বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮

পদে পদে যেখানে অনিয়ম, দুর্নীতি

প্রকাশিতঃ সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

  • ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স পেতে হয়রানির শিকার
  • দালালের হাতেই লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা
  • উৎসে কর ছয় গুণ, দোকানের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’
  • চসিকের রাজস্ব বিভাগে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েও নির্বিকার দুদক

মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) তিনি কোনো চাকরি করেন না। তারপরও তার হাতে থাকে লাইসেন্সের আবেদন ফরম, লাইসেন্স নবায়ন ফি-র বই, জন্মনিবন্ধন বইসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র। এ ছাড়া সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফিও নিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) চসিকের কর অঞ্চল-৫-এ গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ সময় পরিচয় গোপন রেখে আরিফ নামের ওই যুবককে প্রতিবেদক বলেন, ‘একটা মুদি দোকান দিতে চাই। ট্র্রেড লাইসেন্স করতে হবে।’ এ কথা শুনে আরিফ বলেন, ‘কোন অঞ্চল, কত নম্বর ওয়ার্ড? কাগজপত্র দিন।’ এক বন্ধু কাগজপত্র নিয়ে আসছেন বলে জানালে আরিফ বলেন, ‘অফিসের কারও সাথে আপনার কাজ নেই। সব আমি করব। টাকা লাগবে ৭ হাজার। সময় লাগবে মাত্র দুইদিন। খরচপাতি দিয়া যান। কাজ হয়ে যাবে।’

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেল, বিড়ম্বনা এড়াতে অনেক নতুন ব্যবসায়ী অবৈধ পন্থায় সনদ নিচ্ছেন দালাল চক্রের মাধ্যমে। দিচ্ছেন নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা। দেলোয়ার হোসেন। পেশায় তিনি গ্রিল মিস্ত্রি। তিনি ৭ বছর অন্যের দোকানে কাজ করেছেন। এখন নিজেই দোকান দিতে চান। তাই ট্রেড লাইসেন্সের জন্য এসেছেন চসিকের রাজস্ব সার্কেল-৫-এ। তিনি বলেন, ‘মালিকের কাজ ছেড়ে দিয়েছি। এখন নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান করব। লাইসেন্স নেয়ার জন্য এসেছি। এখানকার আরিফ নামে এক লোকের সাথে আমার কথা হয়েছে। তাকে ৬ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি কথা দিয়েছেন, দুইদিনের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দিতে পারবেন।’ লাইসেন্সের ফি কত টাকা, তা জানেন কি না জানতে চাইলে দেলোয়ার বলেন, ‘সরকারি খরচ কত তা আমি জানি না। তবে লাইসেন্সটা আজ-কালকের মধ্যেই লাগবে।’

একই অফিসে বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে দেখা মেলে রহিমউল্লাহ নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি তার ভোগান্তির কথা জানান। রহিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি এ অফিসে এসেছি ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স করতে। এখানকার চিত্র দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। এখনো ব্যবসা শুরু করিনি। অথচ তার আগেই ভোগান্তির শেষ নেই। সব কাগজপত্র আনলেও বলা হয়, ঠিক নেই।’

রহিমউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘যে কাগজপত্র নিয়ে সার্কেল-৫ অফিসে দৌঁড়ালাম, সেই একই কাগজপত্র কিন্তু দালালকে দেয়ার পর দুইদিনে কাজ হয়ে গেল। টাকা লাগার কথা সর্বোচ্চ চার হাজার। দালালকে দিতে হলো ৭ হাজার টাকা।’ বলেন রহিমউল্লাহ।

এভাবে ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়ে ব্যবসা শুরুর আগেই উদ্যোক্তারা হয়রানি, ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। লাইসেন্স নবায়ন করতেও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। মূলত ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে লাইসেন্স ফি নির্ধারিত হয়। একটি লাইসেন্স পেতে তিন থেকে সাত কর্মদিবস লাগার কথা থাকলেও তার চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। হয়রানি এড়াতে অনেকেই অবৈধ পন্থায় ট্রেড লাইসেন্স নিচ্ছেন দালাল চক্রের মাধ্যমে। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

নগরের লালখান বাজার ওয়ার্ড এলাকার উদ্যোক্তা আবদুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কোনো উদ্যোক্তার নতুন একটি ট্রেড লাইসেন্স পেতে তিন থেকে সাত কর্মদিবস লাগার কথা। চসিকের রাজস্ব সার্কেল-৫-এ কাগজপত্র জমা দিয়েছি ৯দিন পার হলো। কর্মকর্তারা বলছেন, সবকিছু হয়ে গেছে। শুধু সিআরও’র (প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা) সই হয়নি। শুধু দৌড়ঝাঁপ করছি।’

