শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

সমাজের ‘বদনাম’ রতন বড়ুয়া

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুন ৭, ২০২১, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের উখিয়ার চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের মতো একইভাবে আমেরিকা প্রবাসী বাদল বড়ুয়ার পরিবারকে হত্যা করার হুমকিদাতা সেই রতন বড়ুয়া পাড়া ও সমাজের বদনাম। বলছেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজ নেতারা।

তাদের দাবি, প্রবাসি বাদল বড়ুয়ার পরিবারকে হত্যার হুমকি ছাড়াও দীর্ঘদিন রতন বড়ুয়া ইয়াবা ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত। তার হাত ধরে যুব সমাজের অনেকে আজ বিপথে পা দিয়েছে। জড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা ব্যবসায়। এর ফলে বড়ুয়াপাড়ার শান্তিশৃংঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। এরপরও রতন বড়ুয়ার ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না কেউ। এমনটা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রতন বড়ুয়া বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের উত্তর বড়ুয়াপাড়া এলাকায় অরিন্দ্র বড়ুয়ার ছেলে। সম্প্রতি জায়গাজমির বিরোধের জেরে ঘুমধুম ইউনিয়নের উত্তর বড়ুয়াপাড়া এলাকার আমেরিকা প্রবাসী বাদল বড়ুয়ার পুরাে পরিবারকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার পরিকল্পনার ঘটনা ফাঁস হলে এলাকার চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। হুমকিদাতা রতন বড়ুয়াকে নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, রতন বড়ুয়া একসময় চট্রগ্রাম বন্দরে ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একসময় লোভের বসে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আইনশৃংঙ্খলাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন রতন বড়ুয়ার গাড়ির হেলপার। এরপর রতন বড়ুয়া কিছুদিন গা ঢাকা দেন। সেসময় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রথম রতন বড়ুয়া আলোচনায় আসেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লক্ষীকান্ত বড়ুয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, মাঝে মাঝে রতনের কাছ থেকে ইয়াবা চালানের বাকি টাকা আদায়ের জন্য টেকনাফের কিছু চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি রতনের খোঁজে এলাকায় আসতে দেখা যায়। কিন্তুু তারা আসলে রতন পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, টেকনাফের একটি ইয়াবাচক্রের বড় ইয়াবা চালান মেরে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলো রতন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশে ফিরে আসে। রতন বড়ুয়া সারাদেশে ইয়াবা পাচার করেন বলে অভিযোগ এ জনপ্রতিনিধির। গত কয়েক বছর আগেও তেমন কিছু না থাকলেও বর্তমানে রতন বড়ুয়া নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক বলেও জানান লক্ষীকান্ত বড়ুয়া।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, ইয়াবা ব্যবসা করে রতন বড়ুয়া তার বাড়ির পাশে আমবাগানসহ তিনবিঘার মত জমি কিনেছেন। কিনেছেন বেশ কয়েকটি সিএনজি। এ ছাড়াও রতন তার এক বোনের নামে ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা রাখার পাশাপাশি আমিরাবাদের একটি বেসরকারি ব্যাংকে স্ত্রীর নামে ১১ লাখ টাকা ব্যাংক-ব্যালেন্স, বিভিন্ন ব্যাংকে ডিপিএস ও কোটি টাকার এফডিআর করে রেখেছেন। রতন বড়ুয়ার এমন উত্থানে রীতিমতো বিস্মিত তার আত্মীয়-স্বজনরাও।

তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন রতন বড়ুয়া। দাবি- তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি চক্র। আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো না থাকায় তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ঘুমধুম ইউনিয়নের মৃত হরেন্দ্র বড়ুয়ার ছেলে আমেরিকা প্রবাসী বাদল বড়ুয়ার পরিবারের দাবি- জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা করায় তার চাচা অরিন্দ্র বড়ুয়া, ছেলে রতন বড়ুয়া ও ওই পরিবারের লোকজন মিলে দীর্ঘদিন ধরে তাদের গুম, হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।

সর্বশেষ গত সপ্তাহে রতন বড়ুয়া আমেরিকা প্রবাসী বাদল বড়ুয়া পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ভাড়া করে। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর ওই এলাকায়  সৃষ্ট আতঙ্ক এখনো বিরাজ করছে।

এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রযেছেন। প্রবাসী বাদল বড়ুয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা জায়গাজমি চাই না, বাঁচতে চাই। পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত মৃত্যু-হুমকিতে রেখে প্রবাসজীবন খুবই কষ্টের, বেদনাদায়ক। শান্তিতে ঘুমাতে পারি না, কাজ করতে পারি না। দুশ্চিন্তা সবসময় তাড়া করে বেড়াচ্ছে। উখিয়ার ফোর মার্ডারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা যেভাবে হত্যার পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে, এখনই তাদের না থামালে, আইনের আওতায় না আনলে যে কোনো মুহূর্তে ট্র্যাজিক ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে বলে আমি আশংঙ্কা করছি।’

প্রবাসী বাদল বড়ুয়ার পরিবারকে হত্যার হুমকি ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ভাড়া করার বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আখতার একুশে পত্রিকাকে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির থানার ওসিকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।