রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

অন্ধকারে ঢিল ছুড়বেন না : খালেদাকে কাদের

| প্রকাশিতঃ ১৩ এপ্রিল ২০১৭ | ৬:২৬ অপরাহ্ন

ঢাকা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফল ও ফলপ্রসূ ভারত সফর জাতির জন্য মর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সফর নিয়ে গতানুগতিক মিথ্যাচার ও অন্তঃসারশূন্য এক বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াসে বিএনপির এ ধরনের অসত্য, বানোয়াট ও দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। পাশাপাশি বিএনপি নেত্রীকে কোনো কিছু না জেনে, না বুঝে অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে মারার অপরাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কাদের বলেন, বাংলাদেসের রাজনীতিতে কতিপয় অর্বাচীন ভারতীয় জুজুকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির অপচেষ্টা চালায়। খালেদা জিয়ার এই নোংরা খেলা নতুন নয়। কিন্তু জনগণ ভারত বিরোধিতার এই ভাঙা রেকর্ড বারবার প্রত্যাখান করেছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ও বিএনপির গাত্রদাহের নিগূঢ় রহস্য আমরা জানি। আইপিইউর মতো মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলন নিয়ে তারা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে। কারণ, এই আয়োজন বিএনপি ও তার মিত্রদের নিরাশ করেছে। এখন একই কায়দায় প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ সফর প্রশ্নবিদ্ধ করতে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য মিথ্যাচার, অজ্ঞতা ও বিকৃত তথ্যে ভরপুর। তার বক্তব্যের কোনো সারমর্ম ছিল না। কতিপয় চটকদার, বায়বীয় ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন, যা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশিত না। তার মন্তব্য ছিল হাস্যকর, উদ্ভট ও স্ববিরোধী। তিনি বলেছেন চুক্তি নাকি গোপনে হয়েছে। আবার বলছেন, দেশ নাকি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। গোপনই যদি হয়ে থাকে, তাহলে দেশ বিক্রির কথা খালেদা জানলেন কীভাবে?

ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো অন্যান্য দেশের সঙ্গে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করতে চাই, একমাত্র ভারতের সঙ্গে চুক্তি হলেই প্রশ্ন উঠবে কেন? এ ধরনের চুক্তি তো নতুন কিছু নয়।

বিএনপির আমলে চীনের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে তাদের সঙ্গে একই চুক্তি হলে প্রশ্ন ওঠে না কেন?

সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের বিষয়ে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া সেনাবাহিনীর ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তা তার অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে। তিনি মিথ্যাচারের মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন। ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমির সঙ্গে বাংলাদেসের আইন মন্ত্রণালয়ের চুক্তির বিষয়ে কাদের বলেন, এ বিষয়ে খালেদার বক্তব্য মূর্খতার নামান্তর।

এরআগে ভারত সফরে গিয়ে খালেদা জিয়া গঙ্গা চুক্তির বিষয় ভুলে গিয়েছিলেন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তার মনোবেদনা আমরা বুঝি। তিনি ও তার দল ক্রমাগত ভুলের কারণে জনগণ থেকে প্রত্যাখাত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তার সংবাদ সম্মেলন ক্রমাগত ব্যর্থতার ভারে ন্যুব্জ এক রাজনৈতিক নেত্রীর অসংলগ্ন প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই না।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে কীভাবে দেশের মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হলো তা তাকে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। অন্যথায় ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে—খালেদার এমন বক্তব্যের বিষয়ে কাদের বলেন, আগে ক্ষমতায় আসুক, তারপর বাতিল।