ট্রেড লাইসেন্স পেতে ৮দিন আগে রাজস্ব সার্কেল-৫ এ কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বাকলিয়ার বাসিন্দা মেহরাজ সুলতান। সার্কেল-৫-এ সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে গত বুধবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হয় মেহরাজের। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কী ব্যবসা করব। ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার আগে এ টেবিল ওই টেবিল ঘুরতে ঘুরতে কাহিল। টাকা-পয়সাও খরচ করলাম। ৮দিন পরেও লাইসেন্স হাতে পাইনি।’

সুলতান কাগজপত্র যার দপ্তরে দিয়েছেন তার অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন পরিদর্শক ধ্রুবদাশ। বিলম্বের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ধ্রুব দাশ বলেন, ‘কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে ট্রেড লাইসেন্স পেতে দেরির কোন কারণ নেই। উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীর কাগজপত্র পাওয়ার পর সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতনদের কাছে ফাইল পাঠিয়ে দিই। সেখান থেকে সই হয়ে আসার পর লাইসেন্স দিতে পারি। হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়।’

নাম প্রকাশ না করে সার্কেল-৫ অফিসের এক কর্মচারী বলেন, ‘এখানে যারা চাকরি করেন না, তারাই বড় চাকরিজীবী। কারণ দালালদের মাধ্যমে ঘুষ নেন কর্মকর্তারা।’ প্রশ্ন রেখে সার্কেল-৫ এর একজন কর কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রাহকরা দালালের কাছে কেন যায়? সব ব্যবস্থা তো আছে। গ্রাহক সব কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি অফিসে আসবে। তারপর সবকিছু ঠিকঠাক করে সরকারি যে ফি আসে তা জমা দেবে। অফিসের বাইরের কারও কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নাই।’

জানা গেছে, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, নবায়ন এবং হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়ার জন্য নগরে চসিকের ৮টি সার্কেল অফিস রয়েছে। অভিযোগ, অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সময়মতো অফিসে আসেন না। মাঠ ভিজিটের নামে দিনের বেশিরভাগ সময় তারা থাকেন বাইরে। বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে এ প্রতিবেদক যান চসিকের রাজস্ব সার্কেল-১-এ। এ সময় নিজ দপ্তরে দেখা যায়নি উপ কর কর্মকর্তা প্রবীর কুমার, নুরুল ইসলাম ও রাশেদুর রহমানকে। পরে দপ্তরটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমদ সরওয়ার চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রবীর কুমার ছুটিতে দেশের বাইরে আছেন। দাপ্তরিক কাজে উপ কর কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম ও রাশেদুর রহমান গেছেন মাঠে। এখানকার প্রায় কর্মকর্তা-কর্মচারী মাঠ ভিজিট শেষ করে দুপুর দুইটার দিকে অফিসে ফিরে আসেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে মহিউদ্দিন আহমদ সরওয়ার চৌধুরী বলেন, ‘আমার দপ্তর থেকে ট্রেড লাইসেন্স ও নবায়ন অতি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়। কাউকে হয়রানি করা হয় না। দিনে ২৫ থেকে ৩০টি নতুন লাইসেন্স ইস্যু করা হচ্ছে। ২০১৯-২০০০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ২০ লাখ। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বেড়ে হয়েছে ২০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।’ তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৯-২০০০ অর্থবছরে করোনার কারণে কয়েক মাস দোকানপাট বন্ধ থাকায় ট্রেড লাইসেন্স বাবদ তেমন আয় হয়নি চসিকের। এছাড়া একই সময়ে গৃহকর আদায় করতেও মাঠে যাননি আদায়কারীরা। যার কারণে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তুলনামূলক বেশি অর্থ আদায় হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি ঠিকই রয়ে গেছে।

জানা গেছে, লাইসেন্স পেতে ভোগান্তির পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য আরেক বোঝার নাম উৎস কর। জানা গেছে, ব্যবসার ধরন অনুযায়ী সর্বনি¤œ ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০০ টাকা। এরসঙ্গে তিন হাজার টাকা উৎসে কর পরিশোধ করতে হয় লাইসেন্স গ্রহীতাকে। যা সর্বনি¤œ লাইসেন্স ফি’র ছয় গুণ। চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘উৎস করের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। এখনও উত্তর পাইনি।’ স্থানীয় সরকার বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়- ‘উৎসে কর অধিক হওয়ায় ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহের রাজস্ব আয় ব্যাপক হারে হ্রাস পাচ্ছে। সুতরাং ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ফি’র ওপর যৌক্তিকভাবে শতকরা হারে উৎসে কর ধার্য করা প্রয়োজন।’

