রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের নামে কী হচ্ছে?

প্রকাশিতঃ রবিবার, জুলাই ১৮, ২০২১, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : অপারেশনের জন্য রক্তের গ্রুপ জানতে চট্টগ্রামের ৭টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলেন নবাব হোসেন। এর মধ্যে ম্যাক্স, শেভরন, এপিক হেলথ কেয়ার, পার্কভিউ, ল্যাব এইড জানাল- নবাবের রক্তের গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ’। অন্যদিকে ইমপেরিয়াল ও এভারকেয়ার জানিয়েছে- নবাবের রক্তের গ্রুপ ‘ও পজেটিভ’। তাহলে কোনটি সঠিক?

এমন প্রশ্নের মুখে ইমপেরিয়াল কর্তৃপক্ষের দৃঢ় বক্তব্য- তাদের রিপোর্টে ভুল নেই। রক্তের গ্রুপের কারণে অপারেশনে কোন সমস্যা হলে সমস্ত দায়ভার তারা নেবেন। পরে ‘ও পজেটিভ’ রক্ত ব্যবহার করে অপারেশন সফল হলে ইমপেরিয়াল ও এভারকেয়ারের রিপোর্ট সত্য বলে প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে কথিত স্বনামধন্য পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার- ম্যাক্স, শেভরন, এপিক হেলথ কেয়ার, পার্কভিউ, ল্যাব এইডের ‘ভুল রিপোর্টের’ অভিযোগটি সামনে চলে আসে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পিত্তথলির সমস্যায় ভুগছিলেন নবাব হোসেন। এজন্য প্রফেসর ডা. শিব শংকর শাহার পরামর্শে গত ২ মে নগরের ম্যাক্স ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে বেশকিছু টেস্টের পাশাপাশি রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করান তিনি। পরদিন রিপোর্টের কাগজ হাতে পান তিনি। যেখানে তার রক্তের গ্রুপ লেখা হয় ‘ও নেগেটিভ’। রিপোর্টটি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ল্যাব ইনচার্জ সমির কান্তি দে এবং মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের কনসালটেন্ট ডা. অরূপ কান্তি দেওয়ানজির তত্ত্বাবধানে চেক করা হয়েছে মর্মে স্বাক্ষর করা হয়।

যদিও সেসময় এই রিপোর্ট নিয়েই বাসায় ফিরে যান নবাব। একই মাসের ২৯ তারিখ ডা. প্রদীপ কুমার নাথের শরণাপন্ন হন নবাব হোসেন, তখন বেশ কিছু টেস্ট করাতে বলেন তিনি। ৫ জুন পিত্তথলির অপারেশনের তারিখ নির্ধারিত হয়। ইমপেরিয়াল হাসপাতালের ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগে গত ১ জুন রক্ত পরীক্ষাসহ বেশ কিছু টেস্ট করান তিনি। ২ দফায় করানো রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে নবাবের রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ আসলে নড়েচড়ে বসেন তিনি। একই মাসের মধ্যে ভিন্ন হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুটি রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের এমন পরিবর্তন দেখে ঘাবড়ে যান নবান হোসেন।

নিজের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ৩ জুন নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করান নবাব। সেদিনই রিপোর্ট হাতে পান তিনি। সেখানেও ‘ও পজিটিভ’ বলে রিপোর্ট দেওয়া হয়। অপারেশনের সময় ভুল রক্ত পুশ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এমন শঙ্কা থেকে নবাব হোসেন সিদ্ধান্ত নেন তিনি যে করেই হোক নিশ্চিত হবেন তার রক্তের গ্রুপ কী।

ফলে ৪ জুন শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি, এপিক হেলথ কেয়ার, পার্কভিউ হাসপাতাল এবং ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করান তিনি। পার্কভিউ হাসপাতালের রিপোর্ট একদিন পর ৫ জুন পেলেও বাকি পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পান সেদিনই। সবগুলো রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, নবাবের রক্তের গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ’। রিপোর্টে শেভরনের কনসালটেন্ট প্যাথলজিস্ট ডা. আমেনা আখতার, এপিকের সাইন্টিফিক অফিসার অনুপ কুমার বিশ্বাস ও চমেক মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আরিফুর রহমান, পার্কভিউর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট লালরাম ও ডা. ডায়ানা থিচালা এবং ল্যাবএইডের ল্যাব টেকনোলজিস্ট শিমুল দাশ ও প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট প্যাথলজিস্ট ডা. শাহাবুদ্দীন আহমেদের স্বাক্ষর রয়েছে।

