বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

রুদ্ধশ্বাস জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১, ৭:৩০ অপরাহ্ণ


ঢাকা : শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসেছেন মোস্তাফিজ। যেখানে নিউজিল্যান্ডের দরকার ছিল ২০ রান। প্রথম তিন বলে এসেছে ৬ রান। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সমীকরণ টানে ১ বলে ৬ রানের। শেষ বলে কিউই অধিনায়ক লাথাম নিতে পারেন মাত্র ১ রান। এতেই রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দ্বিতীয়বারের মত নিউজিল্যান্ডকে হারালো টাইগাররা। ৪ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ তে লিড নিলো বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ২-০ তে। আগামী রোববার সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ম্যাচে আগের ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। টস জিতে শুরুতে ব্যাট করে নাঈম ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৪১। জবাবে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানে থামে সফরকারী নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ জিতে যায় ৪ রানে।

১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেন রাচিন রবীন্দ্র। তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন সাকিব। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে রাচিনকে বোল্ড করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এরপর নিউজিল্যান্ড ওপেনার টম ব্লান্ডলকে আউট করেছেন মেহেদী। ৬ রান করে স্টাম্পড হন ব্ল্যাক ক্যাপ ওপেনার।

শুরুতে দুই উইকেট হারানোর পর উইল ইয়াং ও টম ল্যাথাম বিপজ্জনক একটি জুটি গড়েন। ২২ রান করা ইয়াংকে আউট করে ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব।

নাসুম আহমেদ তৃতীয় ওভারে বল হাতে নিয়ে পেলেন প্রথম উইকেট। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে ৮ রানে বিদায় করেন নাসুম। ডিপ স্কয়ার লেগে মুশফিকুর রহিম তার ক্যাচ ধরেন। গ্র্যান্ডহোমের বিদায়ের পর ল্যাথামকে সঙ্গ দিতে নামেন আগের ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করা নিকোলাস। এসেই এক চারে শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ থাকতে দেননি মেহেদী। মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ব্যক্তিগত ৬ রানেই নিকোলাসকে ফেরান মেহেদী। উইকেট যাওয়া আসার অধিনায়ক টম লাথাম অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন, তবে বাকিদের ব্যর্থতায় জয়ের খুব কাছে গিয়েও নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৩৭ রানে। এতে ৪ রানের জয় পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লাথাম অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৬৫ রানে। যেখানে ৬টি চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মারেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মেহেদী ও সাকিব। একটি উইকেট শিকার করেন নাসুম।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের জায়গায় সুযোগ পাওয়া লিটন দাস আগের ম্যাচে করেছিলেন ১। এবার আউট হতে বসেছিলেন শূন্য রানে। কোল ম্যাকনকির বলে স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ডানহাতি এই ওপেনার। পরের বলে বেঁচে যান এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদন থেকে। এরপর ২ রান নিয়ে খুলেন রানের খাতা।

নতুন বলে যত দ্রুত সম্ভব রান তোলার চেষ্টা করেন লিটন ও নাঈম। মন্থর উইকেটের কারণে বল থেমে আসায় শুরুতেই সহজাত ব্যাটিংটা করতে পারেনি দুই ওপেনার। তবে রানের চাকা ঠিকই সচল রাখেন লিটন-নাঈম। ১০ম ওভারে এসে প্রথম ছক্কার পায় বাংলাদেশ। স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রকে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মারেন লিটন। ছক্কা মারার এক বল পরেই রবীন্দ্রের বলে সাজঘরে ফিরেন টাইগার এই ওপেনার। ২৯ বলে ৩৩ রান করেন লিটন।

প্রথম উইকেট হারানোর পর আজ ওয়ান ডাউনে নামেন মুশফিক। কিন্তু প্রথম বলেই স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরেন তিনি। রবীন্দ্রর ঝুলিয়ে দেওয়া বলে খেলতে গিয়ে মিস করেন মুশি, তবে ক্রিজে পা ফেরাতে পারেননি। টম ল্যাথাম ভেঙেছেন স্টাম্প। এরপর ক্রিজে এসেই তেড়েফুঁড়ে খেলতে থাকে সাকিব। ১১তম ওভারে ম্যাকনকিকে দুটি চার মারলেও শেষ বলে তাকে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন সাকিব। ৭ বলে ১২ রান করে আউট হলেন তিনি।

৩ উইকেট হারানোর পর হাত খুলে মারা শুরু করেন নাঈম। কিন্তু সেই রবীন্দ্রের বলেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হল তাকে। চতুর্থ বাউন্ডারি মারতে গিয়ে লং অনে ধরে পড়েন ব্লান্ডেলের হাতে। ফেরার আগে ৩৯ বলে ৩৯ রান তুলেন তিনি। এরপর মাত্র ৩ বল টিকল আফিফের ইনিংস। তিন রান করে এই ইনিংসে এজাজ প্যাটেলকে প্রথম উইকেটের স্বাদ দেন এই বাঁহাতি।

শেষদিকে সোহানকে নিয়ে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। ইনিংসের শেষ বলে হামিশ বেনেটকে হুক করে ছক্কা মারার চেষ্টায় থামেন সোহান। ৯ বলে এই কিপার-ব্যাটসম্যান করেন ১৩ রান। ৩২ বলে ৫ চারে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। এতে ১৪১ রানের লড়াকু সংগ্রহ তুলেছে বাংলাদেশ।

কিউইদের হয়ে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রাচিন রবীন্দ্র। একটি করে উইকেট নেন হাশিম বেনেট, আজাজ প্যাটেল ও কোল ম্যাকহোননি। এক ওভার বল করে কোনো উইকেট পাননি অভিষিক্ত বেন সিয়ার্স।

এ ম্যাচটি বিশেষ ক্যান্সার যোদ্ধাদের উৎসর্গ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্টের (ব্যানক্যাট) প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ দল:

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাঈম, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ড দল:

রচিন রবীন্দ্র, টম ব্লান্ডেল, উইল ইয়াং, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), হেনরি নিকোলস, কোল ম্যাকনকি, ডগ ব্রেসওয়েল, এজাজ প্যাটেল, হামিশ বেনেট ও বেন সিয়ার্স।