বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরাম’ এর ব্যানারে স্বেচ্ছাচারিতা!

প্রকাশিতঃ সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ

জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অধিকার আদায় ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০২০ সালের জুলাইয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরাম। অভিভাবকদের অধিকার আদায় সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে সংগঠনটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে বেশ অল্প সময়েই। তবে অধিকার আদায়ে গঠিত সংগঠনটি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে ফোরামের বর্তমান প্রেসিডেন্ট একেএম আশরাফুল হক একের পর এক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অবৈধ কর্মকা- পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

অভিযোগ আছে, ফোরামের নির্বাহী কমিটি ও অন্যান্য সদস্যগণ সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাইলে তাতে অজানা কারণে বাধ সাধতেন আশরাফুল হক। অসহযোগিতা ও অসদাচারণের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি নির্বাহী কমিটির মতামতের তোয়াক্কা না করে নিয়ম-বহির্ভূত ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের মাধ্যমে অভিভাবকদের সদস্যপদ বাতিল, স্থগিত করতেন। শুধু তাই নয়, এনিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে তাদের বিরুদ্ধেও একই কাজ করতেন তিনি।

এছাড়া ফোরামের ব্যানারে নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে চলতি বছরেই আশরাফুল হক ‘স্টেপিং স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ নামে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিজেকে সেই স্কুলের চেয়ারম্যান ও স্কুল উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

জানা গেছে, নিজের প্রতিষ্ঠিত স্কুলটিকে তিনি প্যারেন্টস ফোরামের স্কুল বলে দাবি করে আসছেন। অথচ তার এই কর্মকাণ্ডে ফোরাম-সংশ্লিষ্ট কোনো অভিভাবক জড়িত নেই। স্কুলটির উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই তার আত্মীয়স্বজন।
অভিযোগ, আশরাফুল হক ফোরামের প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে স্কুলটিকে অভিভাবকদের মানবিক স্কুল বলে থাকলেও স্কুলটির মাধ্যমে নিজের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য হাসিল করে আসছেন এবং ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোরামের আইডি ব্যবহার করেই স্কুলের প্রচার-প্রচারণা করে আসছেন। ফোরামের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মতে আদর্শিকভাবে একজন ব্যক্তি একই সাথে স্কুল উদ্যোক্তা এবং প্যারেন্টসদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না।

দীর্ঘদিন যাবৎ এমন অনিয়মের বিষয়ে জানতে ফোরামের নির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের অনুরোধ করেও আসলেও প্রেসিডেন্ট তা কানে তোলেননি। সর্বশেষ এডমিনের ক্ষমতাবলে নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যের মতামত জানানোর কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করে নিজের ইচ্ছেমতো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুধু তাই নয়, ফোরামকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার জন্য গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও সরকারি নিবন্ধনের আহ্বান করলেও এতে আশরাফুল হক অনীহা প্রকাশ করে আসছিলেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এদিকে, এমন কর্মকাণ্ডে আলোচনায় আসান পর নতুন করে উঠে এসেছে আশরাফুল হকের পূর্বের কীর্তি। জানা যায়, পূর্বের কর্মস্থল বেসরকারি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় এ কে এম আশরাফুল হক যৌন হয়রানির অভিযোগে বনানী থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে হাজতবাসও করেছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা রিফাত জাহান তারিনের দায়ের করা এক মামলায় গত বছরের ২৪ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ সংক্রান্ত সকল তথ্যপ্রমাণ একুশে পত্রিকার কাছে সংরক্ষিত আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফোরামের এক নারী অভিভাবক একুশে পত্রিকাকে বলেন, যার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি অভিযোগ এবং এই বিষয়ে মামলা চলমান আছে তার কাছে আমরাও নিজেদের নিরাপদ মনে করছি না। একজন নারী হিসেবে এটা আমার কাছে বিব্রতকর। আর আমার মত অনেক অভিভাবকই এমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।