শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

সাহেদা আলমের মুখে বাবুল-গায়ত্রী ‘কেমিস্ট্রি’

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জুন ৪, ২০২১, ৭:২৪ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ রফিক : ‘শুধু গায়ত্রী নয়, একাধিক নারীর সঙ্গে পরকিয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় মিতুকে পরিকল্পিতভাবে খুন করিয়েছেন বাবুল আক্তার।’

আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন মিতুর মা সাহেদা আলম। সম্প্রতি ইউটিউবসহ একাধিক গণমাধ্যমে বাবুল আক্তার-গায়ত্রী ও বন্নি নামে আরেক নারীর পরকিয়া সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সাহেদা আলম। সাহেদার এসব বর্ণনায় ওঠে আসে ‘বাবুল-গায়ত্রী’র নানা কেমিস্ট্রি।

সাহেদার দাবি, বাবুল আক্তারের সাথে গায়ত্রীর সম্পর্ক ২০১৩ সাল থেকে। কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে বাবুল আক্তারের বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন গায়ত্রী। কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তার (গায়ত্রী) বাচ্চা দুটি মিতুর কাছে রেখে যেতেন। বাবুল আক্তারকে নিয়ে সমুদ্রপাড়ে ঘুরতে যেতেন গায়ত্রী৷ মিতু কিন্তু বাবুলকে সন্দেহ করতেন না।

একদিন কক্সবাজারে একটি হোটেলে দুটি রুম ভাড়া নেন বাবুল আক্তার। এক রুমে সন্তানদের নিয়ে থাকেন মিতু। অন্য রুমে বাবুল ও গায়ত্রী। ওই দিন গভীর রাত পর্যন্ত গায়ত্রী ও বাবুল আক্তার একখাটে বসে কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন৷ এটি দেখে মিতু জিজ্ঞেস করলে বাবুল আক্তার বলেন, ‘বিদেশে মিশনে যাব, তাই কম্পিউটার শিখছি।’ এসময় সন্তানের কান্না শুনে মিতু চলে যান তার রুমে।

সন্তানকে শান্ত করে রাত ৩টার দিকে বাবুল ও গায়ত্রীর রুমে এসে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান মিতু। এসময় মিতু তার মাকে ফোন করে কান্না করতে থাকেন৷ মিতুর মা বলেন, ‘তুমি কান্না করছো কেন, বাবুল তোমাকে মেরেছে? নাতির অবস্থা কী খারাপ? মিতু বলেন, ‘না। বাবুলকে গায়ত্রীর সাথে খারাপ অবস্থায় দেখে ফেলেছি। আমি কী করব মা?’ এরপর সাহেদা বলেন ‘ তুমি সন্তান নিয়ে চলে আস।’ মিতু বলেন, “না মা, আমি বাচ্চাদের নিয়ে চলে গেলে সে (বাবুল) আরও সুযোগ পাবে।’

মিতুর মায়ের অভিযোগ, বন্নির সাথেও বাবুল আক্তারের পরকিয়া ছিল। ওই সম্পর্কের জেরে ২০১৪ সালের ২৮ মার্চ ঝিনাইদহ কুষ্টিয়া মহাসড়কে দুর্ঘটনার নামে বন্নির স্বামী আকরামকে ‘খুন’ করা হয়। এ ‘হত্যাকাণ্ডের’ পেছনে বাবুলের হাত আছে বলে দাবি করে আসছে ভুক্তভোগী আকরামের পরিবার।

তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত থাকার সময় ২০১৩ সালে ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তা ভারতীয় নাগরিক গায়ত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন বাবুল আক্তার। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় মিতুর। এই ইস্যুতে মিতুকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বাবুল। এরইমধ্যে ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে ছিলেন বাবুল আক্তার। এসময় বাবুল আক্তারের মোবাইল ফোনটি তার চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইল ফোনে মোট ২৯টা ম্যাসেজ দেন গায়ত্রী অমর সিং। দেন দুটি বই-উপহার। সেখানেও তাদের পরকিয়ার বিষয় ওঠে আসে।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম ওরফে মিতুকে। ওই ঘটনায় বাদী হয়ে বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তাতে তিনি বলেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। তবে সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় মাহমুদা হত্যার তদন্ত নতুন মোড় নেয়। অব্যাহতভাবে মাহমুদার মা–বাবা এ হত্যার জন্য বাবুল আক্তারকে দায়ী করে আসছিলেন।

ডিবি পুলিশ হয়ে আদালতের আদেশে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১২ মে বাবুল আক্তারের মামলায় আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয় পিবিআই। মিতুকে হত্যার অভিযোগে একইদিন বাবুল আক্তারসহ আটজনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ ইন্সপেক্টর মোশাররফ হোসেন।

সেদিনই বাবুল আক্তারকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর বাবুল আক্তারকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত জবানবন্দি দেননি বাবুল আক্তার৷ সম্প্রতি বাবুল আক্তারকে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলেও তাকে অভিযুক্ত করে নিখোঁজ থাকা বাবুল আক্তারের সোর্স কামরুল সিকদার ওরফে মুসার স্ত্রী পান্না আকতারসহ ৪ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।