শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

রোহিঙ্গাদের সনদ দিতেই কি সেই ‘কম্পিউটার অপারেটর’কে পুনর্বহাল?

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৮, ২০২১, ৬:২৫ অপরাহ্ণ

আবছার রাফি : রোহিঙ্গার হাতে বাংলাদেশের ‘নাগরিকত্ব সনদপত্র’ তুলে দেওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর মো. ফয়সাল। অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে চাকরি হারানো সেই ফয়সালকে পুনরায় স্বপদে বহাল করার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম সানুর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলের সুযোগ নিয়ে তাকে স্বপদে পুনরায় বহাল করেছেন চেয়ারম্যান শাহীনুর ইসলাম সানু। এছাড়া জন্মসনদ, নাগরিকত্ব সনদ ও প্রত্যয়নপত্র প্রদানের বিনিময়ে বাড়তি টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ফয়সালের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সেই মানুষটি ফের স্বপদে বহাল হওয়ায় ক্ষুব্ধ, উদ্বিগ্ন স্থানীয় লোকজন।

অভিযোগ আছে, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল বড়লিয়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড এর সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফেরদৌস আরা বেগম ও কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালের যোগসাজশে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে আছমিদা নামের এক রোহিঙ্গা নারীকে জাতীয়তাসনদ, প্রত্যয়নপত্র ও জন্মসনদ দেওয়া হয়। এসব ভুয়া সনদ নিয়ে ২০১৯ সালে ২২ আগস্ট ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ছবি তোলার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন রোহিঙ্গা নারী আছমিদা আকতার।

এর আগে ১৭ জুন ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম সানু স্বাক্ষরিত এক প্রত্যয়নপত্রে ওই সনদগুলো মহিলা ইউপি সদস্য ফেরদৌস আরা বেগমের তদন্তের প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং ২০ জুন চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত জাতীয়তা সনদপত্রও প্রদান করা হয় রোহিঙ্গা নারী আছমিদা আকতারকে; যে ঘটনায় চাকরিচ্যুত হন কম্পিউটার অপারেটর ফয়সাল।

২০১৬ সালে তোছায়ের নামে আরেক রোহিঙ্গাকে ‘জন্মসনদ’ দেওয়ার অভিযোগ উঠে খোদ চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম সানুর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের সত্যতা থাকায় ২০১৯ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান সানুকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

এদিকে চেয়ারম্যান শাহীনুলের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত কম্পিউটার অপারেটর ফয়সাল চাকরি ফিরে পেয়ে আবারও জন্মসনদ, জাতীয়তা সনদ প্রদানের বিনিময়ে বাড়তি টাকা নিচ্ছেন বলে নতুন করে অভিযোগ ওঠেছে।
অভিযোগ সংক্রান্ত ৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও একুশে পত্রিকার হাতে সংরক্ষিত রয়েছে। তাতে দেখা যায়, ৮ নং ওয়ার্ডের এক নারীকে জন্মনিবন্ধন সনদ দেবে বলে কাগজপত্রসহ ১৫০০ টাকা নিয়েছেন ফয়সাল। কিন্তু তিনমাস পার হয়ে গেলেও এখনো জন্মনিবন্ধন সনদ পাননি ওই মহিলা। পরে ইউপি সচিবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জন্মনিবন্ধন ফাইল সংক্রান্ত খাতা ঘাঁটাঘাঁটি করে বলেন, এ সংক্রান্ত কোনও নথি নেই তার কাছে।

এক মিনিট ৩ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী এক যুবকের কাছ থেকে শুধুমাত্র জন্মসনদের জন্য ৫০০ টাকা নিয়েছেন ফয়সাল। ৫০০ টাকা দেওয়ার পরেও তা কম হবে বলে দর কষাকষি করতে থাকেন তিনি। এ সময় ভুক্তভোগী তার এক বিদেশগামী প্রতিবেশি থেকে ফয়সাল জন্মসনদ ও প্রত্যয়নপত্র বাবদ ২০০০ টাকা নিয়েছেন বলেও জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়লিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম সানু একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘কম্পিউটার অপারেটর পাওয়া যাচ্ছে না বলে ফয়সালকে আবার রাখা হয়েছে, পাওয়া গেলে বাদ দেওয়া হবে। এখানে মহিলা একজন ছিলো তার বিয়ে হয়ে যাওয়াতে আসতে পারছেন না।’

জন্মসনদ দিতে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জন্মসনদ তো ৫০ টাকা, সেখানে দেড় হাজার টাকা নেওয়ার কথা না। যদি নিয়ে তাকে তাহলে শনিবার ১১টার দিকে ভদ্র মহিলাকে পরিষদে আসতে বলবেন। ভদ্র মহিলা এলে জিজ্ঞেস করবো কীভাবে, কত টাকা নিয়েছে।’

এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালকে স্বপদে বহাল আর বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ এলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’