যদিও এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং ইমপেরিয়াল হাসপাতালের রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে রিপোর্টে রক্তের গ্রুপ ‘ও পজেটিভ’ দেখানো হয়। পরবর্তীতে ইমপেরিয়াল হাসপাতালে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করালে ওই ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ আবারও ‘ও পজেটিভ’ আসে। ইমপেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে জানান যে, তাদের পরীক্ষা শতভাগ সঠিক এবং অপারেশনে রক্তের গ্রুপের কারণে কোনো সমস্যা হলে এর দায়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নেবে।

এ প্রেক্ষিতে ৫ জুন ইমপেরিয়ালে অপারেশন হয় নবাবের। ওই অপারেশনে রক্তের প্রয়োজন হলে তাকে ‘ও পজেটিভ’ রক্ত দেওয়া হয়। সফল অপারেশনের পর সুস্থ আছেন নবাব হোসেন। সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, তার রক্তের গ্রুপ ‘ও পজেটিভ’।

নবাব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে পরীক্ষা করে জানতে পারি, আমার রক্তের গ্রুপ ‘ও পজেটিভ’। সেই রিপোর্ট আমার কাছে এখনো আছে। সম্প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখি একেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার একেক ধরনের রিপোর্ট দিচ্ছে। কেউ বলছে ও পজেটিভ, কেউ বলছে ও নেগেটিভ। শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়েছে, ম্যাক্স শেভরন, এপিক হেলথ কেয়ার, পার্কভিউ, ল্যাব এইড আমার রক্তের গ্রুপ বিষয়ে ভুল রিপোর্ট দিয়েছে। তাদের ভুল রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে যদি আমাকে রক্ত দেওয়া হতো তাহলে আমার মৃত্যু হতে পারতো।’

তিনি বলেন, ‘আমি যেসব প্রতিষ্ঠানে রক্তের গ্রুপ জানতে গিয়েছি, তারা কথিত স্বনামধন্য। রোগ নির্ণয়ের নামে এই প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতে গলাকাটা বিল আদায় করে। এরপরও এভাবে ভুল রিপোর্ট প্রদানের ফলে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সামান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও মানুষ বিদেশ যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে ভুল রিপোর্ট কেন আসছে- তা স্বাস্থ্যবিভাগ খতিয়ে দেখলে মানুষ উপকৃত হবে।’

এ বিষয়ে ইমপেরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সালাউদ্দীন আহমেদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘অন্য ল্যাব কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। তবে আমাদের টেস্টের রিপোর্ট যে শতভাগ সঠিক, সেটা আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি। আমাদের যে যন্ত্রপাতি আছে সেগুলো সবই আধুনিক প্রযুক্তির। আমরা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বিষয়ে বিস্তারিত দেখতে পারি, যা অন্যান্য ল্যাবে সম্ভব না। আর আমাদের তথ্য অনুযায়ী, নবাব হোসেনের সফল অপারেশন হয়েছে। তিনি সুস্থ আছেন।’

এদিকে ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন কারণ জানিয়েছেন। কেউ পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হতে চান, আবার কেউ উদ্ভট ও অবিশ্বাস্য কারণ দেখিয়ে রোগীর উপরেই দোষ চাপিয়ে চেষ্টা করেছেন বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার। কেউ বলেছেন বিষয়টা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছুই না।

অভিযোগের বিষয়ে ম্যাক্স ডায়াগনস্টিক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. লিয়াকত আলী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি চেক না করে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।’ যদিও এর আগেই তার হোয়াটসঅ্যাপে রিপোর্টের কপি পাঠিয়েছেন প্রতিবেদক। বিষয়টি তাকে অবগত করে অভিযোগের বিষয়ে জানানোর অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা নিউজ করার মত তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।’- বলেই ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন ডা. লিয়াকত আলী।

একদিন পর প্রতিবেদককে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমরা ওই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে আবার তার রক্ত পরীক্ষা করিয়েছি। সেখানেও তার রক্তের গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ’ এসেছে। কিন্তু কয়েকটা হাসপাতালে তার রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ এসেছে। এটা কীভাবে সম্ভব সেটা আমি বুঝতে পারছি না। যে সকল হাসপাতালে রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে তাদের সাথে কথা বলে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হবো।’

অন্যদিকে শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পুলক পারিয়ালকে বিষয়টি জানিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি রোগীকে পুনরায় তার প্রতিষ্ঠানে রক্ত পরীক্ষা করাতে বলেন। পাশাপাশি রিপোর্টের কপি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে অনুরোধ করে পরদিন এ বিষয়ে জানাবেন বলে জানান। পরদিন পুলক পারিয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কারণে বিষয়টি জানতে পারেননি বলে জানান।

