ফিলিস্তিনের নেতা মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে ইসরাইল-ফিলিস্তিনের দীর্ঘকালের বিরোধ নিরসনের আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি উভয় জাতিই একটি শান্তি চুক্তি চায়। এতদিন একে যতটা কঠিন হিসেবে দেখা হয়েছে, ততটা কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন না।
বুধবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও মাহমুদ আব্বাসের মধ্যে এই বৈঠক হয়। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটাই তার সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের প্রথম সাক্ষাৎ। বৈঠকের পর দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা এটা করবই।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে জানান ১৯৬৭ পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্র সমাধানের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্তি চুক্তি চান তারা। এখন, মি. প্রেসিডেন্ট, আপনাকে নিয়ে আমাদের আশা।
তবে দুই রাষ্ট্র সমাধানের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, দুই রাষ্ট্র ও এক রাষ্ট্র দুটি বিষয়ই দেখছি। তবে আমি এক রাষ্ট্রকেই পছন্দ করি, যাতে উভয়পক্ষের সায় আছে।
ইসরাইলের পক্ষে ট্রাম্পের বক্তব্যের কারণে প্রথম দিকে উদ্বেগে পড়েন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। তবে ট্রাম্পের একজন দূত তাদের আশ্বস্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আন্তরিকভাবে শান্তি চুক্তি চান এবং তা দৃশ্যত গত মার্চে আরব লীগ যে পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিল তার ভিত্তিতে।
২০০২ সালে আরব শান্তি উদ্যোগ নামে যে শান্তি প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তাতেই গত মার্চের সম্মেলনে সমর্থন জানায় আরব দেশগুলো। ওই প্রস্তাবে আরব-ইসরাইল ‘স্বাভাবিক সম্পর্কের’ বিনিময়ে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইলের দখলকৃত ফিলিস্তিনের পূর্ব-জেরুজালেম, গাজা উপত্যকা, পশ্চিমতীর এবং গোলান মালভূমি থেকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান জানানো হয়।
ট্রাম্প বুধবার বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দুই জাতিই সহিংসতায় উস্কানি বন্ধের পথ না পেলে সেখানে স্থায়ী শান্তি আসবে না।
ইসরাইলের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার হোয়াইট হাইজে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, ২০১৪ সালের পর আবার ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সব পক্ষের মধ্যে সদিচ্ছা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।