চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে বাবার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েও দুই মাস ধরে নিয়মিত অফিস করছেন আদালতের এক কর্মকর্তা। ওই আসামি হচ্ছেন চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালতের হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল।
অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়েও দীর্ঘ দুই মাস ধরে নিয়মিত অফিস চালিয়ে যাচ্ছেন আদালতের হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল। গ্রেফতার এড়িয়ে চলা এই কর্মকর্তা মামলা প্রত্যাহার করতে নিয়মিত হুমকি ধমকি দিচ্ছেন।
মামলার বাদী হাজী গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি আমার ছেলে ইসমাইলের বিরুদ্ধে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী একটি মামলা করেছি। মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন। আজ পর্যন্ত সে আদালতে আত্মসমর্পন করেনি এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করেনি। সে আমাকে হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য।’
এ অবস্থায় মোহাম্মদ ইসমাইলকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সংশয়ে রয়েছেন মামলার বাদী হাজী গোলাম মোহাম্মদ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারী হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন বাবা হাজি গোলাম মোহাম্মদ। এ অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইসমাইলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইসমাইল ও তার স্ত্রী কিছু সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তার বাবা গোলাম মোহাম্মদের উপর চাপ প্রয়োগ করছেন। রাজী না হওয়ায় ইসমাইল তার স্ত্রীকে বাদী করে গোলাম মোহাম্মদের বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী মিছ মামলা দায়ের করেন গোলাম মোহাম্মদ। এ ঘটনায় ইসমাইল ক্ষীপ্ত হয়ে তার পিতা গোলাম মোহাম্মদকে মারধরসহ হত্যার চেষ্টা করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী রাত ৮টার দিকে।
আদালতের একজন বেঞ্চ সহকারী জানিয়েছেন, মোহাম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটির নাম্বার হচ্ছে- সিআর ৪২/২০১৭ (চন্দনাইশ), ধারা ৩২৩/৩২৪/৩০৭/৫০৬(২)। মামলা দায়েরের পরপর আসামি ইসমাইল মামলার কপি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের কপি সংগ্রহ করেছেন এবং নিয়মিত মামলার খোঁজ খবর নেন।
মামলার বাদী হাজী গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘পরিবার নিয়ে কোতোয়ালী থানাধীন কোরবানীগঞ্জের হাবিব ম্যানশনে থাকেন ইসমাইল। আদালত পাড়ায় তদবির বানিজ্য করে সে চন্দনাইশের নিজ গ্রাম মুরাদাবাদ ও পটিয়া পৌর সদরে জায়গা-জমি কিনেছে।’
মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার বিষয়টি অবগত জানিয়ে মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আবু তাহেরের সাথে আমার বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় সে বাবাকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। আমার বাবা আমাকে বলেছে, তুমি চিন্তা করিও না। মামলা আমি প্রত্যাহার করে ফেলবো।’