একুশে পত্রিকাকে পুলক পারিয়াল বলেন, ‘আমি অসুস্থ, গায়ে জ্বর। তাই এখন কিছু করার নাই। আপনি ৩-৪ দিন পর যোগাযোগ করুন। আর অন্য জায়গায় যে তিনি পরীক্ষা করিয়েছেন এর রিপোর্টটা তো আমাকে দেখাননি।’- বলেই ফোন কেটে দেন।

একইভাবে পার্কভিউ হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন এমনটা হলো, আসলে বিষয়টা কী সেটা আমার চেক করে দেখতে হবে।’ পরবর্তীতে রিপোর্টের কপি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করে তিনি পরদিন যোগাযোগ করতে বলেন। যদিও পরদিন তাকে বেশ কয়েকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মহাব্যবস্থাপক নাইমুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের এমন পরিবর্তনের বিষয়ে ফোনে কথা বলতে অসম্মতি জানান। যদিও বেশ কয়েকবার অনুরোধের পর তিনি এ বিষয়ে মুখ খোলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি রোগীকে ‘এডিকটেড’ বলে উল্লেখ করে তার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেন। তার মতে রোগী ‘ড্রাগ’ নেওয়ার কারণেই রক্তের গ্রুপের এমন বদল।

‘আপনি কী জানেন ওনি (নবাব হোসেন) এডিকটেড? শারীরিক অবস্থার জন্য তিনি ড্রাগ নিতেন। ড্রাগটি ওনার শারীরিক অবস্থার এমন পরিবর্তন করেছে যে ওনি এটা ছাড়া চলতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ওনার ব্যথার জন্য উনি একটি ড্রাগ নিতেন। প্রায় দেড় বছর যাবত এই ড্রাগটি তিনি নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় এই ড্রাগটি নেওয়ার কারণে উনার শরীরে জিনগত পরিবর্তন এসেছে। যার কারণে রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ থেকে ট্রান্সমিট হয়ে ‘ও নেগেটিভে’ রূপান্তরিত হয়েছে।

একুশে পত্রিকাকে নাইমুর রহমান বলেন, ‘আপনি কী জানেন ওনি (নবাব হোসেন) এডিকটেড? শারীরিক অবস্থার জন্য তিনি ড্রাগ নিতেন। ড্রাগটি ওনার শারীরিক অবস্থার এমন পরিবর্তন করেছে যে ওনি এটা ছাড়া চলতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ওনার ব্যথার জন্য উনি একটি ড্রাগ নিতেন। প্রায় দেড় বছর যাবত এই ড্রাগটি তিনি নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় এই ড্রাগটি নেওয়ার কারণে উনার শরীরে জিনগত পরিবর্তন এসেছে। যার কারণে রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ থেকে ট্রান্সমিট হয়ে ‘ও নেগেটিভে’ রূপান্তরিত হয়েছে।

ল্যাব কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবাব হোসেন বলেন, ‘এটা কোন ড্রাগ না। পিত্তথলির ব্যথানাশক একটি ইনজেকশন চিকিৎসক আমাকে দিয়েছিলেন। এটার প্রেসক্রিপশনও আমার কাছে আছে। আমার এই ইনজেকশনটি নেওয়ার প্রয়োজন পড়লে আমি হাসপাতালে গিয়ে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে তারপর সেটা পুশ করাতে পারতাম। এটা তো তিনিও (নাইমুর রহমান) জানেন। এটার সাথে রক্তের গ্রুপ পরিবর্তনের কী সম্পর্ক? ভুল ব্যখ্যা দিয়ে কী দায় এড়ানো যায়?’

তবে রক্তের গ্রুপ পরিবর্তনের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এপিক হেলথ কেয়ারের ল্যাব ডিরেক্টর ডা. খালেদ। একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘ট্রান্সমিশন মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ী, আমরা অটোমেশনে রক্ত পরীক্ষা করে থাকি। সেখানে রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ এসেছে। আর জেনারেল ল্যাব কনসিডারেশনে আমাদের রিপোর্টকে ভুল বলা যাবে না। আবার এটাকে কনফারশন হিসেবেও নেওয়া যাবে না। যখন ট্রান্সমিশন মেডিসিনে যাবে ‘ওয়িক ডি’ টেস্ট করা হবে, তখন নিশ্চিত হওয়া যাবে তার রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ নাকি ও পজিটিভ।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একজন ব্যক্তির রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট ভিন্ন হাসপাতালে ভিন্ন কীভাবে হয়? কোনো কারণে কারো ভুল হলে সেটা বলতে পারেন। কিন্তু যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন একজন ব্যক্তির রক্তের গ্রুপের ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্টের বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ আসলে আমি অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।’