চসিক সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে (২০২০-২০২১) ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৪২টি। বিপরীতে চলতি অর্থবছরে (২০২১-২০২২) গত নভেম্বর পর্যন্ত (পাঁচ মাসে) নতুন লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে ৫ হাজার ৯১৯টি। একই সময়ে নবায়ন হয়েছে ৫৭ হাজার ৪৪৫টি। এ সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৮ টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন অর্থবছরের শুরুতে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের হার বৃদ্ধি পায়। তবে অতিরিক্ত উৎসে করের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করতে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় তাদের। অনেক সময় অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়। এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী ট্রেড লাইসেন্স নিতে ও নবায়নে আগ্রহী হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করে চসিকের রাজস্ব শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি যে হয়, এ কথা আমি অস্বীকার করব না। তবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে চসিকের চেষ্টার ত্রুটি নেই।’

চসিকের রাজস্ব বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম নগরে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার। বিভিন্ন বিপণিবিতানে প্রায় ৬০টি ব্যবসায়ী সমিতি আছে। চসিকের কর কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত নতুন ট্রেড লাইসেন্স নিতে হলে সার্কেল অফিস থেকে একটি ফরম নিতে হয়। তা পূরণ করে সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে জমা দিতে হয়। লাইসেন্স পরিদর্শক যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা অনুমোদন দেন। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই-তিন দিন সময় লাগে।

নগরের আছাদগঞ্জের শুটকি ব্যবসায়ী মো. সোহেলের অভিযোগ করে বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শিল্পমালিকদের ওপর হোল্ডিং ট্যাক্স চাপানো হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে শিল্পকারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার নতুন শিল্পকারখানায় গ্যাস-সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। সার্বিকভাবে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় শিল্পকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

এদিকে ব্যবসা শুরুর আগে একজন ব্যবসায়ীর ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা করার প্রাথমিক সনদ পেতে হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার কথাও সভা-সেমিনারে বলে আসছেন ব্যবসায়ীরা। হয়রানি ছাড়া ব্যবসায়ীদের অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স সেবা দিতে ২০১৮ সালে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল চসিক। কিন্তু আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও চসিক এখনো অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স সেবা দেওয়া শুরু করতে পারেনি।

অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স সেবা দিতে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘ইজি অব ডুয়িং বিজনেস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছর মার্চ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সেবা বিডার ওয়েবসাইটে চলে আসবে।’ ট্রেড লাইসেন্স সেবা অনলাইনে নেয়া প্রসঙ্গে সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স নিতে সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি দিতে হয়। কিন্তু এই ফির সঙ্গে আরও তিন হাজার টাকা বাড়তি না দিলে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায় না। লাইসেন্স নিয়ে এ ভোগান্তি দূর করতে বিডা কাজ করে যাচ্ছে।’

চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও অনলাইনে ব্যবসার সনদ বা ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া শুরু না করার কারণ জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর বিষয়টি এখনো অনলাইন অপারেশনে যায়নি। তবে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দ্রুততার সাথে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়ন করা হচ্ছে। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে এক- দুই দিনের মধ্যে নবায়ন করা হচ্ছে। ৪-৫ দিনের মধ্যে নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হচ্ছে। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু করতে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়।’

এদিকে ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল সকালে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করতে দুদকের একটি দল আন্দরকিল্লার নগর ভবনে চসিকের প্রধান রাজস্ব কার্যালয়ে যায়। তারা সুনির্দিষ্ট বেশ কয়েকটি অভিযোগ নিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নথিপত্র যাচাই বাছাই করেন। এরপর বেলা ১২টার দিকে দুদক কর্মকর্তারা নগরের নিউমার্কেট এলাকার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব সার্কেল-৪ এর কার্যালয়ে অভিযান শুরু করেন। দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাওয়া ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তারা।

পরিদর্শন শেষে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক লুৎফুল কবীর চন্দন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অধিক টাকা আদায় এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরিদর্শকেরা নগদ টাকা নিচ্ছেন। সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ক্ষেত্র বিশেষে দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকাও নেওয়া হচ্ছে।’ ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠানোর পরে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু পরে দুদকের আর কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক লুৎফুল কবীর চন্দন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু এবং হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় নিয়ে চসিকের বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতি ও অনিয়ম পেয়েছি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছিলাম। সবকিছু সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণ হয়। বিষয়টির ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার কোন নির্দেশনা পাইনি।’