বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮

নামাজরত শ্রমিককে লাথি মারেন চীনা কর্মকর্তা, এরপরই বেঁকে বসেন শ্রমিকরা

প্রকাশিতঃ সোমবার, এপ্রিল ১৯, ২০২১, ১:১৬ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ রফিক, বাঁশখালী থেকে ফিরে : এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছয় হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করেন। পাশাপাশি কারখানায় চীনা শ্রমিক আছে প্রায় এক হাজার। মাসের শুরুতে ৫ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে বেতন, রমজানে বিকেল ৫ টার মধ্যে ছুটি, ইফতারের জন্য এক ঘণ্টা সময় বরাদ্দ, যখন-তখন ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমআইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ, মসজিদ সম্প্রসারণ, সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ক্যান্টিন বাড়ানো, পানির সংকট নিরসন এবং ধর্মপালনে কারখানার চীনা নাগরিকদের বাধা দূর করাসহ ১০টি দফা দাবি ছিল শ্রমিকদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক একুশে পত্রিকা প্রতিবেদককে জানান, কয়েকদিন ধরে তাদের এসব দাবি-দাওয়া নিয়ে দোভাষী বায়েজিদ, রাশেদ ও মেহরাজের মাধ্যমে কারখানায় কর্মরত চীনা কর্মকর্তা সিন গুয়ার সাথে আলোচনা চলছিল। গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ইফতার শেষে শ্রমিকরা বিশ্রাম নিচ্ছিল। এই সময় চীনা কর্মকর্তারা দোভাষী বায়েজিদের মাধ্যমে শ্রমিকদের এসে বলেন, কারখানায় কাজ করতে হলে কোনো বিরতি নেওয়া যাবে না। কোন ধর্মকর্ম করা যাবে না। এসময় নামাজরত এক শ্রমিককে পেছন থেকে লাথি মারেন ওই চীনা কর্মকর্তা। এরপর সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শ্রমিকদেরও তিনি মারধর শুরু করেন।  এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা নিয়ে বাঙালি শেডে থাকা কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এরপরে শ্রমিকরা আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনা তদন্ত করতে গেলে একাধিক শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন খান। এসময় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মসজিদের পাশের শেডে থাকা শ্রমিক মিরাজ ও শওকত ধর্মকর্ম পালনে মুসলিম শ্রমিকদের চীনা কর্মকর্তা দ্বারা প্রতিনিয়ত নানাভাবে নির্যাতনের চিত্র অতিরিক্ত ডিআইজি’র কাছে তুলে ধরেন।

এদিকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা চীনা কর্মকর্তাদের মধ্যে জানাজানি হলে শুক্রবার রাতেই পুলিশ-শ্রমিক ও চীনা কর্মকর্তাদের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়৷ এসময় শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা। পরের দিন শনিবার সকাল ছয়টায় আন্দলনরত শ্রমিকদের আবার ১ নং গেইটে ডাকা হয়। এসময় তাদের দাবি-দাওয়া মালিকপক্ষের সাথে আলাপ করে জানাবেন বলে জানায় পুলিশ। একই সাথে শ্রমিকদের আন্দলন না করতে এবং কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানায় পুলিশ৷ কিন্তু সকাল ৯টার দিকে দুই-আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে বোল পাল্টে যায় পুলিশের। কোন দাবি মেনে নেওয়া হবে না বলে তারা শ্রমিকদের জানান এবং বলেন যা পারে তা করতে।

আগের দিন নামাজরত অবস্থায় বাংলাদেশি শ্রমিকের পিঠে চীনা কর্মকর্তার লাথি, ধর্মপালনে বাধার তীব্র ক্ষোভজনিত কষ্টের সাথে পুলিশের বোল পাল্টানো ভূমিকায় ১ নং গেইটে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার শ্রমিক মুহূর্তেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ করে ইট পাটকেল ছুড়লে পুলিশ রাইফেল দিয়ে এলপাথাড়ি গুলি ছুড়লে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে বলে সরেজমিনে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়।