রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

রাজনীতিকদের কেউ প্রবলভাবে বিপক্ষে, কেউ কৌশলী অবস্থানে

প্রকাশিতঃ রবিবার, জুলাই ১৮, ২০২১, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

আবছার রাফি : চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি এলাকায় পিপিপি প্রকল্পের আওতায় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা থেমে নেই। বিএনপি নেতাদের মধ্যে সবাই সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও আওয়ামী লীগের নেতারা এই ইস্যুতে তিন ভাগে বিভক্ত। ক্ষমতাসীন দলের কেউ চান সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ হোক। আবার কেউ সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের সরাসরি বিরোধিতায় নেমেছেন। আবার কেউ এই ইস্যুতে নিয়েছেন কৌশলী অবস্থান।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি এলাকায় বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতাল ও সংলগ্ন খালি জমি, রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি স্টাফ কোয়ার্টারের ৬ একর জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্পটির চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদন হয় গত বছর। বেসরকারি ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান ছয় একর জমিতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ ও ৫০ আসনের নার্সিং ইনস্টিটিউট করবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন সময় ১২ বছর। ইতিমধ্যে রেলওয়েকে আট কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি। ৫০ বছর পর হাসপাতালটি রেলওয়েকে হস্তান্তর করা হবে।

রেলের সদর দপ্তরের পাশে ও স্টাফ কোয়ার্টার (৫০টির মত) সরিয়ে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছেন শ্রমিক-কর্মচারীদের একাংশ। তাদের দাবি এতে রেলের স্বার্থরক্ষা হবে না। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে সম্প্রতি প্রকল্পের জমিতে থাকা স্টাফ কোয়ার্টারের মধ্যে ২০টি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে সিআরবির ঐতিহ্য ও পরিবেশরক্ষায় হাসপাতাল প্রকল্পটি সেখানে বাস্তবায়ন না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবাদী কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা নেতৃবৃন্দ গত বুধবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিআরবিতে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে যাওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন- নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলার সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শফর আলী।

এ বিষয়ে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, পরিবেশ বিনষ্ট করে শতবর্ষী গাছ কেটে শিরীষতলায় নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য নষ্ট করে হাসপাতাল হবে- এরূপ জেনে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেজন্য এ বিষয়ে জানতে আমরা নেতৃবৃন্দ সেখানে যাই। প্রকল্প পরিচালক ব্রিফ করেছেন। নকশা দেখিয়েছেন। আমাদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যে জায়গায় দেখিয়েছেন সেটা গোয়ালপাড়া। বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের পরের অংশ।

নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির আরও বলেন, পরিবেশের বিষয়টা আমরা জানতে চেয়েছি। তারা বলেছেন, বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ডিজাইন করেছেন। এনভায়রনমেন্টাল ইফেক্ট এসেসমেন্ট এর জন্য দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ছাড়পত্র ও সিডিএ অনুমোদন নিয়ে তারপর কাজ শুরু হবে। তারা জানিয়েছেন- এখানে হলে শতবর্ষী গাছ কাটা হবে না। পরিবেশও ক্ষতির মুখে পড়বে না। বৈশাখী মেলা ও নগরবাসী যেভাবে মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করবেন সেটা অব্যাহত থাকবে। যা জানলাম, প্রধানমন্ত্রী দুবার এই প্রকল্পের বিষয়ে কোয়ারি করে তারপর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।

আ জ ম নাছির বলেন, আমরা রেলমন্ত্রীর সাথেও যোগাযোগ করব। দলের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিশেষ সহকারী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ অনেকের সাথে কথা হয়েছে। আমরা চাই না এটা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হোক বা ঘোলা পানিতে কেউ মাছ শিকার করুক। পরিবেশ যেমন সুন্দর রাখতে হবে, তেমন চট্টগ্রামের জন্য ভালো মানের হাসপাতাল জনদাবি। শুধু একটা না ভালো কয়েকটা হাসপাতাল দরকার। তাতে সেবার মানও ভালো হবে। প্রতিযোগিতা থাকলে চিকিৎসার খরচও কমবে। এছাড়া এই হাসপাতাল প্রকল্প শিরীষতলায় হচ্ছে না। এটা হচ্ছে গোয়ালপাড়ায়। সবার সাথে কথা বলে আমরা প্রেস ব্রিফিং করব। যাতে নগরবাসী এই প্রকল্প বিষয়ে সবকিছু জানতে পারেন।

