মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮

বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার ও জিয়াউর রহমানকে স্বীকারের শিক্ষাব্যবস্থার মাঝেই কওমী সনদের স্বীকৃতির গেজেট!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৭, ৩:০৯ অপরাহ্ণ

ঢাকা : কওমী শিক্ষাব্যবস্থায় স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধু, জাতীয় পতাকা-জাতীয় সংগীতে আপত্তির বিষয়গুলো অমীমাংসিত রেখেই কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে আদেশ জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এই আদেশ জারি করা হয়।

কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে সাধারণ শিক্ষার মাস্টার্স সমমান মর্যাদার আদেশ জারি করলেও তাদের চলমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিহাস বিকৃতি সংশোধনের কোনো নির্দেশনা বা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা আদেশে কিছুই বলা হয়নি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের পাঠ্যপুস্তকের শুরুতে জাতীয় পতাকার ছবি ও জাতীয় সংগীত থাকলেও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থায় তা অনুসরণ করা হয়নি।

জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের স্থানে কওমীর বইয়ে দেখা যায় বোর্ডের মহাসচিবের বক্তব্য।

এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে হাইকোর্টের রায় থাকলেও তা মানছে না বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)। তাদের পাঠ্য পুস্তকে জিয়াউর রহমানই ঘোষক।

সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন কওমী মাদ্রাসার বিভিন্ন পর্যায়ের পাঠ্যবই ঘেঁটে এই বিকৃত ইতিহাসের বিষয়টি ধরা পড়ে, যে বই ছাপানোর কাজটিও করছে তারা নিজেরাই।

কওমী মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের মধ্যরাতে ইতিহাসের বৃহত্তম গণহত্যা শুরু হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশবাসী দিশেহারা হয়ে পড়ে।

এমনি এক সময়ে ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণা শুনে বাংলার জনগণ অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রবন্ধে জিয়াকে স্বাধীনতার ‘ঘোষক’ বলা হলেও শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক বা বঙ্গবন্ধু হিসাবেও উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি মুক্তিযুদ্ধে কতজন শহীদ হয়েছেন সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই।

এদিকে বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়, “কওমি মাদ্রাসার বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি) এর সমমান প্রদান করা হল।”

দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার লক্ষ্যে কওমি মাদ্রাসা বোর্ডগুলো কর্তৃক গঠিত মান বাস্তবায়ন কমিটির উপর ‘আস্থাভাজনপূর্বক’ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা শাহ আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছে সরকার।

আদেশে বলা হয়েছে, “এ কমিটি সনদ বিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলে বিচেচিত হবে। এ কমিটি দ্বারা নিবন্ধিত মাদ্রাসাগুলো দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের সমান বিবেচিত হবে।”

এই কমিটির অধীনে ও তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা হবে বলে সরকারি আদেশে বলা হয়েছে।

তবে কমিটি দাওরায়ে হাদিসের সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল ও সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপকমিটি গঠন করতে পারবে।

কমিটির চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলে যে কোনো সংখ্যক সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। তবে আদেশে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা ১৫ জনের বেশি হবে না।