাগলা মাসুদ, আরেফিন নগর এলাকার রিপন, আলিফ, মামুন, ওয়াহাব।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিন্টন সরকার বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমন খুন হয়। সে ছিল পিস্তল সোহেলের অনুসারী। এ খুনের ঘটনায় আরেফিন নগর এলাকার আলিফ, মামুন, রিপন, ওয়াহাবের সংশ্লিষ্টতা আছে। আলিফ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে আছে খুন, চাঁদাবাজি, মারামারি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১১টি, ওয়াহাবের বিরুদ্ধে ৭টি, রিপনের বিরুদ্ধে আছে ৩টি মামলা। পিস্তল সোহেলের বিরুদ্ধে আছে ৫টি মামলা।’

গত ২ মার্চ জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় আরেফিন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন সোর্স আনোয়ার। পাগলা মাসুদ-রিপন গ্রুপের সাথে গত ৪ মার্চ সংঘর্ষ হয় সোর্স আনোয়ার গ্রুপের সাথে। এসময় এক যুবকের কব্জি কেটে দেয় আনোয়ার। এরই জের ধরে গত ৭ মার্চ লেদুর অনুসারি সোর্স আনোয়ার গ্রুপ ও শফির অনুসারী পিস্তল সোহেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে ইমন নিহত হন।

এদিকে বিদেশে চলে গেলেও যুবলীগ নেতা আবু মহিউদ্দিন ও দিদারুল আলম দিদারের একটি গ্রুপ এলাকায় সক্রিয়। তাদের বিরুদ্ধে পোশাক কারখানা, নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর চন্দ্রনগর শ্যামল ছায়া আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় দিদার গ্রুপের সদস্যরা। ২০১৮ সালের ১৭ জুন রাতে চট্টেশ্বরী রোডের মুখে প্রকাশ্যে খুন হন আবু জাফর অনিক নামে এক যুবক। এ মামলার প্রধান আসামি মহিউদ্দিন তুষার। তিনি আবু মহিউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এই তুষারের নেতৃত্বে নগরের ব্যাটারি গলি এলাকায় কিশোরদের একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। ২০১৯ সালে ২৭ এপ্রিল ডিশ ব্যবসার বিরোধের জেরে খুন ডিসি রোডের গনি কলোনি এলাকায় গুলি করে যুবলীগ নেতা ফরিদুল ইসলামকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত মোহাম্মদ ফয়সালও মহিউদ্দিনের অনুসারী। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইয়াসির আরাফাত ইমন খুনেও জড়িত ছিল ফয়সাল। ডিসি রোড এলাকায় তার একটি গ্যাং রয়েছে।

এদিকে ২০২০ সালের ১৩ মে বায়েজিদের শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে গেলে হামলা চালান কথিত যুবলীগ নেতা মো. জসিম ওরফে পানি জসিম। সেখানে তার একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

ডবলমুরিং
ডবলমুরিং থানা এলাকার কিশোর গ্যাং সদস্য হিসেবে পুলিশের খাতায় যাদের নাম আছে তারা হলেন- মাসুদ, লিমন, রনি, মোস্তাফা কামাল, জহির উদ্দিন, এসএম পারভেজ, সুমন ওরফে দাঁতলা সুমন, সদরঘাটের থানা এলাকায় আছে রাজন ওরফে রাজু। সবশেষ গত ১৭ মার্চ সকাল ১১টার দিকে নগরের আগ্রাবাদের জাম্বুরি পার্ক এলাকায় কিশোরদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন মো. হাশেম খান (৩৫) নামে এক নিরীহ যুবক। এ ঘটনায় কিশোর গ্যাং লিডার মাসুদের অনুসারী সোহাগ, লিমন, রনিসহ ১০ থেকে ১২ জন জড়িত বলে অভিযোগ আছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত সোহাগসহ ২৫ জনের বেশি তরুণ-যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পাহাড়তলী
উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাউন্সিলর জসিমের একটি কিশোর গ্যাং আছে বলে অভিযোগ আছে। তার গ্রুপের বিরুদ্ধে আছে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসসহ পাহাড় দখলের অভিযোগ। তবে অভিযোগ নাকচ করে জহুরুল আলম জসিমের দাবি, এলাকায় তার কোনো গ্রুপ বা গ্যাং নেই। প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ইপিজেড ও পতেঙ্গা
ইপিজেড থানা এলাকায় কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পুলিশের খাতায় নাম আছে চারজন। তারা হলেন- মোহাম্মদ সেলিম, সোহেল, আরমান, শাহীন কবির। এদিকে পতেঙ্গা এলাকার এখন আলোচিত নাম লেডি গ্যাং লিডার তাহমিনা সিমি ওরফে সিমরান। এক তরুণীকে হত্যার হুমকি এবং সহযোগীকে দিয়ে মারধরের অভিযোগে গত ১৩ মার্চ দুপুরে সিমেন্ট ক্রসিং বড়বাড়ি এলাকার বাসা থেকে সিমিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে গত ১৩ মার্চ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও’র সূত্র ধরে সিমিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গার নেভাল এলাকায় ওয়াসিকা নামে এক তরুণীকে চড়থাপ্পড় দিচ্ছেন সিমি ও তার এক সহযোগী। ওই সময় সিমিকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমাকে চিনস? আমি বললে, এখান থেকে তোকে কেউ বাঁচিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না।’ এ ব্যাপারে পতেঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভিকটিম ওয়াসিকা থানায় বাদি হয়ে সিমির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।’

এর আগে গতবছর ২৪ আগস্ট বাসায় ঢুকে এক তরুণীকে পেটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান সিমি। সিমির গ্রামের বাড়ি খুলনার বাগেরহাট জেলায়। তার বাবার নাম কামাল হোসেন। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে নগরের সল্টগোলা এলাকায় পরিবারের সাথে থাকেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ কিশোরদের একত্রিত করে কতিপয় ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত করছেন। তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। সহজ ও অল্প খরচে কিশোরদের দিয়ে তারা অপরাধ করানোর সুযোগ নিচ্ছে। অস্ত্রবাজি, মাদক ও হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা কিশোরদের ব্যবহার করে।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়া কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কিশোর গ্যাং তৈরি করছে। এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে কিশোরদের হাতে অস্ত্র, মাদক তুলে দিচ্ছে কথিত বড়ভাইয়েরা। এমন প্রেক্ষাপটে অপরাধী যে দলেরই হোক, এখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য খুবই বিপজ্জনক। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও খেয়াল রাখতে হবে তাদের সন্তানদের প্রতি।’