পরিদর্শনের বিষয়ে উত্তর জেলার সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে সব জানতে পারিনি। প্রকল্প পরিচালক একটি স্কেচ দেখিয়েছেন। কিন্তু রেলের জিএম ছিলেন না। তিনি ঢাকায়। তাই উনার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটির এলাকা ছয় একর। আমরা একটা অংশ আজ ঘুরে দেখেছি। ওই ছয় একরে এখন কী কী আছে, কারা আছেন সেটা পুরোপুরি জানতে হবে। রেলমন্ত্রীর সাথেও কথা বলব আমরা। সব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে উত্তর, দক্ষিণ ও নগর নেতৃবৃন্দ সংবাদমাধ্যমকে জানাবে।

পরিদর্শন বিষয়ে সাংসদ ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ তার ফেসবুকে লেখেন, সিআরবি শিরীষতলা এলাকা ও সাত রাস্তার মোড়ে শতবর্ষী গাছ বিদ্যমান উক্ত স্থানটি প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জায়গা নয় বিধায় শতবর্ষে গাছসমূহের বিনাশের কোনও সম্ভাবনা নেই। কোনও শতবর্ষীয় গাছ কাটা হবে না এবং শিরীষতলায় হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে না। সিআরবি হাসপাতালের নির্ধারিত স্থানের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের উচ্চমহল ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সমন্বয় করে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।

পরিদর্শন বিষয়ে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, সিআরবি এলাকা সিডিএ কর্তৃক হেরিটেজ ঘোষিত হয়েছে। এখানে হাসপাতাল হতে পারে না। রেল মন্ত্রণালয় তারপরও অনেক কিছু গোপন করে হাসপাতাল করতে চেয়েছে। আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যদি সিআরবিতে চট্টগ্রামের মানুষ হাসপাতাল না চায় তাহলে হবে না। মানুষের চেতনা, নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষা করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না।

এদিকে সিআরবিতে হাসপাতাল নিমার্ণের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশের প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই। সুতরাং বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আস্থা রাখুন। চট্টগ্রামে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সদরদফতর সিআরবির একটি জায়গায় সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ এবং পরিবেশ ও বৃক্ষসংরক্ষণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে শীঘ্রই আলোচনা করে এর একটি সমাধান করা হবে।

তিনি আরও লিখেছেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই দৃষ্টিনন্দন সবুজ জায়গায়, পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে এই উন্মুক্ত জায়গায় যেন অবকাঠামো নির্মাণ না হয়, এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের জায়গা আর উন্মুক্ত জায়গা সমূহের স্থান এক নয়, বা একই জায়গায় কিনা, সেটি নিয়ে আলোচনা হবে। একই স্থানে হলে সেটিকে সরানোর প্রয়োজন হবে। কোনোভাবেই উন্মুক্ত জায়গায় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে না।

অন্যদিকে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করে চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্ট করে নগরে কিছু করতে দেওয়া যাবে না। সিআরবি নগরীর ফুসফুস হিসেবে সারাদেশে পরিচিত। এক সময় শহরে অনেক খোলা মাঠ, পুকুর থাকলেও ধীরে ধীরে তা বিনষ্ট হয়ে গেছে। এখন যে কটি জনসাধারণের বিনোদন ও মুক্ত অক্সিজেন নেওয়ার জায়গা রয়েছে সেটা সিআরবি। এছাড়াও সিআরবি চট্টগ্রামের সাস্কৃতিক চর্চার অন্যতম তীর্থস্থান। আমরা হাসপাতাল চাই, তবে সেটা সিআরবিতে নয়। রেলওয়ের অনেক জায়গা আছে, সেখানে করুক। প্রয়োজনে পাহাড়তলীতে রেলওয়ের যে জায়গা আছে সেখানে করুক, তবে সিআরবিতে নয়।

তিনি বলেন, আমার কথা হল, চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কোনো কিছু করার তো দরকার নেই। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমরা আর ফিরে পাব না। রেলওয়ের প্রচুর জায়গা আছে পাহাড়তলিসহ বিভিন্ন স্থানে। আর তারা (রেলওয়ে) যদি দিতে না পারে, তাহলে সিটি করপোরেশনের মোহরাসহ কয়েকটি এলাকায় কিছু জমি আছে। সেখান থেকে দিতে পারব। দুই আড়াই একরের মত, তারা যা চায়।

নগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট  শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, গোয়ালপাড়া কোনো সরকারি জায়গা না। ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা। যে জমি একোয়ার করা হয়েছে সেটা হাসপাতাল কলোনি। যার আসল নাম শহীদ আবদুর রব কলোনি। বেশিরভাগ স্টাফদের বিদায় করে দেওয়া হয়েছে কলোনি থেকে। রেলের বক্তব্যের কোথাও নেই শহীদ আবদুর রব কলোনি একোয়ার করে হাসপাতাল হচ্ছে। তাই কৌশলে গোয়ালপাড়া বলছেন। চ্যালেঞ্জ করছি এটা গোয়ালপাড়া নয়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আবদুর রবের বাবার বাসা। সে বাসা থেকে তিনি যুদ্ধে যান। যুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিতে এখানে বাণিজ্যিক হাসপাতাল হতে পারে না। হাসপাতাল হলে মালিপাড়া, গোয়ালপাড়া, এনায়েত বাজার, বাটালি রোডে মেডিক্যাল বর্জ্যের ভাগাড় হবে। তা হতে দেওয়া হবে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনের পরিবেশ উন্নয়ন ও সুরক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটি মনে করে, রেলওয়ের ওই জমিতে বেসরকারি উদ্যোগে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ হলে তাতে নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যহানি ঘটবে। চট্টগ্রাম রেলওয়ের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধি ও ৫০ সাধারণ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এ হাসপাতালটিকে বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে গড়ে না তুলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের পাঁয়তারা মেনে নেওয়া যায় না।

চসিকের স্থায়ী কমিটি বলেছে, সিআরবির ঐতিহাসিক স্থানের আশেপাশে যেসকল নতুন স্থাপনা করা হয়েছে সেগুলোকে অপসারণ করে পর্যটনবান্ধব করতে হবে। আশেপাশের বস্তি ও কাঁচা ঘরকে স্থানান্তর করতে হবে। বর্তমান যে হাসপাতালটি আছে সেটির ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে, কিন্তু কোনো ধরনের সম্প্রসারণ করা যাবে না। বাণিজ্যিক ও আবাসিক কোনো স্থাপনা করা যাবে না।

নগরীর টাইগার পাসে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পরিবেশ উন্নয়ন ও সুরক্ষা স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, সচিব খালেদ মাহমুদ, কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী, মো. শফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর রুমকী সেনগুপ্ত, ফেরদৌসি আকবর ও নগর পরিকল্পনাবিদ আব্দুল্লাহ আল ওমর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা সব জনপ্রতিনিধি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।

এদিকে সিআরবিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদে প্রস্তাবিত জায়গায় বৃক্ষরোপণ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। গত বুধবার সকালে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ আজিজ, সদস্য কামরুল ইসলাম, চকবাজার থানার সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন প্রমুখ।

এ বিষয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যান্ত্রিক ও কোলাহলপূর্ণ এই শহরের মানুষের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিশ্বাস ফেলার মতো জায়গার খুব অভাব। শতবর্ষী বৃক্ষঘেরা পাহাড়, টিলা ও উপত্যকাঘেরা সিআরবির এই এলাকাটি। তাই এটি জনসাধারণের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। গত কয়েক বছর ধরে পহেলা বৈশাখ ছাড়াও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন হয় সিআরবির এই শিরীষতলায়। এই ছায়াঘেরা পরিবেশ প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে নগরের ভ্রমণপ্রিয় মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার জন্য ছুটে আসে। তাই এলাকাটিকে নগরীর ফুসফুস বলা হয়ে থাকে। এই শহরের নাগরিকদের নির্মল বাতাসে শ্বাস নেওয়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সুস্থ বিনোদনের জন্য অবশিষ্ট সিআরবি এলাকায়ও আজ মুনাফার লালশায় ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে।

তিনি বলেন, শতবর্ষী বৃক্ষসমূহ এবং ব্রিটিশ আমলের তৈরি দালানগুলো ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থেকে সিআরবির শোভা আরও অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্জন, কোলাহলমুক্ত, প্রাকৃতিক নৈসর্গিক এই জায়গাটিতে হাসপাতাল হলে এটি একটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হবে। এখানকার ছোট-বড় বৃক্ষসমূহ কাটা পড়বে। আশেপাশে মেডিকেলের বিষাক্ত বর্জ্যের স্তূ তৈরি হবে, গড়ে উঠবে দোকানপাট। যার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হবে এবং নৈসর্গিক এলাকাটি তার সৌন্দর্য হারাবে। সকালে ও বিকালে হাঁটতে আসা প্রকৃতিপ্রেমী নাগরিকগণও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে।

অনতিবিলম্বে সরকারের এই পরিবেশ বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রস্তাবিত হাসপাতালটি সিআরবি থেকে সরিয়ে কুমিরায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করার জোর দাবি জানান তিনি।